মুর্শিদাবাদে আল কায়েদার নেটওয়ার্ক ও পশ্চিমবঙ্গ

0
90

     © পবিত্র রায়                                                                          

পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার সীমান্ত এলাকা থেকে ছ’জন আল কায়েদা জঙ্গি গ্রেফতার হয়েছে।আমাদের মুখ্যমন্ত্রী নবান্নকে না জানিয়ে এইমত গ্রেফতার করায় যথেষ্ট অখুশি হয়েছেন। হয়ত তাঁর জানা ছিল না,বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে গ্রেফতার করতে এন আই এ’কে রাজ্য প্রশাসনের কোনও অনুমতি নেওয়া বা জানানোর বাধ্যবাধকতা নেই-কংগ্রেস শাসনামলেই এইমত আইন পাশ করানো আছে। তবে রাজ্য সরকারের পুলিশ যথারীতি খাগড়াগড় কান্ডের মত অপরাধী আড়াল করার খেলায় মেতে উঠেছে- উদাহরণ উপস্থিত করার  জন্য অমূলক সব যুক্তি উপস্থিত করা শুরু করে দিয়েছে।

     যেমন,একটি খবরের কাগজে খবর হিসেবে বেরিয়েছে,পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ ওই এলাকায় খোঁজ খবর নিতে গিয়ে না’কি দেখতে পেয়েছে ৭২টি বাড়িতে ওইভাবে সেপটিক ট্যাঙ্ক বানানো আছে।এইমত সেপটিক ট্যাঙ্ক বানানোর কারণ হিসেবে বলা হয়েছে জমির স্বল্পতা।এই কথার অর্থ দাঁড়ায় যে বাড়িতে এইমত গোপণ ঘর পাওয়া গিয়েছে, সেটা আসলে গোপণ নয়, সেপটিক ট্যাঙ্ক মাত্র।   

 কথাটার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ যেমন তদন্ত করতে গিয়েছে,ঠিক সেইমত করে পুলিশের উপরেও তদন্তমূলক কিছু প্রশ্ন করার প্রয়োজন হয়ে পড়ে।যেমন,সেপটিক ট্যাঙ্কের মধ্যে জল ও বিষ্ঠা থাকে,এখানে অস্ত্র ছিল কেন বা উপরে ঢাকনা দেওয়া স্লাব না রেখে মই রাখা হয়েছিল কি উদ্দেশ্যে ? সেপটিক ট্যাঙ্ক বানাতে হলে আউটলেট ও ইনলেট কানেকশন রাখতে হয় দু’রকম উচ্চতায়-সেটা ছবিতে দেখা যায়নি কেন ?সেপটিক ট্যাঙ্ক বানাতে হলে আলাদা করে তিনটি চেম্বার বানাতে হয়, প্রথমটিতে থাকে কাঁচা মল, দ্বিতীয়টিতে থাকে গুঁড়ো হয়ে পড়া মল, তৃতীয়টিতে ফিল্টার জল-যে জলটা আউটলেট দিয়ে বাইরে বা সোক পিটে বেরিয়ে যায়। সোক পিট নেই কেন? ট্যাঙ্ক  বানানো রাজমিস্ত্রিকে কি জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে ? শোনা যাচ্ছে, যাঁর বাড়িতে এইমত ট্যাঙ্ক বানানো হয়েছে,সেটা তিনি নিজেই করেছেন। প্রশ্ন হলো, ওই ব্যক্তির কি পূর্ববর্তীতে রাজমিস্ত্রি কাজ করার কোনও সূত্র আছে ? এখনও পর্যন্ত পাওয়া খবরে কিন্তু  তেমন কোনও সূত্র পাওয়া গিয়েছে বলে খবর নেই। তাহলে সঙ্গতভাবেই প্রশ্ন উঠে যায় তিনি একাকী এইমত কাজ করতে গেলেন কেন? শ্রমিক হিসেবে কে’ই বা তাঁকে সহায়তা করেছিল? কারণ শ্রমিক ছাড়া রাজমিস্ত্রি কাজ করা সম্ভব হতে পারে না।  জমি স্বল্পতার কথায় প্রশ্ন উঠে আসে, স্বল্প জমির অর্থ কি-কতটুকু জমি ? শহর এলাকায় দেড় কাঠা জমির উপর বাড়ি করতে হলেও বাড়ির বাইরেই বেশিরভাগ সেপটিক বানানো হয়। ওই এলাকার ৭২ টি বাড়ির সবকটি বাড়িই কি দেড় কাঠার কম ? বহু সঙ্গত প্রশ্নই কিন্তু উঠে আসবে ।     

খবরের সূত্রানুসারে আমরা পত্রিকায় যা দেখতে পাচ্ছি, তাতে করে এন আই এর সামনে না’কি অভিযুক্তরা স্বীকার করেছে পুলওয়ামার ঘটনা তাঁরা আগে থেকেই জানত! লাভ জিহাদ বলে অধুনা কথিত একটি শব্দও তাঁরা না’কি পরিচালনা করে চলেছিল । সুতরাং হিন্দুত্ববাদীদের বলা ‘লাভ জিহাদ’ কথাটা প্রাসঙ্গিকতা পেল শুধু নয়,সত্য বলে মানতে হবে বোধকরি।এঁরা  না’কি মাদ্রাসাকে সামনে রেখে টাকা তুলত ! মাদ্রাসাকে সামনে রেখে টাকা তুলে সেই অর্থ কোথায় খরচ করেছে,সেদিকে সরকার দৃষ্টিপাত করুক।   

 শুধু এদের অর্থ খরচের দিকে নজর দিলেই দায়িত্ব শেষ হবে কি ? বছরে দু’টি ঈদে জাকাত ও ফিতরা হিসেবে বড় অঙ্কের টাকার লেনদেন হয়। এই টাকা যায় কোথায় বা খরচ হয় কোথায়, তার কোনও হিসেব কি এখনও দেখা গিয়েছে? সরকার এই টাকার দিকে নজর দিক ও অডিটের আওতায় এনে প্রতি বছর হিসেব দাখিল করতে বলা হোক।    শেষ পর্বে একটি কথাই বলতে চাই। কথাটা হলো,পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের আচরণ দেখে জনমনে সন্দেহ দেখা দিতে পারে যে এতবড় একটা ঘটনায় এত আড়াল করার প্রবণতা কেন ? তবে কি আমরা সন্দেহ করব যে এই চক্রের সাথে বড় কোনও ব্যক্তিত্বের জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা আছে ? মনে রাখা দরকার এদের জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও বেশ কিছু নাম জানা গিয়েছে। নিরপেক্ষভাবে তদন্ত হোক।জনগণ জানুক আসল সত্যটা কি।  তবে এখনই কিছু বুদ্ধিজীবি যে সত্য লুকনোর খেলায় নেমে পড়েছে,একথা অস্বীকার করা যায় না।

(মতামত লেখকের ব্যক্তিগত)

We are not big media organisation. Your support is what keeps us moving. Don’t hesitate to contribute because, work, for society needs society’s support. Jai Hind.

We are not big media organisation. Your support is what keeps us moving. Don't hesitate to contribute because, work, for society needs society's support. Jai Hind.