‘সংঘ আমার আত্মা’: অটল বিহারি বাজপেয়ী

0
24

অনুবাদক: শ্রী সূর্য শেখর হালদার

(ইংরেজি ভাষায় লিখিত মূল নিবন্ধটি প্রকাশিত হয় 1995 খ্রিস্টাব্দে Organiser এর বর্ষ প্রতিপদ সংখ্যাতে। পুণ: প্রকাশিত হয় www.organiser.org নামক সাইটে বিগত 16 আগস্ট 2020। )

আমি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের সংস্পর্শে আসি 1939 খ্রিস্টাব্দে আর্য কুমার সভার মাধ্যমে। আর্য কুমার সভা তৎকালীন দেশীয় রাজ্য গোয়ালিয়রের আর্য সমাজের একটি যুব শাখা ছিল। প্রসঙ্গত উল্লেখযোগ্য সেই সময় গোয়ালিয়র কোন প্রদেশের অন্তর্ভুক্ত ছিল না।

আমি জন্মেছিলাম কট্টর সনাতনী পরিবারে। আর্য কুমার সভার সাপ্তাহিক সৎসঙ্গে আমি উপস্থিত থাকতাম। একবার আর্য কুমার সভার একজন বরিষ্ঠ কার্যকর্তা, বিশিষ্ট চিন্তাবিদ এবং দক্ষ সংগঠক শ্রী ভূদেব শাস্ত্রী আমাদের জিজ্ঞাসা করলেন: ‘ তোমরা বিকাল বেলা কি করছ?’ আমরা উত্তরে বললাম: ‘ আমরা কিছুই করছি না, কেননা সেই সময় আর্য কুমার সভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হত প্রত্যেক রবিবার সকালে। তখন তিনি আমাদের সংঘের শাখাতে যেতে বললেন। এভাবেই গোয়ালিয়রে আমার সংঘের শাখাতে যাওয়া আরম্ভ হল, আর আমার সঙ্গে আরএসএস-এর যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হল ।সেসময় গোয়ালিয়রের শাখা সবে শুরু হয়েছে । এই শাখাতে তখন কেবল মারাঠি ছেলেরাই ছিল, এবং স্বাভাবিকভাবে সবাই মারাঠিতে কথা বলতো ।আমি নিয়মিত শাখায় যেতে আরম্ভ করলাম। শাখাতে বিভিন্ন ধরনের খেলা এবং সাপ্তাহিক বৌদ্ধিক (বিভিন্ন বিষয়ে বুদ্ধিদীপ্ত আলোচনা )আমার খুব ভাল লাগতো।

নাগপুর থেকে শ্রী নারায়ণ রাও নামক একজন প্রচারক শাখা শুরু করতে আসেন। তিনি ছিলেন এক অসাধারণ ব্যক্তিত্ব, খুব সহজ সরল এক মানুষ, একজন চিন্তাবিদ এবং একজন দক্ষ সংগঠক। তারপরেই আমি যাঁদের দ্বারা অনুপ্রাণিত হই, তাঁরা হলেন শ্রী দীনদয়াল উপাধ্যায় এবং শ্রী ভাউড়াও দেওরসজী। সেই সময় গোয়ালিয়র
দেওরসজীর ক্ষেত্রের অন্তর্গত ছিল। একবার তিনি তৎকালীন বৌদ্ধিক প্রমুখ বালাসাহেব অপ্তেজীর সঙ্গে গোয়ালিয়র এলেন । অপ্তেজী ছিলেন খুব কম কথার মানুষ। আমরা সবাই তাঁর দিকে আকর্ষিত হলাম। আমি তাঁর সঙ্গে কয়েক মিনিটের জন্য কথা বলেছিলাম। সেই বছরই, 1940 খ্রিষ্টাব্দ আমি যখন প্রথম বর্ষের শিক্ষা শিবিরে গেলাম, তখন আমি তাঁর খুব কাছাকাছি এসে ছিলাম । আমি সেখানে সম্পূর্ণ শিক্ষা গ্রহণ করতে যাইনি। আমি গিয়েছিলাম শুধুমাত্র সমারোপ (সমাপ্তি) উৎসবে উপস্থিত থাকতে। ডক্টর হেডগোয়ার (পরম পূজনীয় ডাক্তারজী) তখন সেখানে কিছু সময়ের জন্য এসেছিলেন । আমি প্রথম তাঁকে সেখানেই দেখি। ডাক্তারজী যখন অসুস্থ ছিলেন, তখন আমি তাঁকে দেখতে যাই। 1941 খ্রিস্টাব্দে আমি যখন উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ি, তখন আমি প্রথম বর্ষের শিক্ষা গ্রহণ করি। 1942 খ্রিস্টাব্দে আমি যখন ইন্টারমিডিয়েট এর ছাত্র, তখন আমি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষা গ্রহণ করি । 1944 খ্রিস্টাব্দে B.A পড়বার সময় আমি তৃতীয় বর্ষের শিক্ষা গ্রহণ করি।

আমি যখন হিন্দু তন- মন হিন্দু জীবন রচনা করি তখন আমি দশম শ্রেণীর ছাত্র। আমি গোয়ালিয়র থেকে স্নাতক হবার পর কানপুরের DAV কলেজে থেকে স্নাতকোত্তর( M.A.) করি, কারণ সে সময় গোয়ালিয়রে কোন স্নাতকোত্তর কলেজ ছিল না। আমি তারপর রাজ্য সরকারি বৃত্তি পাই। দেশভাগের কারণে আমি আইনের পাঠ সম্পূর্ণ করতে পারিনি । সেটা 1947 খ্রিষ্টাব্দ। আমি আমার পড়াশোনা বন্ধ করে সর্বসময়ের একজন স্বয়ংসেবক রূপে আত্ম প্রকাশ করলাম। 1947 খ্রিস্টাব্দে পর্যন্ত আমি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের শাখা করতাম এবং পড়াশোনা চালাতাম। 1942 খ্রিস্টাব্দের ভারত ছাড়ো আন্দোলনে আমি অংশগ্রহণ করি এবং কারাগারে বন্দি হই। আমি তখন ইন্টারমিডিয়েট স্তর এ পড়ি। আমি আমার দেশের গ্রাম আগ্রা জেলার ভাতেশ্বর থেকে গ্রেপ্তার বরণ করি। আমার বয়স যখন ষোল।

আমার বাবা আর.এস.এস.-এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না, কিন্তু আমার বড় ভাই যুক্ত ছিলেন। তিনি শাখাতে যেতেন । একবার তিনি এক শীতকালীন শিবিরে গিয়ে সমস্যা তৈরি করেছিলেন। তিনি বললেন:
‘ আমি অন্য স্বয়ংসেবকদের সঙ্গে খাদ্য গ্রহণ করতে পারব না । আমি নিজেই আমার খাবার প্রস্তুত করব।’ দেখুন, আর.এস.এস. দক্ষতার সঙ্গে কিভাবে সেই অবস্থার সামাল দিল। শিবিরের সর্বাধিকারী (সুপারিনটেনডেন্ট) তাঁর সঙ্গে সহমত হলেন এবং তাঁকে আলাদা রান্না করার সামগ্রী সরবরাহ করলেন। স্নান করে যথার্থরূপে উপবীত ধারণ করে তিনি রান্না আরম্ভ করলেন। তিনি প্রথম দিন নিজেই রান্না করলেন দ্বিতীয় দিন তিনি আর রান্না করতে পারলেন না এবং খাদ্য সংগ্রহের জন্য সমস্ত স্বয়ংসেবকদের সঙ্গে একসাথে লাইনে দাঁড়ালেন। 44 ঘণ্টার মধ্যে তিনি পরিবর্তিত হলেন।

আর.এস.এস. শুধুমাত্র ব্যক্তিকে নয়, সমষ্টিকেও পরিবর্তন করে থাকে। আর.এস.এস. এর নীতির সৌন্দর্য এটাই। আমাদের আধ্যাত্বিক ঐতিহ্য অনুযায়ী একজন ব্যক্তি আধ্যাত্বিক বিকাশের চরম উচ্চতায় পৌঁছতে পারেন। সঠিক পথে সাধনার দ্বারা কোন ব্যক্তি আত্মোপলব্ধি কিংবা নির্বাণ লাভ করতে পারেন। কিন্তু সমাজের কি হবে? সাধারণ সমাজের প্রতি দায়িত্ব নিয়ে কেউই চিন্তা করেন না। এখন আর. এস. এস. প্রথমবারের জন্য এই ব্যাপারে চিন্তা করেছে এবং এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে ব্যক্তি নিজেকে পরিবর্তন করে সমাজকে পরিবর্তিত করবে। যদি সেদিন শিবিরের সর্বাধিকারী আমার দাদাকে তিরস্কৃত করতেন এবং তাঁকে স্বহস্তে পাকের অনুমতি না দিতেন, তাহলে তাঁর আত্মোপলব্ধি বাধাপ্রাপ্ত হত, কিন্তু আর.এস.এস. শিবিরে সেই ছেলে মাত্র 44 ঘন্টাতে পরিবর্তিত হল।এটাই হচ্ছে আর.এস.এস এর গোপন পদ্ধতি। এটা সত্যি যে পরিবর্তন এক দীর্ঘ পদ্ধতি, কিন্তু এখানে কোন সংক্ষিপ্ত রাস্তা নেই: কোন তাৎক্ষণিক উপায় নেই।

গান্ধীজী আর.এস.এস. এর প্রশংসা করেছিলেন সংগঠনে অস্পৃশ্যতাকে স্থান না দেবার জন্য । গান্ধীজীর মতে
আর.এস.এস. সমাজকে সংগঠিত করে : অন্য সব আন্দোলন কেবল সমাজে বিভেদ নিয়ে আসে । তারা কখনো বিশেষ পরিচয়, বিশেষ সুবিধা , বিশেষ মর্যাদা ইত্যাদির ভিত্তিতে ভেদাভেদ করে। তারা শুধু অস্পৃশ্যকে সমাজ থেকে তার বিচ্ছিন্নতার কথা মনে করিয়ে দিয়ে অস্পৃশ্যতা কে উৎসাহ দান করে। তাদের বুঝিয়ে দেয় ‘তোমরা এর দ্বারা অপমানিত হচ্ছ। সমাজে তোমার কোন স্থান নেই।’

আর.এস.এস. এর সামনে এখন দু ধরনের কাজের দায়িত্ব ।একটি হল হিন্দুদের সংগঠিত করা। জাতপাত এবং অন্যান্য কৃত্রিম বিভাগের উপরে উঠে সুসংবদ্ধ একটি শক্তিশালী হিন্দু সমাজ গঠন। কিন্তু কিছু পার্থক্য থাকবেই। কারণ মনে রাখতে হবে বৈচিত্র্য হলো জীবনের মশলা, যেমন আমাদের ভাষাগত ভিন্নতা রয়েছে। আমরা এটা ধ্বংস করতে চাইনা। আরেকটি কাজ হল অহিন্দুদের মূলস্রোতে একত্রিতকরণ ।‌অহিন্দু বলতে বোঝায় মুসলিম, ক্রিশ্চান ইত্যাদি ধর্মের মানুষকে। তাঁরা তাঁদের নিজেদের ধর্ম সাধনা করতেই পারেন। তাতে কারোর বাধা দান করার কিছু নেই। আমরা গাছপালা, পশুপাখি, পাথর এবং আরো অনেক কিছু পূজা করি । আমাদের ঈশ্বর পূজনের অনেক রকম পদ্ধতি আছে। তাঁরা যেখানে ইচ্ছা যেতে পারেন কিন্তু তাঁদের দেশকে অবশ্যই মাতৃভূমি রূপে দেখা উচিত । তাঁদের মনে এই দেশের প্রতি দেশপ্রেমের অনুভূতি থাকা উচিত , কিন্তু ইসলামের আদর্শে পৃথিবীকে দার – উল – ইসলাম এবং দার – উল – হারাম – এই দুই ভাগে বিভেদ, এই কাজে বাধা দান করে। ইসলাম ধর্মালম্বীদের এখনো কোন দেশে সংখ্যালঘু হিসেবে অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা এবং জীবনের মান উন্নয়ন করার উপায় শিখতে হবে । তাঁরা সমগ্র ভারতকে ইসলামে ধর্মান্তরিত করতে পারবেন না। সর্বোপরি তাঁদের এখানে থাকতে হবে। সুতরাং তাঁদের বাস্তবকে বুঝতে হবে। আজকে এটা অনেক ইসলামিক দেশে একটা গুরুত্বপূর্ণ এবং গভীরভাবে ভাবার বিষয়, কেননা এই প্রসঙ্গে কুরআন কোন পথনির্দেশনা করছে না । কুরআন শুধুই কাফিরদের ও অমুসলমান মারা অথবা ধর্মান্তরিত করার কথা বলে থাকে। কিন্তু তাঁরা সর্বদা এবং সব স্থানে এটা করতে পারেন না। তাঁরা কিভাবে এটা করবেন, যেখানে তাঁরা সংখ্যালঘু?যদি তাঁরা এটা করতে যান, তাহলে প্রবল সংঘর্ষ হবে এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষই মারা পড়বেন। তাই মুসলিমদের নিজেদের অবস্থান বদলাতে হবে। আমরা তাঁদের জন্য নিজেদের পরিবর্তন করতে পারব না।

কংগ্রেস যথার্থভাবে মুসলিমদের সমস্যা বুঝতে পারেনি। তাঁরা তাঁদের মুসলিম তোষণের নীতি চালিয়ে গিয়েছেন। কিন্তু তার ফলাফল কি? এদেশের মুসলিমদের সঙ্গে তিনটি পদ্ধতিতে ব্যবহার করা সম্ভব একটি হলো ‘তিরস্কার’ – যদি তাঁরা নিজেদের পরিবর্তন না করেন, তাহলে তাঁদের একা ছেড়ে দাও । তাঁদের আমাদের সহনাগরিক ভাবার প্রয়োজন নেই । দ্বিতীয় হচ্ছে ‘পুরস্কার’- যেটা হলো তোষণ। এই পদ্ধতিতে তাঁদের ঘুষ দিয়ে বা কিছু পাইয়ে দিয়ে সঠিক ব্যবহার করানো হয়। কংগ্রেস এবং তাঁদের মত অন্যান্য সংগঠন এই কাজ করে থাকে। তৃতীয় পদ্ধতি হল ‘পরিষ্কার’ – এটা হল তাঁদের পরিবর্তন করা। তাঁদের সংস্কার শিখিয়ে মূলস্রোতে পুনঃস্থাপন করা। আমরা চাই তাঁদের সঠিক সংস্কার শিখিয়ে তাদের পরিবর্তন করতে। তাঁরা তাঁদের নিজেদের বিশ্বাসকে মর্যাদা দিক। মক্কা তাঁদের কাছে পবিত্র স্থান হোক, কিন্তু ভারত ভূমি তাঁদের কাছে পবিত্রতর হওয়া উচিত। আপনারা মসজিদে যেতে পারেন, নামাজ করতে পারেন, রোজা রাখতে পারেন, আমাদের কোন সমস্যা নেই। কিন্তু যদি মক্কা এবং ইসলাম আর ভারতের মধ্যে পছন্দ করতে হয়, তখন আপনাদের ভারতকে পছন্দ করা উচিত। প্রত্যেক মুসলিমের এই উপলব্ধি হওয়া উচিত যে আমরা এই ভারত ভূমির জন্যই বাঁচবো এবং বলিদান দেব।

আমি যখন দশম শ্রেণীতে পড়ি তখন হিন্দু তনমন হিন্দু জীবন এ লিখেছিলাম:

“कोई बतलाए काबुल में जाकर कितनी मस्जिदें तोड़े”
(কেউ বলে দাও কাবুলে গিয়ে কতগুলো মসজিদ ভাঙ্গা হয়েছে)

আমি এখনো নিজের বক্তব্য থেকে সরছি না। কিন্তু আমরা হিন্দুরা অযোধ্যার বাবরি ধাঁচা ধ্বংস করেছি। ইতিহাসে এটাই প্রথম বার যখন হিন্দুরা নিজেরাই নিজেদের পূজা স্থল ধ্বংস করেছে। আসলে এটা হচ্ছে মুসলিম ভোট ব্যাংকের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া। আমরা চেয়েছিলাম আইন এবং আলাপ আলোচনার মধ্য দিয়ে এই সমস্যার সমাধান। বাজে কাজের জন্য কোন পুরস্কার হতে পারেনা। আমরা সেই বাজে কাজকে ‘পরিষ্কার ‘ এর মাধ্যমে সংশোধন করেছি ।এবার আমার মনে হয় হিন্দুসমাজ পুনর্জাগরিত হয়েছে, যেটা হলো আর. এস. এস. এর প্রাথমিক কাজ। আগে আক্রমণের সম্মুখে হিন্দুরা ঝুঁকে যেত, কিন্তু এখন তা হয় না । হিন্দু সমাজে এই পরিবর্তন অবশ্যই অভিনন্দন জানাবার মত । এই নতুন আত্মপ্রত্যয়ের দ্বারা অনেক পরিবর্তন অবশ্যই আসবে। এটা হল আত্ম সংরক্ষণের প্রশ্ন । যদি হিন্দু সমাজ নিজেকে না বিস্তারিত করে, তবে এই সমাজ অস্তিত্বের সংকটে পড়বে। তাই আমাদের নিজেদের বিস্তার করতে হবে।

আমাদের চলার পথে অন্যদেরও সঙ্গে নিতে হবে। এখন যাদব আর তথাকথিত হরিজনরা আমাদের সঙ্গে আছে। সর্বোপরি আমাদের হিন্দু হয়ে বাঁচতে হবে। একবার এক যাদব নেতা আমার কাছে এলেন এবং বললেন: ” সব যাদবদের নিন্দা করবেন না। সব যাদব মুলায়ম সিং এবং লালুপ্রসাদের সঙ্গে নেই। সংস্কৃতি সম্পন্ন যাদবরা তাদের পছন্দ করেন না। আপনি রাজপুত, কুর্মী, গুজ্জর জাতির মধ্যে মুসলিমদের দেখতে পাবেন, কিন্তু কোথাও যাদব মুসলিম পাবেন না। যাদবরা কখনো ইসলামকে স্বীকার করেনি । তাই যাদব মুসলিম ঐক্য (M.Y. কার্ড) শুধুমাত্র একটি শূন্যগর্ভ ভোটের স্লোগান মাত্র।

আমার সংঘের সঙ্গে এতদিনের দীর্ঘ সম্পর্কের কারণ হল আমার সংঘের প্রতি ভালোবাসা। আমি সংঘের আদর্শকে পছন্দ করি এবং সর্বোপরি আমি আর.এস.এসের মানুষের প্রতি আচরণকেও পছন্দ করি। এটা শুধু আর.এস.এস. এর মধ্যেই পাওয়া যায় । আমি যখন লখনৌতে ছিলাম, তখনকার একটি ঘটনাকে মনে করতে পারি। তখন সমাজবাদী আন্দোলন চরমে উঠেছে। হঠাৎ এক বরিষ্ঠ সমাজবাদী কর্মী অসুস্থ হয়ে পড়লেন। তিনি বাড়িতে
একাকি শুয়ে আছেন। কেউ তাঁর ভালোমন্দ খোঁজ নিতে যাচ্ছে না। তখন আচার্য নরেন্দ্র দেও একদিন বিষয়টা জানতে পারলেন, এবং তাঁকে দেখতে গেলেন। আচার্য তখন বলেছিলেন :
“সমাজবাদীদের কি ধরনের ভাতৃত্ববোধ রয়েছে? কেউ আপনাকে দেখতে আসেনি! আর.এস. এসে এটা কখনো হতে পারে না । যদি একজন স্বয়ংসেবক একদিনের জন্য শাখাতে না জান, তাহলে তাঁর বন্ধুরা সেদিনই দ্রুত তাঁর বাড়িতে পৌঁছাবে তাঁর সংবাদ নেবার জন্য।”

জরুরি অবস্থার সময় আমি যখন অসুস্থ হই, আমার পরিবারের লোকেরা আমাকে দেখতে আসেননি। তাঁরা ভয় পেয়েছিলেন যে এইরকম কাজের জন্য তাঁরা গ্রেফতার হতে পারেন। শুধু আর.এস.এস. এর কর্মীরা আমাকে সাহায্য করেছিলেন। দেখুন, কত জীবন্ত এবং ভ্রাতৃত্ব বোধ সম্পন্ন সম্পর্ক এই আর.এস.এস. এর মধ্যে। আসলে সংঘ আমাদের পরিবার । আমরা সবাই এক। শুরুর দিকে আমরা সমাজের সকল স্তরে আমাদের কাজকে বিস্তারিত করতে পারিনি, কারণ আমাদের যথেষ্ট স্বয়ংসেবক ছিল না। আর.এস.এস. এর প্রধান কাজ মানুষ তৈরি। এখন যেহেতু আমাদের স্বয়ংসেবক এর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে, আমরা জীবনের সর্বক্ষেত্রে সমাজের সকল স্তরে পৌঁছানোর চেষ্টা করছি। সর্বক্ষেত্রে পরিবর্তন পরিলক্ষিত হচ্ছে, কিন্তু মানুষ তৈরীর কাজ বন্ধ করা যাবে না । এটা চলবে। এটাকে অবশ্যই চালিয়ে যেতে হবে। এটাই হলো আরএসএসের আন্দোলন।

If you love our work, you can support us by donating a small amount. Thank you.

We are not big media organisation. Your support is what keeps us moving. Don't hesitate to contribute because, work, for society needs society's support. Jai Hind.

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here