২৩টি বর্বর হিন্দু হত্যা, যা সেক্যুলার সংবাদমাধ্যম এড়িয়ে গিয়েছিল- (১)

0
1436

(সংবাদটি প্রকাশিত হয় বিগত 23 এপ্রিল 2020 oplndia.com নামক সাইটে। ইংরেজি ভাষায় সংবাদ টি লেখেন ঝঙ্কার মহতা )

অনুবাদ : সূর্য শেখর হালদার

মূল স্রোতের সংবাদমাধ্যম কখনই বিস্তৃত এবং ভারসাম্যপূর্ণ সংবাদ পরিবেশন করছে না যাতে সর্বভারতীয় স্তরে ঘটে যাওয়া হত্যাকাণ্ড গুলির সুন্দর বিশ্লেষণ করা যেতে পারে। এটা দেখা গেছে অনেক সংবাদ মাধ্যম রয়েছে, যারা তাদের মতবাদ এর সঙ্গে সাযুজ্য রেখে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা পছন্দ করে এবং সেটা পাঠকদের কাছে পরিবেশন করে । তারা এটা প্রমাণ করতে চায় যে দেশে মুসলিমরা মারাত্মকভাবে আক্রান্ত, আর হিন্দুরা হল প্রবলভাবে আক্রমণকারী এই ধরনের মতবাদকে তুলে ধরার উদ্দেশ্য হচ্ছে সংখ্যালঘুদের মধ্যে একটা মিথ্যা ধারনা তৈরি করা যে তারা ফ্যাসিস্ট হিন্দুদের দ্বারা আক্রান্ত। আর সেই আক্রমণ সংগঠিত হচ্ছে রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলির সক্রিয় সহযোগিতাতে। কিন্তু বাস্তব বড় কঠিন এবং এখানে দেখা যাচ্ছে যে ভারতে হিন্দুরাই ঘৃণা ও বিদ্বেষপূর্ণ অপরাধে প্রবলভাবে আক্রান্ত হচ্ছে। হিন্দুরা খুন হচ্ছে নৃশংসভাবে; প্রতিবাদ করলে তাদের সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করা হচ্ছে। এইসব সংঘর্ষের বেশিরভাগই হল হিন্দু বিদ্বেষী এবং ইসলামিক শক্তির দ্বারা পরিচালিত কিছু কিছু ক্ষেত্রে শুধুমাত্র হিন্দু বলেই তাদের হত্যা করা হচ্ছে।

সাধারণত সংবাদ মাধ্যমগুলি এই গুলি নিয়ে কথা বলতে লজ্জাবোধ করে, এবং এড়িয়ে যায় । এমনকি যদি হিন্দু হত্যা হয় আর সে ক্ষেত্রে হত্যাকারী মুসলিম নাও হয়, তবুও হিন্দু আক্রান্ত হলে এইসব সংবাদমাধ্যম প্রতিবাদের ঝড় তুলতে সক্ষম হয় । কিন্তু মুসলিম আক্রান্ত হলে সহজেই এরা প্রতিবাদের ঝড় তুলে থাকে । এখানে এইরকম তেইশটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনার উল্লেখ করা হল, যেখানে নৃশংসভাবে হিন্দুদের হত্যাকাণ্ড হয়েছে ,কিন্তু
মূলস্রোতের উদারনৈতিক সংবাদমাধ্যম সেই হত্যাকাণ্ড গুলির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়নি।

১. মহারাষ্ট্রের পালঘরে দুই সাধু এবং গাড়ী চালক নীলেশ টোলগাডের হত্যা :-

এই ঘটনাটি ঘটে 16 এপ্রিল 2020 মহারাষ্ট্রের পালঘরে। এই ঘটনাতে 70 বছর বয়স্ক কল্পবৃক্ষ গিরি মহারাজ নামক এক সাধু, 35 বছর বয়স্ক সুশীল গিরি মহারাজ নামে আরেক সাধু আর তাদের গাড়ির চালক 30 বছর বয়স্ক নীলেশকে হত্যা করা হয় । এনারা জুনা আখরার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং আরেকজন সাধুকে সমাধি দিতে মুম্বাই থেকে গুজরাট যাচ্ছিলেন। তাঁরা শতাধিক লোকের দ্বারা আক্রান্ত হন এবং গণপিটুনিতে নিহত হন।

রক্ত হিম করা এই পালঘর গণপিটুনি আমাদের কাছে একটি বিরাশি সিক্কার থাপ্পর যা আমাদের মনে করিয়ে দেয় দেশে হিন্দু আক্রান্ত হবার ঘটনা ক্রমবর্ধমান । অথচ পক্ষপাতী সংবাদ মাধ্যমগুলি উল্টো চিত্র অংকনে ব্যস্ত রয়েছে।

হিন্দুরা যে চরম ঘৃণা ও বিদ্বেষের শিকার হচ্ছে তার স্বপক্ষে আরো অনেক ঘটনা নিম্নে বর্ণিত হল।

২. দিল্লি পুলিশের হেড কনস্টেবল রতনলালের মুসলিম দাঙ্গাকারীদের গুলিতে ঝাঁঝরা হওয়ার ঘটনা :-

দিল্লি পুলিশের হেড কনস্টেবল রতনলাল নিহত হন 2020 সালের 24 ফেব্রুয়ারি। এই সময় দিল্লিতে চলছিল CAA বিরোধী বিক্ষোভ। এই বিক্ষোভকে আমেরিকার রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভারত সফরের সময় সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষের মাত্রা দেওয়া হয়। দাঙ্গাকারী ইসলামপন্থীরা খোলা রাস্তায় পাথর ছুঁড়তে থাকে । তবে রতনলালের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট বলছে তার মৃত্যু হয় বুলেটের আঘাতে। India TV এর সংবাদ অনুযায়ী সন্দেহভাজনদের নাম গুলি হল – সেলিম মালিক, মোহাম্মদ জালাউদ্দিন মুহাম্মদ ইউনূস, মোহাম্মদ আয়ুব, আরিফ, দানিশ এবং মোহাম্মদ সেলিম খান।

৩. মুসলিম জনতার হাতে আই.বি. গোয়েন্দা অঙ্কিত শর্মার নির্মম হত্যাকাণ্ড :-


  • যেভাবে আই.বি. কর্মী অঙ্কিত শর্মা ইসলামিক জনতার হাতে দিল্লির হিন্দুবিরোধী সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষের সময় নিহত হন, তা বিশ্বাসের অযোগ্য। একজন ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো এর কনস্টেবল এর দেহ পাওয়া যায় উত্তর পূর্ব দিল্লির একটি নালা থেকে । অঙ্কিত শর্মা বাস করতেন চাঁদ বাগে। তিনি যখন এক সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরছিলেন, তখন হিংস্র জনতার হাতে তিনি আক্রান্ত হন । চার বাগ ব্রিজের উপর এই আক্রমণের ঘটনা ঘটে, এবং সেখানেই তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয় । ইসলামপন্থী জনতা অঙ্কিতের দেহ নালায় ছুড়ে ফেলে দেয়।
  • দিল্লি পুলিশের রিপোর্ট অনুযায়ী অঙ্কিতকে হত্যা করার আগে তাকে উলঙ্গ করা হয় । এবিপি নিউজ এর রিপোর্ট অনুযায়ী তার ধর্ম পরীক্ষা করার জন্য তার জামাকাপড় খুলে নেওয়া হয় এবং তারপর তাকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। তার হাত, মুখ এবং বুকে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। তাকে হত্যার পর তার মুখে এসিড জাতীয় কিছু ঢালা হয় যাতে তার পরিচয় প্রকাশ্যে না আসে। অঙ্কিতের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট থেকে এটাও জানা যায় যে 4 থেকে 6 ঘন্টা ধরে তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়।

আম আদমি পার্টির নেতা তাহির হোসেনকে অঙ্কিত হত্যার এবং এই বছরের ফেব্রুয়ারিতে দিল্লিতে যে ভয়ানক দাঙ্গা সংঘটিত হয় তার মূল শক্তি বলে ধরা যেতে পারে।

৪. জিহাদিদের দ্বারা হিন্দুত্ববাদী নেতা কমলেশ তিওয়ারির নৃশংস হত্যাকাণ্ড :-

বিগত 18 অক্টোবর 2019 হিন্দুত্ববাদী আন্দোলনকারী হিন্দু সমাজ পার্টির নেতা কমলেশ তিওয়ারি লখনৌতে তার বাড়ির সামনে জিহাদিদের দ্বারা নিহত হন। তাকে প্রথমে গুলি করে হত্যা করা হয় এবং তারপর তার গলা কেটে দেওয়া হয় । তারপর থেকে তদন্তে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রকম উন্নতি হয়েছে এবং এই হত্যাকাণ্ডে যুক্ত থাকার জন্য বহু ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে

এই হিন্দু নেতার ময়নাতদন্তের রিপোর্ট বলছে যে তাকে পনের বার ছুরিকাঘাত করা হয়েছিল, এবং একবার গুলি করা হয়েছিল। জিহাদিরা তাকে দেহের উর্ধাংশ- চোয়াল থেকে বুক পর্যন্ত স্থানে ছুরিকাঘাত করে। ক্ষতস্থান গুলি ছিল একে অপরের থেকে 10 সেন্টিমিটার এর মধ্যে অবস্থিত । এই রিপোর্টে আরো জানা যায় যে তার গলার কাছে দুটি গভীর ক্ষতস্থান ছিল । এর থেকে বোঝা যায় যে তার গলা কাটার চেষ্টা হয়েছিল।

এই হত্যাকাণ্ডের একদিন পর গুজরাট A.T.S ষড়যন্ত্রকারীদের গ্রেফতার করে । সুরাট থেকে গ্রেফতার হওয়া এই ব্যক্তিরা হলেন রশিদ পাঠান এবং মহসিন শেখ নামে এক মৌলবী । তাদের হত্যা করার পিছনে কারণ ছিল 2015 সালে পয়গম্বর হযরত মুহাম্মদের যৌনতা বিষয়ে করা একটি মন্তব্য যা হত্যাকারীদের কাছে ধর্মবিরুদ্ধ ছিল

হত্যাকাণ্ডের চারদিন পর 22 অক্টোবর Gujarat ATS এর একটি দল ডি আই জি a3s নেতৃত্বে হত্যার মূল চক্রি আশফাক এবং মঈনুদ্দিনকে গুজরাট রাজস্থান সীমানা থেকে গ্রেফতার করে
আসফাক তার সহকর্মীরা আধার কার্ড নকল করে রোহিত সোলাঙ্কি সে যে ছিল এবং নিজেকে দক্ষিণপন্থী হিন্দুত্ববাদী আন্দোলনকারী বলে পরিচয় দিয়ে তিওয়ারিজী এর বিশ্বাস অর্জন করে।

পুলিশি হেফাজতে জেরার সময় জিহাদিরা কমলেশ তিওয়ারি হত্যার উদ্দেশ্য এবং হত্যাকাণ্ডের রক্তাক্ত বর্ণনা দেয়। তদন্তে জানা যায় কমলেশ তিওয়ারি হত্যাকাণ্ড সুপরিকল্পিত এবং এই হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্যে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ তৈরি করা হয় , যাতে 72 জন সদস্য ছিল। এই গ্রুপে সমস্ত তথ্যের আদান-প্রদান করা হত।

তথ্যসূত্র: OpIndia.com

(ক্রমশঃ)

We are not big media organisation. Your support is what keeps us moving. Don't hesitate to contribute because, work, for society needs society's support. Jai Hind.