ভারতে গণতন্ত্রের প্রথম হত্যা করেন গান্ধীজি

0
122

অনুবাদক: সূর্য শেখর হালদার

(ইংরেজি ভাষায় সংবাদটি প্রকাশিত হয় bharatvoices.com নামক সাইটে 28 শে সেপ্টেম্বর 2020)

ভাগ্যবশত: স্বাধীনোত্তর ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী রূপে আমরা পেয়েছি জওহরলাল নেহেরুকে। তাঁর এই প্রধানমন্ত্রী হবার পিছনে রয়েছে ঘটনাক্রম । এই ঘটনাক্রমের ফলাফল আমরা আজও ভোগ করছি । আসুন, আমরা ফিরে তাকাই সেই ইতিহাসের দিকে: ভারতের ইতিহাসের সেই উল্লেখযোগ্য ঘটনাবলীর দিকে।

এটা ছিল সেই সময় যখন ভারত ছিল পরাধীন । কিন্তু আস্তে আস্তে এটা বোঝা যাচ্ছিল যে ভারতের স্বাধীনতা বেশি দূরে নেই। তার কারণ ছিল অনেক। তার মধ্যে রয়েছে সশস্ত্র অভ্যুত্থান যা ব্রিটিশদের বিব্রত করছিল। আজাদ হিন্দ ফৌজের সশস্ত্র সংগ্রাম এবং তার ফলশ্রুতিতে দেশপ্রেমের যে প্রবাহ সারা ভারতজুড়ে বয়ে যায় তাতে সমগ্র দেশ জুড়ে ব্রিটিশবিরোধীতার আবহ তৈরি হয়। ভারতীয় বিপ্লবীদের যেমন বীর সাভারকর এর উপর ব্রিটিশদের অত্যাচার ভারতীয় জনমানসে সচেতনতা নিয়ে আসে । সেই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে চলা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ব্রিটিশ সরকারকে দুর্বল করে দিয়েছিল । এইসব কারনেই দেশপ্রেমিক ভারতীয়রা ভাবতে আরম্ভ করেন যে আমাদের স্বাধীনতা আর দূরে নেই।

এই ভাবনা দেশের মধ্যে রাজনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধি করে। জাতীয় কংগ্রেস যেহেতু স্বাধীনতাপূর্ব ভারতের প্রধান রাজনৈতিক দল ছিল, তাই এই দলের তৎপরতা ছিল তুঙ্গে। মহাত্মা গান্ধী জাতীয় কংগ্রেসের নির্বাচিত সভাপতি ছিলেন না, কিন্তু জাতীয় কংগ্রেসের মধ্যে তিনি ছিলেন সর্বেসর্বা । তিনি তাঁর ইচ্ছামত কারো কোন রকম বক্তব্যের তোয়াক্কা না করেই দল চালাতেন। তাঁর নিয়ন্ত্রণ দলের মধ্যে এতটাই ছিল যে তাঁর বিরুদ্ধে কেউ কথা বললে, কিংবা কেউ কোন ঘটনার প্রেক্ষিতে বিকল্প মতামত পেশ করলে, তিনি শুধু অপমানিতই হতেন না বরং তাঁকে কংগ্রেস ছাড়তে হত। কিংবদন্তি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, ডক্টর ভীম রাও আম্বেদকর এইরকম অনেক নেতাদের মধ্যে দুই বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব যাঁরা এই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েছিলেন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, ভারত ছাড় আন্দোলন ইত্যাদি বিভিন্ন কারণে 1946 খ্রিস্টাব্দের এপ্রিলের আগে কংগ্রেসের সভাপতি নির্বাচন করা সম্ভব হয়নি । শেষ সভাপতি নির্বাচন হয় 1940 খ্রিস্টাব্দে। তখন সভাপতি নির্বাচিত হন মৌলনা আবুল কালাম আজাদ । এভাবে মৌলনা আজাদ ছয় বৎসর ধরে জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি রয়ে যান । 1946 খ্রিস্টাব্দ থেকে রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটতে থাকে। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদীদের সঙ্গে বোঝাপড়া করে ভারত স্বাধীনতার দিকে অগ্রসর হতে থাকে ।তবে তখনো অনেক বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যায়নি।

এই সময় এই বিষয়টা পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল যে কংগ্রেস সভাপতিই অন্তরীণ সরকারের প্রধান হবেন। কংগ্রেস 1946 খ্রিস্টাব্দের নির্বাচনে যে পরিমাণ আসন জিতেছিল তাতেই বিষয়টি পরিষ্কার হয়েছিল। এভাবেই কংগ্রেস সভাপতির পদ তখন খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পড়েছিল। এই সময় গান্ধীজি খোলাখুলি সমর্থন করেন নেহেরুকে। কি কারণে তিনি নেহেরুকে সমর্থন করতেন, সেটা অবশ্য শুধু তিনিই জানতেন। গান্ধীজীর খোলাখুলি সমর্থন নেহেরুর উপর থাকলেও, কংগ্রেস দল এই পদের জন্য সর্দার প্যাটেলকে প্রচন্ডভাবে চাইত । ফলশ্রুতি রূপে তিনি হতে পারতেন স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী।

কংগ্রেস সভাপতি নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন পেশের শেষ দিন ছিল 29 এপ্রিল, 1946, এবং এর মধ্যে 15 টি প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির 12টি প্রদেশ কমিটি সর্দার প্যাটেলকে মনোনীত করে। বলাবাহুল্য যে কংগ্রেসের প্রদেশ কমিটিগুলির ক্ষমতা ছিল সভাপতি মনোনীত এবং নির্বাচিত করার । এখানে এটা বিশেষ উল্লেখের দাবি রাখে যে প্রদেশ কমিটি দের সর্দার প্যাটেলকে পছন্দ হলেও গান্ধীজী ইতিমধ্যেই দলের মধ্যে এটা স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন যে পরবর্তী সভাপতি রূপে তাঁর পছন্দ জওহরলাল নেহেরু। এখানে গান্ধীজীর পছন্দের সঙ্গে প্রদেশ কমিটির পছন্দের বৈপরীত্য তৈরি হয়। প্রদেশ কমিটির সমর্থন স্পষ্টতই ছিল সর্দার প্যাটেলের দিকে। প্রদেশ কমিটিগুলি সর্দার প্যাটেলকে পরবর্তী সভাপতি এবং স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চাইত । বাকি তিনটি কমিটি যারা সরদার প্যাটেল কে মনোনীত করেনি, তারা নেহেরুকেও মনোনীত করেনি। এভাবে দেখা যায় যে 29 এপ্রিল 1946, যেইদিন মনোনয়নপত্র পেশের শেষ দিন, সেইদিনও নেহেরু মনোনীত হলেন না। যাইহোক গান্ধীজীর অনুরোধে জে.বি. কৃপালিনী নেহেরুর নামের প্রস্তাবকারী এবং সমর্থক অন্বেষণে সচেষ্ট হন। AICC এর মধ্যে এবং ওয়ার্কিং কমিটির মধ্যে কিছু সদস্যকে তিনি পেয়ে যান। কিন্তু তা সত্ত্বেও কোন প্রদেশে কমিটি নেহেরুর নাম মনোনীত করল না। মনে রাখতে হবে প্রদেশ কমিটিগুলির হাতেই কিন্তু সভাপতি নির্বাচনের বৈধ ক্ষমতা থাকত।

এই নাটক সম্পূর্ণ হতে তখনো বাকি ছিল । AICC এর মধ্যে যাঁরা গান্ধীজীর ব্যবস্থাপক ছিলেন, তাঁরা কয়েকজন অবৈধ প্রস্তাবকারী পেয়েছিলেন, কিন্তু তাঁরা এটা জানতেন যে নেহেরুর নামের ওপর তাঁরা ততক্ষণ জোর দিতে পারবেন না, যতক্ষণ না পর্যন্ত সভাপতি পদের জন্য বৈধভাবে প্রস্তাবিত সর্দার প্যাটেল তাঁর মনোনয়ন তুলে না নেন। এই সময়ে সর্দারের কাছে এই ইঙ্গিত গেল যে গান্ধীজীর ইচ্ছা অন্য কিছু। ভাগ্যের এমনই খেলা যে সর্দার এই ব্যাপারে গান্ধীজীর উপদেশ চাইলেন, আর গান্ধীজী নেহেরুর পক্ষে বললেন। যাই হোক এটাও বলা হয় যে গান্ধীজী সর্দার প্যাটেলকে উপদেশ দেবার আগে নেহেরুর থেকে জেনে নেন যে তিনি সভাপতি নির্বাচনে কোনভাবেই দ্বিতীয় হতে রাজি নন এবং তারপরেই নেহেরুর পক্ষ নেন। এখানে প্রশ্ন হল কংগ্রেসের মধ্যেকার গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বিনষ্ট করার গান্ধীজী কে? এইভাবে কংগ্রেসের পরবর্তী সভাপতি এবং স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের তিনি কে? নেহেরুরই বা কি এমন কর্তৃত্ব ছিল যে তিনি নির্বাচনে দ্বিতীয় হওয়া সহ্য করতে পারবেন না?

কিন্তু ভাগ্যের এমনই খেলা যে সর্দার প্যাটেল গান্ধীজীর পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করলেন এবং তারই ফলাফল স্বরূপ নেহেরু হলেন পরবর্তী কংগ্রেস সভাপতি এবং স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী।

আশ্চর্য হবার বিষয় এটাই যে গান্ধীজী যদি সেদিন তাঁর প্রতি আনুগত্যকে কংগ্রেস সভাপতি নির্বাচনের শর্ত না করে, দেশের কথা চিন্তা করে এই পদে নির্বাচন হতে দিতেন, তাহলে আজকে দেশকে জম্মু-কাশ্মীর সহ বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে ভুগতে হত না।

আজকের দিনে ছদ্ম সেকুলার রাজনৈতিক দলগুলি নিজেদের গণতন্ত্রের ধারক বলে মনে করে, এবং যখনই তথাকথিত সাম্প্রদায়িক দল যেমন বিজেপির কাছে নির্বাচনী যুদ্ধে পরাজিত হয়, তখনই ইভিএম হ্যাকিংয়ের অভিযোগ তোলে । কিন্তু স্বাধীনতা-পূর্ব ভারতে গান্ধীজীর এই কার্য একপ্রকার ইভিএম হ্যাকিংই ছিল । এই অনৈতিক কার্য সর্দার প্যাটেলকে স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হতে দেয়নি এবং দেশকে মহান সর্দারের সেবা থেকে বঞ্চিত করে। এটি একটি জাতিগত বঞ্চনা যার জন্য দায়ী গান্ধীজী।

We are not big media organisation. Your support is what keeps us moving. Don’t hesitate to contribute because, work, for society needs society’s support. Jai Hind.

We are not big media organisation. Your support is what keeps us moving. Don't hesitate to contribute because, work, for society needs society's support. Jai Hind.

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here