শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা এবং সংস্কৃত- প্রথম পর্ব

0
11


© পন্ডিত সুভাষ চক্রবর্তী


প্রথম অনুবাক

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা শ্রীভগবানের শ্রীমুখনিঃসৃত জীবনবেদ। সমগ্র মানবজাতির নানা ধর্ম-মত, ঈশ্বরকে পাওয়ার নানা পথের স্রোত এসে মিশেছে গীতার মহাসমুদ্রে। আঠারো দিনের পরিণতি হয়েছিল যে-ভারতযুদ্ধের, আঠারোটি অধ্যায়ে মহাযোগ শ্রীভগবান
তাঁর একান্ত সখা, অনুরাগী, ঈশ্বর-অভিমুখী, আস্পৃহ এক ব্যষ্টি-আত্মাকে উপদেশ দিয়েছিলেন। জীব-আত্মার
দেহপ্রাণমনবুদ্ধিঅন্তঃকরণে যে- আচ্ছনতার অস্পষ্টতা
ছিল, মিথ্যা ধারণার যে-ব্যামোহজাল অর্জুনের
মনকে অভিভূত করে ফেলেছিল এই উপদেশের
তীব্র শক্তি অর্জুনকে সেখান থেকে সবলে তুলে এনে
সত্যের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে ছিল। সমগ্র মানবজাতির কাছে আমাদের আবেদন—-জাতি, বর্ণ, ধর্ম, সম্প্রদায় নির্বিশেষে ঈশ্বরের শ্রীমুখ-স্ফুটিত যে- বাণী লিপিবদ্ধ তা সকলের হৃদয়-নিঃসৃত ভাষা, বাগ্-বৈভবে অলংকৃত ধ্বনি—- সংস্কৃত ভাষা।

শ্রীগীতার তত্বের গভীরে ডুব দিতে গেলে অবশ্যই নিজের কণ্ঠে, মুখ-গহ্বরে, শ্বাস-প্রশ্বাসে, নাসিকা-মধ্যে, কর্ণে এই সংস্কৃত শব্দরাজির অবস্থান, উৎস ও নিঃসরণ সঠিকভাবে বুঝতে হবে। সঠিক উচ্চারণ বিষয়ের সঠিক ভাববস্তুতে পৌঁছে দেয় ।


দ্বিতীয় অনুবাক

সংস্কৃত শব্দ সঠিকভাবে উচ্চারণের আগে একথা বলা
অপ্রয়োজনীয় হবে না যে সংস্কৃত ভারতীয় ভাষার জননী এবং সংস্কৃত থেকে বিবর্তিত হয়ে পূর্বভারতে যে-
ভাষাগুচ্ছের সৃষ্টি হয়েছিল তার অন্যতম হল মাগধী প্রাকৃত ভাষা। এই প্রাকৃত থেকে যে চারটি আঞ্চলিক
অপভ্রংশের জন্ম হয়েছিল সেগুলি হচ্ছে বাংলা, বিহারী,
উড়িয়া ও অসমিয়া। এই অপভ্রংশিত ভাষা থেকে উপভাষার স্তর পেরিয়ে চারটি ভাষার সৃষ্টি হয়। বাংলা
ভাষার নিজস্ব ব্যাকরণ–তার উচ্চারণ পদ্ধতি, শ্বাসাঘাত, হ্রস্ব-দীর্ঘ স্বরক্ষেপ, ছন্দ ইত্যাদিতে সংস্কৃত ব্যাকরণ থেকে কিছু পার্থক্য আছে। সংস্কৃত পড়ার সময় এগুলি
মাথায় থাকলে ভুল উচ্চারণ হবে না।

*স্বরবর্ণ ‌ :—অ ই উ ঋ
হ্রস্বস্বর(একমাত্রা)
‌ আ ঈ ঊ এ ঐ ও ঔ
দীর্ঘস্বর (দ্বিমাত্রা)
*ব্যঞ্জনবর্ণ :—বাংলার মতই
উচ্চারিত হয়।
বাংলায় রাম উচ্চারিত হয়
রাম্ (শেষে হসন্ত )
সংস্কৃতে রাম(শেষে হস্ নয়)

কিছু বর্ণের ধ্বনিবৈশিষ্ট্য :—
ন উচ্চারণ ন( নাসিকা)
ণ উচ্চারণ(ড়ঁ)(বীণা=বীড়াঁ)
স :জিভ flat থাকে, শ্বাস বের
হবে।(যেমন-সহিত)
শ: জিভ নৌকার মত,শিসের
মত শ্বাস বেরবে (যেমন-
গোশালা)
ষ:জিভ উল্টে তালুতে ঠেকে
জিভের দুপাশ দিয়ে শ্বাস
বের হয় ।(যেমন-বৃষ)
মহাপ্রাণ বর্ণ উচ্চারিত হবে
শ্বাসাঘাতে,বর্গের২য়/৪র্থ বর্ণ
(খ,ঘ,ছ, ঝ,ঠ,ঢ,থ,ধ,ফ,ভ)
উষ্মবর্ণে ভিতর থেকে গরম
হাওয়া বের হয়(হ,শ,ষ,স)
ক্ষ =ক্+ষ~ছ (হিন্দীতে)
ষ~খ(পূর্ব ভারতে)
য/্য :–উচ্চারিত হয় ই+অ
(যেমন: সত্য~সতিঅ)

(ক্রমশঃ)

We are not big media organisation. Your support is what keeps us moving. Don't hesitate to contribute because, work, for society needs society's support. Jai Hind.

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here