দলিত-মুসলিম ঐক্যের কান্ডারি: যোগেন্দ্রনাথ মন্ডল- (প্রথম পর্ব)

0
840

© পবিত্র রায়

প্রথমেই দু’জন বিখ্যাত ব্যক্তির উক্তি দিয়েই লেখাটা শুরু করব। উক্তি দুটি এরূপ,:”যোগেন্দ্রনাথ মন্ডল তপশীলি জাতি বর্গের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন,” বলেছিলেন তৎকালীন তপশীলি জাতি ফেডারেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট কামিনী প্রসন্ন মজুমদার এবং যুগ্ম সম্পাদক রমেশ চন্দ্র মন্ডল ।

2) “পূর্ববঙ্গের নমঃশূদ্র সমাজের পূর্ব ইতিহাস যা’ই হোক তাঁরা ক্ষত্রিয় সদৃশ বীরের জাতি,”-দীনেশচন্দ্র সিংহ (ইনি কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের রিডার ছিলেন, বর্তমানে প্রয়াত)।এ প্রসঙ্গে যোগেন বাবুরও একটা উক্তি সরবরাহ করাটা বোধকরি যুক্তিযুক্তই হবে।পূর্ব পাকিস্তান থেকে পালিয়ে আসার পর উক্তিটি করেছিলেন। উক্তিটি এরূপ:-“পাকিস্তানে হিন্দুদের বসবাস করার কোনও সুযোগ নেই। ওখানে থাকতে হলে হিন্দুদের হয় মুসলমান হয়ে যেতে হবে, নয়তো অন্ধকারে বিলীন হয়ে যেতে হবে।”!
যোগেন্দ্রনাথ মন্ডল:-
জন্ম: ২৯ জানুয়ারি,১৯০৪। স্থান: মৈস্তারকান্দি গ্রাম, বরিশাল ।শিক্ষা:১৯২৪’এ ম্যাট্রিকুলেশন পাশ।
১৯২৯’এ গণিত ও সংস্কৃতে বি এ পাশ।
রাজনীতি: ১৯৩৭’এ সক্রিয় রাজনীতিতে । মৃত্যু:১৯৬৮’তে পরলোকগমণ ।
কর্মকাণ্ড
১৯৪৬’এর অক্টোবর মাসে নোয়াখালীর তপশীলি সহ হিন্দুদের শতকরা ৯৫জন অত্যাচারিত হয়ে ও প্রাণের ভয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করতে বাধ্য হয়েছিলেন। হিন্দুদের মা,বোন,স্ত্রী, কন্যারা সতীত্ব হারিয়েছিল-খুন, লুটপাট ও গৃহদাহন হয়েছিল নির্বিচারে। ত্রিপুরাতেও একই ঘটনা সমান ভাবে ঘটেছিল।যোগেন মণ্ডল বিমানে এক চক্কর নোয়াখালী ও ত্রিপুরায় ঘুরে এসে অক্টোবর মাসের ২৫ তারিখে বিখ‍্যাত উবাচ প্রদান করে বললেন, “ওই দাঙ্গায় তপশীলিদের একজন মানুষও নিহত বা আহত হয়নি” (স্টেটস ম‍্যান ,২৫-১০-৪৬)।যোগেন বাবু সত্য বলেছিলেন কি?কেমন মনে করেন যোগেন বাবুর ভক্তগণ ? চরম বিপদের সময়ও এই মানুষটা হিন্দুদের মধ্যে উঁচু-নীচু বলে বিভেদ সৃষ্টি করে চলেছে!হিন্দুদের মধ্যে যত বিভেদই থাকুক না কেন, ঐ সময়ে দরকার ছিল একত্রিত হয়ে প্রতিরোধ করা, বিভেদ না হয় পরেই দেখা যেত। আর তেমনটা হলে যত কম সংখ্যক হিন্দুই থাকুক না কেন,মুসলমানরা একতরফা ভাবে হিন্দু নিধন করতে পারত না।

যোগেন হিন্দুদের মধ্যে বিভেদ রেখে হিন্দু হত্যাকরণে মুসলমানদের সুবিধা করে দিয়েছে বারে বারে। নোয়াখালীর উঁচু বর্ণের মানুষ খুন হলে এই অসভ্যটার চোখে সেটায় কোনও দোষ
নেই। যোগেন ভক্তগণ একটা কথার জবাব দেবেন কি? কথাটা হলো নোয়াখালীতে যদি সত্যিই নিম্নবর্গীয়রা অত্যাচারিত নাই হয়ে থাকে, তাহলে তাঁরা নোয়াখালী ত্যাগ করল কেন? যোগেনীয় ভাষায় নোয়াখালীতে নিম্নবর্গীয়রা তো মুসলমানদ্বারা জামাই আদরে ছিল, তাই না!
০৫/০১১/১৯৪৬ তারিখে দিল্লিতে এই মহামহিম ব্যাক্তিটি বললেন, ‘তপশীলি জাতি হিন্দুদের আওতায় থেকে ঘৃণিত জীবন যাপন করার চেয়ে মুসলমান অথবা অন্য কোনো জাতির আওতায়
স্বাধীন ও সম্মানের সাথে বাস করতে বেশি পসন্দ করে। উদ্ভট কথা নয় কি? অন্য কোনো জাতির আওতায় থেকে স্বাধীনতা ও সম্মানের সাথে বাস করার অর্থ হয় “কাঁঠালের আমসত্ত্ব ” জাতীয় ধারণা। মূর্তিমান বুদ্ধিমানই বটে!

১৪ জুন, ১৯৪৭-যোগেনের ‘জাগরণ’ পত্রিকা লিখল, ” যুগ যুগ ব্যাপী হিন্দু আধিপত্য থেকে ভারতের কোটি কোটি মুসলমানের মুক্তি লাভের সংবাদ বাস্তবিকই আনন্দপ্রদ। নিশ্চিতরূপে ‘মুসলমান ভারত’ তাদের পরিত্রাতা মহান কায়েদ -ই-আযম-এর কৃতিত্ব চিরদিন কৃতজ্ঞ ও বিস্ময়- বিমুগ্ধ চিত্তে স্মরণ করবে। “যোগেনের মুসলিম পদলেহন প্রক্রিয়া সত্যিই প্রশংসিত হওয়ার যোগ্য, নয় কি ? কোটি কোটি মুসলমান যুগ যুগ ধরে হিন্দুদের কাছে নিপীড়িত, যোগেইন‍্যার এইমত তথ্যসূত্র কি? তখনও ইংরেজ শাসন চলছে, তার আগে ছিল মুসলিম শাসন, মুসলিমরাই নিপীড়ন করেছে হিন্দুদের, সেকথার প্রমাণ দেয় মুসলমানদের দ্বারা লিখিত ইতিহাসগুলি। উদোর পিন্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপালো এই প্রতারকটা। কি, যোগেন ভক্তগণ, কেমন লাগছে? আরও দেব এবং খুবই ভালোভাবেই দেব।

সংবিধান রচনার জন্য পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান ৭ই মার্চ, ১৯৪৭’এ পাকিস্তানের সংবিধান পরিষদে একটি প্রস্তাব আনেন, যেথা বলা হয়, ‛ ইসলামে বর্ণিত গণতন্ত্র, স্বাধীনতা, সাম্য, সহিষ্ণুতা ও সামাজিক ন্যায়বিচার-এর ভিত্তিতেই পাকিস্তানের সংবিধান রচিত হবে।’ অর্থাৎ ওই দেশে ইসলামী আইন মেনেই অন্য জনজাতিকে বসবাস করতে হবে। ওই প্রস্তাবের আইনি বৈধতা দিয়েছিলেন তৎকালীন আইনমন্ত্রী যোগেন্দ্রনাথ মন্ডল।

২৪.০৩.১৯৪৮-ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে তৎকালীন গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ্ ভাষণ দিতে উঠে বলেন, ‘প্রিয় ছাত্রবৃন্দ, ইসলাম ধর্মের জন্য আমি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা’-এই কথাটার বৈধতা দেয়ার দায়িত্ব ছিলো যোগেন্দ্রনাথ মন্ডলের স্কন্ধে।

মুসলিম লীগের সুবিধা করে দেওয়ার জন্য শ্যামা-হক মন্ত্রীসভার ওপর অনাস্থা প্রস্তাব উত্থাপনকারীদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন যোগেন্দ্রনাথ মন্ডল। যোগেন্দ্রনাথ মন্ডলের রাজনৈতিক অবিমিশ্রকারিতা দেখে বাবা সাহেব আম্বেদকর সখেদ উক্তি করেছিলেন, ‘তপশীলিদের এটা অভ্যেস হয়ে দাঁড়িয়েছে যে তাঁরা হিন্দুদের (বর্ণ) নাপসন্দ করেন বলেই মুসলমানদের বন্ধু বলে মনে করেন, এই চিন্তাধারা ভূল।’ বাবা সাহেব ইসলাম নিয়ে খুব সম্ভবত ভালোভাবে প্রথম পড়াশোনা করা ব্যাক্তি। তিনি ইসলামের স্বরূপ বুঝেছিলেন। আর যোগেন? ইসলাম বিষয়ে কিছুই জানত না, শুধুই মুসলমানদের চামচাগিরি করে বেড়াত। বাবা সাহেবের কথাটা যে কতটা সত্য, দেশ ভাগের পরেই সেটা বুঝা গেল । সচেতন বর্ণ হিন্দুরা বেশীর ভাগই স্বাধীনতার পরপরই চলে এলো ভারতে। যোগেইন‍্যার মুখের দিকে তাকিয়ে থেকে গেল তারই স্বজাতিয় তপশীলিরা।

মুসলমানদের অত্যাচার ধেয়ে এলো তাদের বন্ধু ভাবা তপশীলিদের ওপর, শুরু হলো ধর্ষণ, দাহন অপহরণ, জবর দখল, হত্যা, বিতাড়ন- যে ধারা আজও চলছে সমানতালে।
যোগেইন‍্যার চ্যালাগোরে কইত‍্যাছি, এইখানে আইস‍্যা যোগেইন‍্যার হইয়া ওকালতি না কইরা যোগেইন‍্যার দর্শন মাইন‍্যা বর্ণ হিন্দুগোরে ত্যাগ কইরা ওই দ্যাশের মোছলমানগোরে বন্ধু কইয়াই তো আরামছে থাইকতে পাইতেন, আইছেন ক্যান?

বাবা সাহেবের আরও একটা উক্তি শুনবেন? শুনুন, ‘ মুসলমানদের কাছে হিন্দু হলো কাফের। এই কাফেররা সম্মানের যোগ্য নয়, জন্মগতভাবে সে হীন, সম্মানজনক কোনও অবস্থানই নেই তার ।’ যোগেন কি ইসলাম সম্পর্কে বাবা সাহেবের মূল্যায়ন জানতো? না, জানতো না। জানার চেষ্টা ও করেনি। আর করবেই বা কেন? নমঃশূদ্র শ্রেণীর প্রথম দিককার গুটিকয়েক গ্রাজুয়েট একজন, তাঁর তো সব জ্ঞানই কন্ঠস্থ,নতুন করে আর জানার কি ই বা থাকে!

১৯৪৩ সাল। মন্বন্তর শুরু হলো।কলকাতার রাজপথে ভাত-রুটি নয়, ফ্যান চেয়ে ভিক্ষা শুরু হলো। গভর্নর হারবার্ট অযৌক্তিক ভাবে খাদ্য সংগ্রহের নির্দেশ দিলে প্রিমিয়ার ফজলুল হক সেই নির্দেশ অমান্য করায় ফজলুল হক সরকারের পতন ঘটে। সেসময় মুসলিম লীগ কোনও ভাবেই বংলার শাসন ক্ষমতায় আসীন হওয়ার অবস্থায় ছিল না। একুশ জন তপশীলি সদস্যসহ যোগেন মুসলিম লীগকে সমর্থন জানালে নাজিমুদ্দিন মন্ত্রীসভা গঠিত হয়, যে মন্ত্রীসভায় তিনটি মন্ত্রীপদ
ছিল তপশীলিদের।ননাজিমুদ্দিন জে জে ইস্পাহানিকে খাদ্য সংগ্রহের বরাত দিলে অন্যায় ভাবে খাদ্য মজুত করে ইস্পাহানি বিশাল অঙ্কের অর্থ উপার্জন করলো, কিন্তু খাদ্যাভাব উঠল চরমে।রাস্তা ঘাটে মৃতদেহ পড়ে থাকতে লাগল শিয়াল-কুকুরের মতো। মুসলমান সাম্প্রদায়িকতা বাড়তে থাকলো হু হু করে । ১৯৪৬’র দাঙ্গার পটভূমিকা তৈরী হতে থাকলো। সেদিন যোগেন যদি নাজিমুদ্দিনকে সমর্থন না করতো, তাহলে মুসলিম লীগ ক্ষমতায়
আসত না, দুর্ভিক্ষ অতটা মারাত্মক হতে পারত না, ছেচল্লিশের দাঙ্গাও ঘটত না, ভারত ভাগ হলেও বাংলা হয়তোবা ভাগ না হয়েই ভারতে থাকত। কোটি কোটি উদ্বাস্তুর বোঝা অনন্ত কাল ধরে বইতে হতো না ভারতবর্ষের শাসকদের। যোগেইন‍্যা দেরও জন্মভূমি ত্যাগ করে শত্রু উচ্চ বর্ণীয়দিগের মধ্যে বসবাস করার দরকারই হতো না। বাঙালিদের ছিন্নমূল করার জন্য মূল দায়ী যোগেন্দ্রনাথ মন্ডল।

অপূর্ব লাল মজুমদারের নামটা মনে পড়ে ? ইনি ফরিদপুরের লোক। যোগেনের ‘জাগরণ’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। ৪৬’র দাঙ্গা চলাকালীন একটি সম্পাদকীয় নিবন্ধ পত্রিকা দফতরে পাঠালে পত্রিকার স্বত্বাধিকারীর ক্ষমতায় যোগেন ওই লেখাটি পত্রিকায় ছাপতে দেয়নি। যোগেন চেয়ে ছিল দাঙ্গা চলুক,কারণ তার দৃষ্টিতে ওটা ছিল বর্ণ হিন্দুদের বিরুদ্ধে দাঙ্গা।যেন বর্ণ হিন্দুরা মানুষ নয়,ওদের খুন করা বা খুনে সহায়তা করা তপশীলি দের কর্তব্য!অপূর্ব বাবু লিখেছেন, ‘আমি জানতে পারলাম যে শ্রী যোগেন্দ্রনাথ মন্ডল একটি আপত্তি তুলে বলেছেন যে,ঐ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা চলতে দেওয়া উচিত।একথা শুনে আমার মনে চরম বিস্ময় জাগল।তাঁর মতে ঐ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা মুসলমান ও বর্ণ হিন্দুদের মধ্যে সীমাবদ্ধ। ওর মধ্যে তপশীলি ভায়েরা জড়িত নেই।সুতরাং তথাকথিত ওই দাঙ্গা নিয়ে কোনও কথা বলার প্রয়োজন নেই ।’ কি মনে করেন যোগেনের অনুগামীরা? উঁচু ও নীচু বর্ণের ভেদাভেদ কেন বুঝতে পারছেন?যদি না পারেন তাহলে জেনে নিন-ভেদাভেদ মানসিকতায়।
প্রসঙ্গত যোগেনের এই ভাব শিষ্য যোগেন এর স্বপ্নের পাকিস্তানে যায়নি,শয়তান উঁচু বর্ণের পশ্চিমবঙ্গে থেকে বিধান চন্দ্র রায় এর শাসনকালে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় স্পিকার পদ অলংকৃত করেছিলেন।না,এই ভদ্রলোক যোগেনের বুদ্ধিমত্তায় বিশ্বাস রাখতে পারেননি।বলতে পারেন, যোগেনের দর্শনে,মানসিকতায় যে সব তপশীলি এখনও বিশ্বাস করে,তাদেরকে শুধু উঁচু বর্ণ নয় অন্যান্য সমস্ত বর্ণের মানুষরাই ঘৃণা করবে না কেন?

     তখনও  দেশ ভাগ হয়নি । নোয়াখালী দাঙ্গার অব্যবহিত পর থেকেইপূর্ববঙ্গে শুরু হয়ে যায়  হিন্দু বিতাড়ন । প্রাণভয়ে পালিয়ে আসা হিন্দু শরণার্থীর ঢেউ আছড়ে পড়া শুরু হয়ে গিয়েছে কলকাতার।বুকে । লীগ সরকার কোনোরূপ ত্রাণের ব্যাবস্থা না করে এইপীড়িতদের ব্যাপারে সম্পূর্ণ উদাসীন রইল ।থাকবেই বা না কেন ? যারা এদের উদ্বাস্তু।বানিয়েছে সরকারি পরিকল্পনার মাধ্যমে, তারাই আবার সাহায্য করবে, এটা কষ্ট কল্পনার মধ্যেই পড়ে।যোগেন মণ্ডল আগের বিবৃতি থেকে সরে এলো না।কলকাতায় শরণার্থী আগমনে স্পষ্ট হয়ে যেতে থাকল যে যোগেন আগে মিথ্যে বলেহিন্দুদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে ।উপরন্তু যোগেন তখন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, তাসত্ত্বেও পীড়িত স্বজাতিদের জন্য কিছু করছে না ।এ অবস্থায় ফল যা হবার,তাই হলো।নোয়াখালী গণহত্যার প্রতিবাদে চারিদিকে মুখরিত হতে থাকল।সুরাবর্দি ওমুসলিম লীগের সহযোগী হয়ে হিন্দু হত্যা যজ্ঞে সহায়তা করার জন্য হিন্দু সমাজের সমস্ত রাগ সন্নিবিষ্ট হলো যোগেন মণ্ডলের ওপর। চারদিক থেকেই আসতে থাকল হুমকি,সোজাসুজি খুনের হুমকি যোগেন নিজের জীবন বিপন্ন মনে করলেন। না, ক্ষমতায় থাকা মুসলিম লীগ সরকার কিছু করল না, উপরন্তু জেনে নাজানা ও দেখে না দেখার ভান করে থাকায় যোগেন প্রমাদ গুনলো । এবার উপায়ান্তর না দেখে বর্ণহিন্দুদের শরণাপন্ন হতেই হলো । না,বর্ণ হিন্দুরা যোগেনকেনিরাশ করেনি  নীচু জাত বলে বিপদের দিনে দূরে ঠেলে দেয়নি।বিপদ বিহীন আশ্রয়ের ব্যাবস্থা করে দিয়েছিল যোগেনের দ্বারা সারাজীবন গালিগালাজ পাওয়া ও হিংসার শিকার হওয়া এই ঘৃণ্য উঁচু বর্ণের মানুষেরা ।একদিকে বিচার করতে গেলে এই উঁচু বর্ণের লোকজন আসলেই খারাপ । এঁরা ভালোভাবেই।জানে,নীচু বর্ণ নিজেদের ভালো-মন্দ বিচার করতেও সক্ষম নয়। এই জাতি নিজেদের ভালো চায় না।চাইলে যোগেনের মতো মানুষের পেছনে ছুটত না।সাময়িক উত্তেজনায় তাড়া করে বেড়াচ্ছে, দু'দিন পর আবার সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে।সুতরাং এই আত্মঘাতী জাতির দীর্ঘ মেয়াদি ক্ষতি করতে হলে যোগেনকেবাঁচিয়ে রাখতে হবে ভেবে যোগেনকে বাঁচিয়ে রাখে।ঐ সময় ক্ষিপ্ত জনগণ নামক হায়েনা'র মুখে যদি ফেলে দেওয়া হতো,যোগেনের অক্কা প্রাপ্তি ঘটতো,নিশ্চিত রূপেই বলা যায় যোগেনের জাতিদের আজকের দিনে নাগরিকত্ব পাওয়ার আশায় অনন্তকাল অপেক্ষা করতে হতো না।উঁচু বর্ণের নিম্নবর্গীয়দের প্রতি ভাবনা যে, এরা নিজেদের ভালোমন্দ বিচার করতে সক্ষম নয়,সেটা সঠিক বলে প্রমাণিত হয়ে পড়ে ফেসবুকে কিছু 'আকাট' নিম্নবর্গীয়ের প্রশ্ন ও মন্তব্য দেখে ।হ‍্যাঁ,উঁচু বর্ণ বিদ্বেষী যোগেন মণ্ডল স্বীকার করতে বাধ্য হয়ে ছিলেন ও বলেছিলেন, 'একথা স্বীকার না করে পারছি না যে,সেদিন উন্মত্ত হিন্দু জনতার রোষ হতে কাস্ট হিন্দুরাই আমাকে রক্ষা করে ছিলেন।'এরপরও যোগেন কেমনভাবে বেইমানি করেছে সেটা পরবর্তীতে জানাব।
       যোগেন মন্ডল বাবা সাহেবকে গণপরিষদে পাঠিয়েছিলেন বলে এখনও বেশকিছু যোগেন ভক্ত বুক ঠুকে যোগেনের কীর্তন করে বেড়ায় ।এবার সেই   প্রসঙ্গে আলোচনা করবো । 
বাংলা থেকে আম্বেদকরের গণপরিষদে যাওয়ার পেছনে যোগেনের একটা আপাতঃ ভূমিকা দেখা গেলেও সেটা ছিল আসলে মুসলিম লীগের ছাড়পত্র । যেটা ছিল একটা ষড়যন্ত্র । খাজা নাজিমুদ্দিনের ভাই খাজা শাহাবুদ্দিন যোগেনকে বার বার চাপ দেওয়ায় যোগেন বাবু ইং ১১.০৭. ১৯৪৬ তারিখে একটা টেলিগ্রাম করেন, একইসাথে একটা চিঠিও লেখেন । চিঠিটির বয়ান এইরূপ, "I sent you a 'Immediate' telegram this afternoon requesting  you to come Calcutta. I was being repeatedly requested and pressed by Mr. Sahabuddin,the brother of Sir Najimuddin to send you the wire." আম্বেদকরকে গণপরিষদে আনায় মুসলিম লীগের সুদূর প্রসারী লক্ষ্য এই ছিল যে,যোগেন বাবু তো

পকেটেই আছে,এর সাথে সর্বভারতীয় নেতা আম্বেদকরকে হাতে নিতে পারলেসোনায় সোহাগা হয়ে উঠবে মুসলিম লীগের পক্ষে ।তাই যোগেন’কে শিখন্ডি করে মুসলিম লীগই আম্বেদকরকে গণ
পরিষদে পাঠায় নিজেদের স্বার্থে, এক্ষেত্রে যোগেনের কোনও দান নেই । যতটুকু বোঝা যায়, যোগেনের মনে আম্বেদকরের প্রতি এক সুপ্ত হিংসা ও প্রতিযোগিতা ছিল ।সাহাবুদ্দিনের চাপে যোগেন উদ‍্যোগ নিতে বাধ্য হয়, নিজের ইচ্ছায় নয় ।সুতরাং বাবা সাহেবের গণপরিষদে সদস্য পদ প্রাপ্তির পেছনে যোগেনের কোনও ভূমিকা নেই, যেটুকু আছে সেটা মুসলিম লীগের চক্রান্ত ।
মুসলিম লীগ হয়ত ভাবত যে, প্রতিটি নিম্নবর্গীয়ই মুসলমান তথা মুসলিম লীগের পা চাটা কুত্তা হয়ে আছে ।আম্বেদকরের বেলায় হিসেবে গরমিল হয়ে গেল।বাবাসাহেব অন্তর্বর্তী সরকারে তপশীলিদের ন্যায‍্য অধিকারের জন্য যেমন লড়েছেন, ঠিক তেমনই লড়েছেন মুসলিম লীগের অন্যায্য ও অবৈধ দাবির বিরুদ্ধে ।একদিকে যেমন হিন্দুধর্মের বিভিন্ন দিকেরতীব্র সমালোচনা করেছেন, ইসলামের ও কাছা খুলে দিয়েছেন । লেখার বিষয়টা যোগেন মন্ডল’কে নিয়ে হলেও আম্বেদকরকে নিয়ে কিছু কথা লিখতেই হলো ।
মুসলিম লীগের ধনুর্ভঙ্গ পণ ছিল যেতাদের মনোনীত সদস্য হতে হলে অবশ্যই মুসলমান এবং মুসলিম লীগের সদস্য হতেহবে।যোগেন বাবু লীগের সদস্য ছিলেন ওলীগের সাথে একাত্ম ছিলেন । ড. আম্বেদকর ছিলেন লীগের বিপরীত মেরুতে।৩০.০৬.১৯৪৬ তারিখে কলকাতায় ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন হলে এক সভায় যোগেনের উপস্থিতিতে বাবা সাহেব বলেন, ‘ কংগ্রেস ও তপশীলি ফেডারেশনের মধ্যে নীতিগত কোনও পার্থক্য নেই । কংগ্রেস তপশীলিদের
‘পৃথক নির্বাচন’ দাবি মেনে নিলে তারা আলাদা নেতৃত্ব তুলে দিয়ে একত্রে কাজকরা সম্ভব ।’ প্রসঙ্গত আম্বেদকরের এইমত আবেদনে উক্ত সভার সভাপতি যোগেন্দ্রনাথ মন্ডল যথেষ্ট বিরক্তিকর অবস্থায় পড়েছিলেন ।
যোগেন বাবু মুসলিম লীগের সহযোগী সদস্য হওয়ার পর জিন্নাহ্ বলতে শুরু করেন,তিনি তপশীলি ও মুসলমানসহযোগে ভারতের ৫০% মানুষের প্রতিনিধি । এই সময় থেকে মুসলিম লীগ
যোগেন মন্ডল’কে ভারতের তপশীলিদের একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে তুলে ধরতে থাকে। সেই সূত্রে যোগেন মুসলিম লীগের একটা ফাঁপানো বেলুন বই কিছু নয় । এই তপশীলি নেতা জনসভায় বর্ণ হিন্দুদের তুলোধোনা করলেও ব্যাক্তি জীবনে ছিলেন ঘৃণিত বর্ণ হিন্দু ঘেঁষা।
ড.আম্বেদকর অকাট্য যুক্তি তর্ক দিয়ে বলেছিলেন, ‘যে যুক্তিতে জিন্নাহ্ সাহেবরা
পাকিস্তান চান,ঠিক সেই একই যুক্তিতে পাঞ্জাব ও বাংলা বিভাজন হতে হবে।’যোগেন মুসলিম লীগের সাথে হাত মিলিয়ে দু’প্রদেশেরই বিভাজনের বিরোধিতা করে ।তা সত্ত্বেও এই দুই প্রদেশ ভাগের সিদ্ধান্ত যখন পাকাপাকি হয়ে গেল তখন যোগেন্দ্রনাথ মন্ডল ইং. ০৫.০৮.১৯৪৭তারিখে দিল্লি ত্যাগ করে স্বপ্নের পবিত্র ভূমি পাকিস্তানের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলেন বর্ণ হিন্দুদের অত্যাচার থেকে নিজে মুক্তি পেতে ও স্বজাতিদের মুক্ত করতে । আর বর্ণ হিন্দুদের অপবিত্র ভূমিতে রেখে গেলেন একমাত্র পুত্র জগদীশ চন্দ্র মন্ডলকে। স্ত্রী আগেই গত হয়ে যোগেনের হাত থেকে নিষ্কৃতি পেয়ে ছিলেন। যোগেনের শঠতার ফলে স্বজাতির দুর্দশা তাঁকে দেখে যেতে হয়নি ।

ইংরেজদের সমর্থনে অখণ্ড বাংলা পাওয়ার জন্য সুরাবর্দি শরৎ চন্দ্র বসুকে এড়িয়ে বড়লাটের পারিষদ ‘শোন’ এর সাথে বৈঠক করে । সেই বৈঠকে সুরাবর্দি বলেন, ‘বিদেশি মূলধন দিয়ে আমি সোনার বাংলা গড়তে চাই । মার্কিন পুঁজি তো আমার হাতের কাছেই । অখণ্ড বাংলা পেলে আমি তা রূপোর থালায় সাজিয়ে ইংরেজদের উপহার দেব।’ যোগেন বাবু এইমত পরিকল্পনার কথা জানতেন না,জানা সম্ভবও ছিল না। রাজনীতি জ্ঞান থাকলে তবে তো বুঝবে ? চাকরের সাথে
তার মালিক কখনও গোপন কথা বলে না।মুসলিম লিগের নিম্নবর্গীয় চাকর যোগেনকে সুরাবর্দি ও তার সহযোগীরা গোপন অভিসন্ধি কথা জানাবেই বা কেন?তাছাড়া যোগেন তখন বাংলার নমঃশূদ্রদের অবিসংবাদী নেতা, নমঃশূদ্র ও মুসলিম ঐক্যের ফানুস নিয়ে ছাগলের তৃতীয় বাচ্চার মতো একটু বেশী এবং বিসদৃশ লাফালাফি করছে।এই অবস্থায় গোপন রাজনৈতিক অভিসন্ধি নিয়ে মাথা ঘামানোর তার সময় কোথায় ? যদি সত্যিকারেই সুরাবর্দিরা অখণ্ড বাংলা পেত,তাহলে অদ্যকার দিনে বাংলাভাষী হিন্দুদের জায়গা হতো কোথায় ? না,তখন আঞ্চলিকতার দোহাই দিয়ে বাংলার বাইরের প্রদেশগুলি এই বাঙালিদের ঠাঁই
দিত না, উল্টে মুসলিমের পা চাটা কুকুর বলে তাড়িয়ে দিত। আর অখণ্ড মুসলিম বাংলা থেকে পাকিস্তান হয়ে যাওয়া দেশে হিন্দুদের অবস্থা কেমন হতো, সেটা বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের দিকে তাকিয়ে যারা বুঝতে না পারে, তারাই আসল
যোগেন প্রেমিক ।

স্বাধীন বাংলা গঠনের উচ্চ পর্যায়ের কোনও আলোচনায় কখনও যোগেন হাজির থাকত বলে কোনও প্রমাণ পাওয়া যায় না । মুসলিম লীগ তাকে কাজ দিয়েছিল সে যেন তপশীলি এলাকায় ঘুরে ঘুরে পাকিস্তানের পক্ষে জনমত গঠন করে।অবশ্য এইকাজে তার সমস্ত খরচ বহন করতো মুসলিম লীগ। অন্তর্বর্তী সরকারের মন্ত্রী হওয়ার পর থেকেই যোগেন বাংলার বিভিন্ন জেলা সফর শুরু করেন।

যোগেন যে মুসলিম লীগের থেকে অর্থ নিতেন তার অকাট্য প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে পাকিস্তান থেকে প্রকাশিত ‘জিন্নাহ্ পেপারস্’ নামের কাগজে। ৩০.০৪.১৯৪৭-যোগেন ২৫০০০/- টাকা চেয়ে একটি চিঠিসহ একান্ত বিশ্বাসভাজন গঙ্গাধর প্রামাণিককে পাঠালেন মি.জিন্নাহ্ এর কাছে । চিঠিতে লিখলেন, ‘ গতকাল (অর্থাৎ ২৯.০৪.১৯৪৭) মি.সুরাবর্দির সাথে দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনা হয়েছে। আমাদের উদ্দেশ্য সাধনের জন্য ইতিমধ্যে পূর্ব ও পশ্চিমবঙ্গ থেকে বেশ কিছু সংখ্যক কর্মী সংগ্রহ করেছি। আমি যদি বিরাট সংখ্যক লোক নিয়োগ করতে পারি, নিশ্চিত ভাবে আমাদের উদ্দেশ্য সফল হবে। আমি এখন ২৫০০০ টাকার তহবিল নিয়ে শুরু করতে চাই ।দশদিন বাদে অবশ্যই অগ্রগতির রিপোর্ট জানাব। তবে একটি আশাব্যঞ্জক দিক হলো এই কাজের জন্য খুব বেশী অর্থ খরচ হচ্ছে না।’ যোগেনের চিঠি পেয়ে জিন্নাহ্ আর দেরী করেন নি। কলকাতার আহমদ ইস্পাহানির মাধ্যমে প্রাথমিক ভাবে দশ হাজার টাকা পাঠালেন, দ্বিতীয় কিস্তিতে আরও চার হাজার পেলেন যোগেন, সময়কাল ২৪ মে,১৯৪৭।
এবার কোমরের গামছাটা বেশ টাইট করে বেঁধে নিয়ে মাঠে নেমে পড়ল মওলানা যোগেন আলি মোল্লা । ৪ মে ১৯৪৭, শিলিগুড়ি, ৬ মে জলপাইগুড়ি ও ৭ই মে দিনাজপুরে সভা করল। ৯ই মে, উত্তর ২৪ পরগণার হরিনারায়ণপুরে, ১০মে বসিরহাটে সভা করল। ১৭ই মে, বর্ধমানে এক সভায় তিন ঘন্টা ধরে বক্তব্য রাখে যোগেন। সর্বত্রই বাংলা ভাগের বিপক্ষে জোরালো বক্তব্য রেখে চলেছে যোগেন। ১৪.০৫.১৯৪৭- বঙ্গীয় প্রাদেশিক তপশীলি ফেডারেশনের কার্যকরী সমিতির এক বিশেষ সভায় সর্বসম্মতিক্রমে বাংলা ভাগের বিপক্ষে একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়।১৬.০৫.১৯৪৭-বৃটিশ ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন হলে যোগেন বাবু বক্তৃতা রাখতে গিয়ে বলেন,’ পাকিস্তান বিরুদ্ধ মনোভাব থেকেই বঙ্গবিভাগ প্রস্তাব উদ্ভূত। বর্তমানে যে সাম্প্রদায়িকতা চলছে, এটা সাময়িক, চিরস্থায়ী নয়। দেশ স্বাধীন হলে দাঙ্গা হাঙ্গামা’র স্থান থাকবে না । বাংলা ভাগ হলে লোক বিনিময়ের প্রস্তাব আসতে পারে । কিন্তু সেটা কি সম্ভব ? কিছুতেই সম্ভব নয় ।সম্পূর্ণ অসম্ভব ও অবাস্তব।’ মন্ডল মশাই যখন বাংলা ভাগের বিরোধিতা করে চিৎকার করে গলা ফাটিয়ে বেড়াচ্ছে, সেই একই সময় ৩০.০৪.১৯৪৭ রাতে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ্ এক বিবৃতিতে লোক বিনিময় করতে রাজি বলে জানান ।অবশ্য এরআগে ১৯৪০ সালেই ড.আম্বেদকর প্রস্তাবিত
হিন্দুস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে সংখ্যালঘুবিনিময়ের শর্ত আরোপ করেছিলেন এবংএর জন্য রাষ্ট্রবিজ্ঞান সম্মত ভাবে কার্যক্রমও স্থির করে দিয়েছিলেন ।
যোগেন জনবিনিময় প্রস্তাব মেনে নিতে রাজি হলো না কেন ? এর আগে ইউরোপের বুলগেরিয়া, তুরস্ক ও গ্রীসে ১৯২৩ সালে জনবিনিময় সফল ভাবে করাহয়েছিল । স্বাধীনতার পর পাঞ্জাবেও সুষ্ঠু ভাবে লোক বিনিময় হয়েছে । প্রমাণিত হয়েছে লোক বিনিময় সম্ভব । প্রশ্ন ওঠে তৎকালীন একজন শিক্ষিত ব্যাক্তি হয়ে যোগেন কি ইউরোপের জনবিনিময় ইতিহাস জানতো না ? আমার ধারণা সেসব কিছুই জানত । তা সত্ত্বেও জন বিনিময় প্রস্তাব নাকচ করার কারণ ছিল জন বিনিময়ের কারণে পূর্ব পাকিস্তান থেকে সমস্ত হিন্দুর যদি অপসারণ ঘটে,তাহলে নিম্নবর্গীয়রাও থাকবে না,যোগেনের রাজনৈতিক জীবনও শেষ
হয়ে যাবে । দেশ ভাগের পর নমঃশূদ্র সম্প্রদায়ও যোগেনের ওপর বেশ সন্দিহান হয়ে উঠেছিল।তাঁরাও দলে দলে হিন্দুস্তান মুখো হতে থাকলে যোগেন প্রমাদ গুনলো।এবার হুঙ্কার ছেড়ে বললো,’ নমঃশূদ্রদের এতো কিছু চিন্তার নেই, আমি এখনও বেঁচে আছি। ‘নমঃশূদ্রদের হিন্দুস্তানে আসায় একটু ভাটা পড়লেও থেমে থাকলনা,বিপুল নিম্নবর্গীয় স্রোত আছড়ে পড়তে থাকল হিন্দুস্তানের ওপর? প্রমাণ চাই?মালকানগিরি, কোরাপুট, নৈনিতাল, মানা,আন্দামান- সবই ভারত সরকার দ্বারা বানানো নিম্নবর্গীয় উপনিবেশ । সবচেয়ে আশ্চর্যের ব্যাপার হলো যোগেন সূত্র মেনে মুসলিমরা জন বিনিময়ের পথেগেল না।আরও এক দীর্ঘ সমস্যার সৃষ্টি করে গেল যোগেন্দ্রনাথ মন্ডল নামক নমঃশূদ্রটি।
(আগামীকাল পরবর্তী অংশ)

We are not big media organisation. Your support is what keeps us moving. Don't hesitate to contribute because, work, for society needs society's support. Jai Hind.