পাপাত্মা গান্ধীজির কিছু কুকীর্তি ও ভণ্ডামি

1
985

@ Team Hindu Voice

স্কুলে যাওয়ার সময় থেকেই শুনে আসছি যে মহাত্মা গান্ধীজী একজন ব্যারিস্টার ছিলেন। তখন থেকেই ভাবতাম যে উনি নিশ্চয়ই অনেক শিক্ষিত, অনেক জ্ঞানী। পরে জানতে পারলাম যে গান্ধীজী তাঁর সারাজীবনে একটিই মাত্র শিক্ষাগত সার্টিফিকেট অর্জন করতে পেরেছিলেন, তা হল ম্যাট্রিক পাসের সার্টিফিকেট। ১৮৮৭ সালে গান্ধীজী টেনেটুনে কোনমতে থার্ড ডিভিশনে ম্যাট্রিক পাশ করেন, তাঁর প্রা্প্ত নম্বর ছিল ৬০০র মধ্যে ২৪৭! তখনকার দিনে ব্যারিস্টার হতে হলে কোন পরীক্ষাই দিতে হত না, কিছুদিন কোন বয়স্ক এবং অভিজ্ঞ ব্যারিস্টারের সহকারী হিসেবে কাজ করলেই ব্যারিস্টার হিসেবে বার এসোসিয়েশনের সদস্য হওয়া যেত। কিন্তু এই সহকারী হওয়ার জন্যও গান্ধীজীর ভারতীয় সার্টিফিকেট এবং তার ফলাফল গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হয়নি, তাই জন্য গান্ধীজীকে আবার লণ্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যাট্রিক পরীক্ষায় বসতে হয়। প্রথম বার সেই পরীক্ষায় ফেল করার পর গান্ধীজী দ্বিতীয় বারে কোনমতে পরীক্ষায় পাশ করতে সক্ষম হন এবং একজন ব্যারিস্টারের সহকারী হওয়ার মত যোগ্যতা অর্জন করেন। তখনকার যুগের অনেক মানুষেরই প্রথাগত শিক্ষা খুব বেশি থাকত না, যেমন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। কিন্তু তাঁরা ছিলেন স্বশিক্ষায় শিক্ষিত। কিন্তু গান্ধীজীর আচরণে এটা স্পষ্ট হয় যে তাঁর মধ্যে সেই স্বশিক্ষা ছিল না।।

গান্ধীজী হিন্দুদের ধর্মগ্রন্থ গীতা সম্পর্কে তাঁর ‘অনাসক্তি যোগ’ গ্রন্থের ভূমিকায় লিখেছেন, “গীতার বর্ণিত যুদ্ধ কোন বাস্তব যুদ্ধ নয়, পরন্তু ভৌতিক যুদ্ধ বর্ণনার রূপকের মাধ্যমে প্রত্যেক মানুষের হৃদয়ে যে দ্বন্দ্বযুদ্ধ নিরন্তর চলিতেছে, ইহাতে তাহাই বর্ণিত হইয়াছে। রসস্থিত যুদ্ধকে রসপূর্ণ আকার দেওয়া হইয়াছে।” এর সহজ সরল অর্থ হল মহভারতের যুদ্ধ কোন বাস্তব ঘটনা নয়, মানুষের মনের শুভ অশুভ শক্তির মধ্যে যে অবিরাম যুদ্ধ চলছে তারই একটা রূপক মাত্র।

গান্ধীজী তাঁর ‘গীতাবোধ’ গ্রন্থের প্রস্তাবনায় বলেছেন, “মহাভারতকে ঐতিহাসিক গ্রন্থ বলিয়া ধরা হয়, কিন্তু আমার কাছে মহাভারত ও রামায়ণ ঐতিহাসিক কোন গ্রন্থই নয়। ইহারা ধর্মগ্রন্থ। আর যদি ইতিহাস বল, তবে উহারা আত্মার ইতিহাস। হাজার হাজার বৎসর পূর্বে কী হইয়াছিল তাহার বর্ণনা উহাতে নাই, পরন্তু আজ প্রত্যেক মানুষের অন্তরে যাহা চলিতেছে, উহা তাহারই প্রতিচ্ছবি।” হিন্দু ধর্মের প্রাণপুরুষ শ্রীকৃষ্ণ সম্পর্কে গান্ধীজী বলেছেন, “গীতার কৃষ্ণ মূর্তিমন্ত শুদ্ধ পূর্ণজ্ঞান, কিন্তু কাল্পনিক। ইহাতে কৃষ্ণ নামক অবতার পুরুষকে অস্বীকার করা হইতেছে না। শুধুমাত্র বলা হইতেছে যে পূর্ণ কৃষ্ণ কাল্পনিক। পূর্ণ অবতারের কল্পনা পরে আরোপিত হইয়াছে।” এই হল হিন্দুধর্ম সম্পর্কে গান্ধীজীর জ্ঞান এবং ধারণা!

গান্ধীজী বলতেন, “একজন সত্যাগ্রহী সব সময় আক্রমণকারীর দ্বারা নিহত হবার কামনা করবে, কিন্তু কাউকে হত্যা করার কামনা করবে না।” 
যেখানে পৃথিবীর একটি ক্ষুদ্রতম প্রাণীও আত্মরক্ষার জন্য যুদ্ধ করে এবং পৃথিবীতে টিঁকে থাকার চেষ্টা করে, সেখানে গান্ধীজীর এই নীতির ফলে ভারত ভাগের আগে ও পরে, পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানে লক্ষ লক্ষ হিন্দুরা গণহত্যার শিকার হয়েছে। গান্ধীজী তাকে প্রতিরোধ করার জন্য কোন পদক্ষেপ তো নেনই নি, বরং সকল হিন্দুদের মরতে উৎসাহ দিয়েছেন। 

বসন্তের টিকা দেওয়াকে গান্ধীজী পাপ বলে মনে করতেন। এর মূল কারণ হল গান্ধীজী ছিলেন পাশ্চাত্য চিকিৎসা পদ্ধতির বিরোধী। কারণ তিনি ইনজেকশন দেওয়াকে ও অপারেশন করাকে হিংসা বলে মনে করতেন। ১৯৪৬ সালে গান্ধীজীর স্ত্রী কস্তুরবার ম্যালেরিয়া জ্বর হয়। ডাক্তার তাঁকে পেনিসিলিন ইনজেকশন দেওয়ার কথা বলেছিলেন। সেই জন্য বৃটিশ সরকার তাঁর জন্য লণ্ডন থেকে পেনিসিলিন ইনজেকশন নিয়ে আসে। কিন্তু গান্ধীজী হিংসার নাম করে সেই ইনজেকশন প্রয়োগ করতে বাধা দিলেন। এর ফলে গান্ধীজীর স্ত্রীর মৃত্যু ঘটে। অথচ ১৯২২ সালে যখন কারাবাসের সময় গান্ধীজীর খুব আমাশা হয় এবং ডাক্তার তাঁকে নিয়মিত ইনজেকশন নিতে বলেন, তখন তিনি তাঁর পরামর্শ গ্রহণ করেন এবং সুস্থ হয়ে ওঠেন। এরপর গান্ধীজীর এ্যাপেনডিসাইটিস হয়, গান্ধীজী তখন অপারেশনও করান।

গান্ধীজী ছিলেন ভণ্ড! গান্ধীজী মনে করতেন উচ্চবর্ণের হিন্দুরা নিম্নবর্ণের হিন্দুদের ঘৃণা করে যে পাপ কাজ করে তার ফলেই নাকি ভূমিকম্প হয়! তিনি ছিলেন এমনই কুসংস্কারাচ্ছন্ন! নেতাজী বলেছিলেন, “বৃটিশের নির্দেশে গান্ধীজী যখনই কোন আন্দোলন তুলে নিতেন, তখনই তিনি নিজের শয়তানীকে চাপা দেওয়ার জন্য বা দেশের মানুষের দৃষ্টি অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেওয়ার জন্য অনশন শুরু করতেন।” গান্ধীজীর সকল প্রকার অনশন ও কারাবাস ছিল বৃটিশদের পরিকল্পনার অংশ।

ড. আম্বেদকরের মতে, “গান্ধীজী ছিলেন শক্তের ভক্ত আর নরমের যম। দক্ষিণ আফ্রিকায় থাকাকালে একবার গান্ধীজী হিন্দু, খ্রিষ্টান ও ইসলামের মধ্যে তুলনা করে একটি বক্তৃতা দেন, সেই বক্তব্যে মুসলমানরা ক্ষুব্ধ হয় এবং ১৯০৮ সালের ১০ই ফেব্রুয়ারি কয়েকজন মুসলমান তাঁর ওপর হামলা করে এবং তাঁকে প্রচণ্ড প্রহার করে। এরপর থেকেই গান্ধীজী মুসলমানদের সর্বপ্রকার সমালোচনা করা বন্ধ করে দিলেন এবং তারপর থেকেই তিনি মুসলমানদের অত্যন্ত গর্হিত অপরাধকেও অপরাধ বলে মনে করতেন না।

মোহনদাস গান্ধী অত্যন্ত সাদাসিধে জীবন যাপন করতেন। ১৯২২ সালে যখন তিনি স্বাধীনতা সংগ্রাম করতে গিয়ে গ্রেফতার হয়ে পুনের জেলে ছিলেন তখন তাঁর জন্য জেলের মধ্যে দুটি ঘর বরাদ্দ করেছিল চিরশত্রু ইংরেজ। একটি ঘর শোয়ার জন্য, আরেকটি চরকা চালানো ইত্যাদি কাজকর্মের জন্য। তাঁর রোজকার খাদ্য তালিকায় ছিল –  ● ২৫০ গ্রাম আটার রুটি  ● মাখন  ● সওয়া এক কিলোগ্রাম ছাগলের দুধ  ● চারটে কমলা লেবু  ● দুটো পাতি লেবু  ● ৫০ গ্রাম কিসমিস  ● খাবার সোডা জেনেও প্রাণ কাঁদে। কি কষ্টেই না থাকতেন তিনি। আর চরকা চালিয়েই তো আমাদের দেশ স্বাধীন হয়েছে… তাই জোর করে চাপিয়ে দেওয়া জাতির জনক কে শুভ জন্মদিন..কিন্তু গান্ধী দেশের জন্য কি করেছিলেন?

শহীদ ভগত সিং কে ফাঁসির মঞ্চে ঝোলানোর সময় “অহিংসা পরম ধর্ম”- এই কথার প্রবর্তক এবং প্রচারক মহান অহিংসাবাদী নেতা মহাত্মা গান্ধী বলেছিলেন, “বৃটেনের বিনাশের বদলে আমরা আমাদের স্বাধীনতা চাই না”। তিনি আরও বলেছিলেন, “ভগত সিং-এর বন্দনার ফলে দেশের সমূহ ক্ষতিসাধন হয়েছে এবং এখনও হচ্ছে। ফাঁসী শীঘ্র কার্য্যকর হোক, যাতে ৩০শে মার্চ, করাচীতে কংগ্রেসের আধিবেশনে কোনপ্রকার বাঁধা বিপত্তি না আসে” অর্থাৎ মহাত্মা গান্ধীর কথা অনুসারে তিনি কাউকে ফাঁসী দেওয়া হিংসা বলে গণ্য করতেন না। শহীদ উধম সিং যখন ইংলাণ্ডে জেনারেল ডায়ার-কে হত্যা করেন তখন মহাত্মা গান্ধী তাঁকে পাগল আখ্যা দেন। তাই প্রসিদ্ধ লেখক শ্রীযুক্ত নীরদ চৌধুরী লিখেছেন, – “গান্ধী পৃথিবীর সবথেকে সফল ভণ্ড।” 
আরও একজন মহান স্বাধীনতা সংগ্রামী শ্রীযুক্ত যতীন দাসকে যখন ইংরেজরা আগ্রায় মৃত্যুদণ্ড দেয়, তখন মহাত্মা গান্ধী আগ্রাতে ছিলেন। যখন মহাত্মা গান্ধী-কে উনার পার্থিব শরীরে মালা দিতে বলা হয় তখন উনি স্পষ্টতঃ অনীহা প্রকাশ করেন। অর্থাৎ মহান শহীদ যতীন দাসের দেশের জন্য এই আত্মবলিদান মহাত্মা গান্ধীর বিন্দুমাত্র সহানুভূতি আদায় করে নিতে সক্ষম হয় নি। অথচ কংগ্রেস এবং মহাত্মা গান্ধী দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ইংরেজ দের সমর্থন করেছিলেন। যতটুকু জানি যুদ্ধক্ষেত্রে কোনো সৈনিক অপর পক্ষের সৈনিককে ভালোবেসে মিষ্টি উপহার দিতে আসে না, সেখানে হিংসার-ই প্রতিফলন ঘটে। আশ্চর্য্য অহিংসাবাদী নেতা ছিলেন আমাদের মহাত্মা গান্ধী।

যখন ১৯৩৯ সালে কংগ্রেস অধ্যক্ষ পদের নির্বাচনে নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু এবং মহাত্মা গান্ধীর মনোনীত প্রার্থী ডঃ পট্টভী সীতারামাইয়া-এর মধ্যে প্রতিদ্বন্দিতা হয় তখন মহাত্মা গান্ধী বলেছিলেন ডঃ পট্টভী সীতারামাইয়া নির্বাচনে পরাজিত হলে তিনি রাজনীতি থেকে সন্ন্যাস (অবসর) নেবেন। বলাবাহুল্য নেতাজী বিপুল ভোটে নির্বাচনে জয়ী হন (অবশ্য পরে মহাত্মা গান্ধীর সম্মান রক্ষার্থে তিনি পদত্যাগ করেন)। যদিও আমরা দেখতে পাই যে মহাত্মা গান্ধী আমৃত্যু সক্রিয় রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন।

তদরূপ মহাত্মা গান্ধীর আরও একটি উক্তি ছিল যে, “পাকিস্তান যদি সৃষ্টি হয় তবে সেটা আমার মৃতদেহের উপরে হবে।” যদিও পাকিস্তান তাঁর (মহাত্মা গান্ধীর) পূর্ণ সমর্থনে সৃষ্টি হয়েছিল। কি অসাধারণ সত্যবাদী ছিলেন আমাদের মহাত্মা গান্ধী তাহা পাঠকরাই বিবেচনা করুন।

মহাত্মা গান্ধী তাঁর জীবনে তিনিটি আন্দোলন (সত্যাগ্রহ)এর সূচনা করেন এবং নেতৃত্ব দেন। আশ্চর্য্যের বিষয় যে সেই তিনটি আন্দোলন-ই তিনি মাঝপথে থামিয়ে (বাদ) দিয়ে দেন। তা সত্বেও ভারতবর্ষে প্রচার করা হয় যে চরকা কেটে মহাত্মা গান্ধী ভারতবর্ষ স্বাধীন করেছিলেন। কি হাস্যস্পদ কথা! ভারতবর্ষের স্বাধীনতা সম্পর্কে ইতিহাসবিদ  আর. সি. মজুমদার লিখেছেন, “ভারতের স্বাধীনতার জয়মাল্য গান্ধীর গলায় পরানো সত্যের সাথে মজা (মস্করা) করার সামিল হবে। এই কথা বলা যে সত্যাগ্রহ এবং চরকা দিয়ে উনি স্বাধীনতা এনেছেন এটা চরম মূর্খতা হবে। সেইজন্য গান্ধী কে স্বাধীনতার ‘নায়ক’ বলা সেইসব স্বাধীনতা সংগ্রামীদের অপমান করা হবে যারা দেশের স্বাধীনতার জন্য নিজের রক্ত বইয়েছিলেন।” ঋষি অরবিন্দ বলেছিলেন – “ভারতবর্ষ ততখানিই স্বাধীন হবে, গান্ধীবাদের আদর্শকে যতখানি সে ঝেড়ে ফেলতে পারবে। “…..

গান্ধীজি’কে কি কারণে শ্রদ্ধা বা সম্মান করবো??

১. গান্ধীজি দঃআফ্রিকায় কোথায় চাকরী করতেন? আবদুল্লা নামে গুজরাটবাসী এক আরব ব্যবসায়ীর কাছে।

২. উনি কত বৎসর বয়সে দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে যোগ দেন?
– মাত্র ৪৬ বৎসর বয়সে!

৩. উনি কি কখনও যুদ্ধ করেছিলেন? হ্যাঁ করেছিলেন তবে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে নয়, ব্রিটিশদের পক্ষ নিয়ে গান্ধীজি তিন তিন বার যুদ্ধ ক্ষেত্রে সশরীরে হাজির ছিলেন এবং ব্রিটিশ সেনাদের সাহায্য করার জন্যে তিন তিন বার ব্রিটিশদের দ্বারা পুরস্কৃত হন। বুয়োর যুদ্ধ, জুলুর যুদ্ধ এবং প্রথম বিশ্বযুদ্ধ।

৪. ওনার ৪ পুত্রের মধ্যে কোন ছেলে স্বাধীনতা সংগামে যোগ দিয়েছিলেন? একজনও নয়। সবকটা ছেলেই অমানুষ তৈরী হয়েছিল, তাই তাদের নাম ইতিহাসের পাতায় স্থান পায়নি, বড় ছেলে তো আবার কালেমা পড়ে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হয়ে করাচির রাজপথে ভ্রমন করে বেড়াত।

৫. স্বাধীনতা সংগ্রামে গান্ধীজির প্রথম ভূমিকা কি?- ১৯২০ তে মুসলিম দুনিয়ার প্রধান খলিফাকে ক্ষমতা ফেরৎ দেওয়ার জন্য ইংরেজের বিরুদ্ধে এক আন্দোলন সংগঠিত করে, হাজার হাজার হিন্দু হত্যা ও ইসলামি করণ সফল করা।

৬. গান্ধীজির সর্বশেষ আন্দোলন কি?- “আমি বেঁচে থাকতে নয়, আমার মৃতদেহের উপর দিয়ে দেশ ভাগ হবে” উনার এই শপথ বিফল হওয়ার পর পাকিস্থানের দাবী অনুসারে বৎসরে ৮০ কোটি টাকা করে দেওয়ার দাবীতে ভারত সরকারকে বাধ্য করতে অনশণে বসা।

৭. গান্ধীজির সর্বশ্রেষ্ঠ রাজনৈতিক কার্য্যকলাপ কি?- কংগ্রেস দলকে নেতাজী মুক্ত করা, ভগৎ সিং ও অন্যান্য মুক্তিকামী সংগ্রামীদের ফাঁসিকে সমর্থন করে, অহিংসা আন্দোলনকে মহিমান্বিত করা। দেশ ভাগের বিরোধীতা বা আরবদাসদের দ্বারা লক্ষ লক্ষ নিরীহ মানুষ খুন ও উৎখাতের বিরুদ্ধে একদিনও অনশনে না বসে উনি অহিংসা আন্দোলনের উৎকর্ষতা প্রমান করেছেন।

৮. গান্ধীজি কিভাবে ও কাদের সাহায্যে নেতা হয়ে উঠেছিলেন?  গান্ধীজি ১৯১৫ সালে ভারতে ফিরলেন ৪৬ বছর বয়সে, আর মাত্র ৬ বছরের মধ্যেই অহিংসবাদী নেতা হয়ে উঠলেন কংগ্রেসের!!

পিছন থেকে ব্রিটিশদের সাহায্য না থাকলে তা অসম্ভব ছিল, কারণ ব্রিটিশ অক্টিভিয়াম হিউম সাহেবের নিজের হাতে তৈরী কংগ্রেস দলটা ব্রিটিশদের কাছে ছিল অনেকটা সেফটি ভাল্বের মত, যার গৌণ কাজ যদিও ছিল ভারতীয়দের নিয়ে ব্রিটিশদের কাছ থেকে ভারতীয়দের পক্ষে বিভিন্ন দাবী দাওয়া আদায় করা, কিন্তু তলেতলে মুখ্য কাজই ছিল ভারতীয়দের দ্বারা তৈরী হওয়া ব্রিটিশ বিরোধী ক্ষোভের আগুন ও হিংসাত্মক আন্দোলনকে সীমিত ও স্তিমিত করে দেওয়া! আর তা বিশ্বাসযোগ্য করে তোলার জন্য কোনো ব্রিটিশ ইংরেজ নয় একটা ভারতীয় মুখ দরকার ছিল, আর সাউথ আফ্রিকার গান্ধীর মধ্যে সেই আপাত বিশ্বাসযোগ্য মুখটা খুঁজে পেয়েছিল ব্রিটিশ শাসকরা, যেই ভাবা সেই কাজ, এরপর গান্ধীকে অহিংসার পূজারী হিসেবে প্রজেক্ট ও প্রমোট করেছিল ইংরেজরা যাতে বিপ্লব ও সহিংস আন্দোলনের পরিবর্তে অহিংস আন্দোলনকে নিয়ন্ত্রণ ও দমন করতে সুবিধে হয় তাদের।

জওহরলাল নেহেরু’র প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পিছনে হাত ছিল গান্ধীজীর। স্বাধীন ভারতে প্রথম প্রধানমন্ত্রী কে হবে এই নিয়ে নির্বাচন হয়েছিল। ১৫ জন ভোট দাতার মধ্যে ১৪ জন উপস্থিত ছিলেন। সেই নির্বাচনে নেহরুকে ১৩-১ ভোটে হারিয়ে জয়ী হয়েছিলেন বল্লব ভাই প্যাটেল। কিন্তু একটা ভোট সমস্ত অঙ্ক বদল করে দেয়। গান্ধীজির ভোট ছিল নেহরুর পক্ষে। বল্লভ ভাই প্যাটেলকে গান্ধীজি বুঝিয়ে নিয়ে পদ নেহরুকে ছেড়ে দেওয়ার কথা বলেন। হয়েও ছিল তাই।

গান্ধী হত্যাকারী নাথুরাম গডসে তাঁর জবানবন্দিতে প্রায় ১৫০ টি কারণ বলেছিলেন গান্ধী হত্যার পিছনে।কথিত আছে, তাঁর মৃত্যু হয়েছিল এক মারাঠী ব্রাহ্মণ যুবকের প্রাণঘাতী আক্রমণে। নাম – নাথুরাম গডসে। যদিও সেই বিশেষ ঘটনার দায়ে শ্রী নাথুরাম গডসে আর তাঁর সহযোগী শ্রী নারায়ণ দত্তাত্রেয় আপটের ফাঁসি হয়েছিল নভেম্বর ১৫, ১৯৪৯এ – সুপ্রীম কোর্টের জানুয়ারি ২৬, ১৯৫০এর আবির্ভাবের ৭১ দিন পূর্বে। অর্থাৎ এই দুই নির্দিষ্ট ব্যক্তির পরিবারবর্গ কাঙ্খিত আনুকূল্য পায়নি পূর্ব পাঞ্জাব কোর্টের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে উচ্চতর ন্যায়ালয়ের কক্ষে appeal করার।  তাঁর মৃতদেহের কোনরূপ necropsy/post-mortem examination হয়নি এবং এই অমোঘ প্রমাণ বিনাই এক murder trial হল, ফাঁসিকাষ্ঠে চড়তেও হল দুজনকে, গডসের একান্ত ইচ্ছা case টি Privy Council এ পাঠানোর এবং সেইরূপ অনুরোধও নাকচ হলো তাঁর শ্রেষ্ঠতম শিষ্যের পেয়াদাদের দরবারে এবং তাঁর শেষ যাত্রার ছায়াসঙ্গী আভা ও মনু গান্ধীকে prime witness রূপে আদালতে পেশ করাও হল না।…… অতএব, তাঁর মৃত্যুর উপাখ্যান কথিত প্রত্যেক অর্থেই। এবং গান্ধীর মৃত্যুর কয়েক ঘন্টার মধ্যেই যে তাঁর অহিংসা তত্ত্বের হাস্যকর ও অসাঢ় ধ্বজা ছুঁড়ে ফেলে কংগ্রেস পাল্টা চিৎপাবন ব্রাহ্মদের গণহত্যায় মাতলো – তাও মনে রাখা এক আবশ্যিক কর্তব্য। তিনি অবশ্যই শ্রী মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী, হত্যাজনিত মৃত্যুর প্রায় আটদশক পরেও যাঁর উপস্থিতি বঙ্গভূম ছাড়া বাকি ভারতবর্ষে এখনও ঈর্ষনীয়।

বাঙ্গালীদের সাথে দ্বৈরথ/সঙ্ঘর্ষ কোথায় গান্ধীর? তিনি বাঙ্গালীদের কাছে আসতে চেয়েছেন যদিও বিভিন্ন সময় ও কার্যের মাধ্যমে তাঁর বাঙ্গালী বিদ্বেষ প্রকাশিতও হয়েছে। রবীন্দ্রনাথকে তিনি সংকটে অর্থসাহায্যও করেছেন। যদিও কবিপুত্র রথীন্দ্রনাথের মতে,  তাঁর পরিবর্তে যা নিয়েছেন তা অপরিমেয়। 

আর বাঙ্গালীর সাথে তাঁর সম্পর্ক? এতবড় political swindler র মুখোমুখি আর হয় নি বাঙ্গালী। তিনি বাঙ্গালী হিন্দুকে ব্যবহার করেছেন, করার চেষ্টা করেছেন নিজ স্বার্থে এবং সর্বপ্রথম বাঙ্গালীকেই বিসর্জন দিয়েছেন তথাকথিত দেশাত্মবোধে, collateral damage রূপে। নতুবা গত ৩০র দশকের মধ্যভাগ পর্যন্ত শিক্ষা-শিল্প-বাণিজ্য-সশস্ত্র প্রত্যাঘাতে ভারতীয় উপমহাদেশে শ্রেষ্ঠতম বাঙ্গালী হিন্দুর একশত বছরের মধ্যে এহেন অবিশ্বাস্য পতন হয় না। 

বিপ্লবী সাধক শ্রী পঞ্চানন চক্রবর্তীর মতে বাঙ্গালীর বৃহত্তম অপরাধ বা পাপ ছিল ১৯২১-২২ সালে গান্ধীর এক বছরের মধ্যেই স্বাধীনতা এনে দেওয়ার আশ্বাসে বিশ্বাস রাখা। সেই অপার বিশ্বাসভঙ্গই বঙ্গের সশস্ত্র বিপ্লবী সংগ্রামে রাহুর মতো উপস্থিত হয় – অন্তর্দলীয় কোন্দল, অনুশীলন-যুগান্তরের মধ্যে অহি-নকুল সম্পর্ক, ক্রমশ আনন্দমঠ থেকে দাস ক্যাপিটালে যাত্রা গণবিপ্লব গড়ে তোলার জন্য (মুক্তিসঙ্ঘ বা বিপ্লবী বেঙ্গল ভলান্টিয়ার্স একমাত্র ব্যতিক্রম) শুরু করল বাঙ্গালীর ধীশক্তি ও শ্রেষ্ঠত্বের পতন। অবশ্যই এসব একমার্গিক নয়: বাঙ্গালীর অতীব সক্রিয় গান্ধী-বিরোধীতা প্রকাশিত হয়েছে এর মধ্যেই। 

অসহযোগ আন্দোলন নিয়ে ওঁর সাথে রবীন্দ্রনাথের বিরোধ, ‘৩৩ এ মেদিনীপুরে বিপ্লবীদের সাথে ওঁর  সাক্ষ্যাৎ, মতের আদান-প্রদান ও তাঁর দ্বারা অতি সযত্নে গড়ে তোলা নিজস্ব অহিংস মতবাদের সমূহ পরাজয়, যতীন দাশের ক্ষেত্রে ওঁর নির্লিপ্ততা ও বিরোধ, ‘৩৭ এ কৃষক প্রজা পার্টির সাথে কংগ্রেসের সরকার না গড়ার সিদ্ধান্ত (ওঁর ই প্রভাবে এবং যা বঙ্গভাগের অধ্যায়ের সূচনা করল) ও অবিভক্ত বঙ্গের হিন্দুরা দ্রুত দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিকে পরিণত হল, ‘৪৩ র মন্বন্তরের সময় ব্রিটিশ কার্যকলাপ সংক্রান্ত ওঁর কার্যত মৌনব্রত অবলম্বন, নোয়াখালীতে ওঁর ভ্রমণ (ওটি একটি political stunt ছাড়া কিছুই নয়..তাতে কোন উপকারই হয়নি)…

‘৪৬-র কলকাতা, নোয়াখালীর ভয়ঙ্করতম হিন্দু নিধনের পরেও ওঁর জিন্নার কাঁধে হাত দিয়ে সহাস্যে ছবি তোলা….থেকে ‘৪৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বেলেঘাটার হায়দারি মঞ্জিলের সামনের রাস্তায় বাঙ্গালী যুবা কর্তৃক বোমা বিস্ফোরণ, রাত্রে মঞ্জিলে বাঙ্গালী হিন্দুদের সশস্ত্র হামলা, তাঁর ওপরে  মারণ আঘাতের আশঙ্কা (অন্তত দুটি অঞ্চলে – কলেজ স্ট্রীট ও বড়বাজার – সূত্র: – “হস্তান্তর” – শ্রী শঙ্কর ঘোষ) ও সেই সূত্রে আইবি র দ্বারা ওঁকে প্রায় জোর করে দিল্লী এক্সপ্রেসে মধ্যরাত্রে তুলে দেওয়া (হাওড়ার পরিবর্তে বেলুড় স্টেশন থেকে কারণ হাওড়া ওঁর পক্ষে আর safe ছিলোনা) পর্যন্ত।………….
বাঙ্গালী হিন্দু কি গান্ধীজিকে এতো সহজে ভুলতে পারে!! আমরা তো অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত একে অপরের সাথে সর্বনাশের মাধ্যমে। আমাদের সর্বনাশ আর তাঁর একান্ত শিষ্য তথা গুণগ্রাহী তথা মানসপুত্র জওহরলালের পৌষমাস। আজ সর্বভারতীয় আদিখ্যেতা দিবস, সাধারণ মানুষ থেকে রাজনীতির ব্যবসায়ী আজ সবার আদিখ্যেতা দেখে প্রাণ ওষ্ঠাগত হবার জোগাড়, আদর্শ, নীতির মাপকাঠিতে নিতান্ত খেলো একজনকে নিয়ে এই আদিখ্যেতা আমি মন থেকে মেনে নিতে পারি না। অথচও সময়ের পরিহাস একশ্রেণীর ধান্দাজীবী তাঁকে বানিয়ে দিলেন জাতির জনক! এর থেকে দুর্ভাগ্যের আর কি থাকতে পারে।

সর্বোপরি যে মহাত্মা নিজের পুত্রের লাম্পট্য, নিজের পুত্রের অসংযমী জীবনকে সংশোধন করতে পারেন নি, নিজে ব্রহ্মচর্য পালনের নামে শেষ দিন অবধি ব্যভিচার করে গেলেন। অগ্নিযুগের মহান বিপ্লবীদের জীবন, কর্মকাণ্ড কে প্রতিপদে তুচ্ছতাচ্ছিল্য, অপদস্থ করে গেছেন, আজাদ হিন্দ ফৌজের বীর সেনানীদের পাশে অবধি দাঁড়ান নি, দেশ ভাগের মূল হোতা এমন মহান ব্যক্তি কি সত্যিই জাতির জনক সম্মানের যোগ্য!!৪৬ র কলকাতা, নোয়াখালীর ভয়ঙ্করতম হিন্দু নিধনের পরেও ওঁর জিন্নার কাঁধে হাত দিয়ে সহাস্যে ছবি তোলা, নেতাজির মতো দেশ বরেণ্য নেতাকে সুকৌশলে কংগ্রেস থেকে বিতাড়িত করা কি বাঙালি ভুলে গেছে! না ভোলেনি, যেমন ভুলতে পারবে না দেশভাগের ফলে পূর্ব বঙ্গ তথা ইস্ট পাকিস্থান থেকে বাঙালি হিন্দুর ঘটি, বাটি সব ছেড়ে ছুড়ে উদ্বাস্তুর জীবন যাপন কি এতো সহজে ভুলে যাওয়ার?তাই এহেন জাতির জনক প্রত্যেক ২রা অক্টোবর বার বার ফিরে আসেন, আমাদের পূর্বপুরুষ কৃত ভুলের আর সর্বনাশের স্মৃতি রোমন্থনের মাধ্যমে।

(তথ্যসূত্রঃ

১)আম্বেদকর Vs গান্ধী”

২)গান্ধীজির অপকর্ম”,

৩) “আমি সুভাষ বলছি”,

৪)” সুভাষ ঘরে ফেরে নাই”,

৫) “গান্ধীর অটোবায়োগ্রাফি”, “My Experiment with truth”, 

এবং হিস্টোরিয়ান নীরদ চৌধুরী, আর সি  মজুমদার এবং নানান গ্রন্থ থেকে।

We are not big media organisation. Your support is what keeps us moving. Don’t hesitate to contribute because, work, for society needs society’s support. Jai Hind.

We are not big media organisation. Your support is what keeps us moving. Don't hesitate to contribute because, work, for society needs society's support. Jai Hind.

1 COMMENT

  1. বন্য-রা বনে সুন্দর
    শিশু মায়ের কোলে
    মুখের জ্বলে অন্তর
    বিঙ্গো হবার ছলে।

Comments are closed.