বাঙালির ইতিহাস চর্চা ও বাঙালির অপদার্থতা

© বিরিঞ্চি বন্দ্যোপাধ্যায়

আমি ঐতিহাসিক নই বা প্রত্নতাত্ত্বিক নই আমি একজন সাধারণ বাঙালি আর একজন ভারতীয় বাঙালি হিসাবে আমার প্রথম ও প্রধান অধিকার হল বাঙালির সঠিক ইতিহাস, সংস্কৃতির ব্যাপারে সঠিক ভাবে ধারণা রাখা। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক ভাবে ৯০% বাঙালি তাদের সঠিক প্রাচীন ইতিহাস জানেনা বা তাদের জানতে দেওয়া হয়নি।কে জানতে দেয়নি বা কেন জানতে দেয়নি এই প্রসঙ্গ মুলতবি রেখে বরং বাঙালির সঠিক ইতিহাস জানবার চেষ্টা করি।

প্রসঙ্গত বলে রাখি এই আলোচনা শুরুর আগে আমাদের কিছু বিষয়ে সোজাসাপ্টা ধারণা থাকার দরকার।যেমন,,,
১) বাঙালি কারা।
২)বাঙালির অতীত ইতিহাস আমাদের কাছে কেন তমসাচ্ছন্ন।
৩) বাঙালি অতীত ইতিহাস, সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করতে গেলে বর্তমানে আমাদের কোন পথ চলতে হবে।

১)বাঙালি কারাঃ-শৈব্য,শাক্ত,বৈষ্ণব,বিভিন্ন পুরান কেন্দ্রিক মার্গ,নাথ,মহাযান, বজ্রযান,সহজিয়া, জৈন ইত্যাদি হিন্দু,বৌদ্ধ, জৈন মার্গের বিশ্বাসী ভারতীয় সংস্কৃতির উপর আস্থাশীল জনমানসের বিশ্বাসের উপর নির্ভর করেই গুপ্ত পরবর্তী যুগে যে জনজাতি পূর্বভারতে আত্মপ্রকাশ করেন তারাই বর্তমান বাঙালির পূর্বপুরুষ তবে অবশ্যই এর পূর্বেও তাদের অস্তিত্ব ছিল কিন্তু স্বতন্ত্র বাঙলা ভাষা, লিপির জন্ম গুপ্ত পরবর্তী যুগেই।এখানে দুটি কথা মনে রাখতে হবে ১) যে যুগে স্বতন্ত্র বাঙালির আত্মপ্রকাশ সেই যুগে ধর্ম বলতে রিলিজিয়ন বোঝাতো না,ধর্ম বলতে জীবন আদর্শকে সঙ্গে ঈশ্বর বিশ্বাসকে বোঝানো হতো তাই সেই সময় ভারতীয় জীবন আদর্শের দুটি মার্গ ছিল এবং তাদের অসংখ্য শাখাপ্রশাখা ছিল, আধুনিক হিন্দুত্বের জন্ম তখন হয়নি যদিও বিদেশিদের চোখে সকল ভারতীয় হিন্দু নামেই পরিচিত ছিল।সেইসময় ভারতীয়রা দুই মার্গের নানান শাখাপ্রশাখায় বিভক্ত ছিল। মার্গ দুটি হল ১) বৈদিক অনুসারী মার্গ যার মধ্যে শাক্ত,শৈব্য, বৈষ্ণব ইত্যাদি ছিল।২) বেদ বিরুদ্ধ মার্গ যার মধ্যে বৌদ্ধ, জৈন ইত্যাদি ছিল।তবে প্রত্যেকটি মার্গই ছিল ভারতীয় সংস্কৃতি অনুযায়ী। সুতরাং বুঝতেই পারছেন বিজাতীয় কোন সংস্কৃতির অনুসারীরা বাঙালি বলে মান্যতা পায়না তারা বাংলায় কথা বললেও নয়,আবার যে পূর্বতন বাঙালি বিজাতীয় উপাসনা পদ্ধতি গ্রহণ করেও ভারতীয় সংস্কৃতির উপর আস্থাশীল তিনিই ভারতীয় বাঙালি যদিও এই সংখ্যা চোখে পরবার মতো না।

২) আমাদের ইতিহাস কেন তমসাচ্ছন্ন? এর প্রধান ও প্রথম কারণ হল বঙ্গে খুব সহজেই ইসলামের আগ্রাসন ঘটেছিল আর বঙ্গের প্রান্তিক মানুষকে খুব সহজেই ইসলাম ভয়,প্রলোভনে দ্বারা ধর্ম পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়েছিল। বিশেষ করে পূর্ববঙ্গে যেখানে সহজিয়া, বজ্রযানী বৌদ্ধ ও নাথ সস্প্রদায়ের সংখ্যাধিক্য ছিল সেখানে ইসলাম ব্যাপকভাবে প্রসার লাভ করে এবং যত ভারতীয় সংস্কৃতির চিহ্ন ছিল তা ধ্বংস করে। যার ফলে ভারতীয় প্রাচীন স্থাপত্যের দেখা বঙ্গ মেলেনা।বিদেশি চীনা পর্যটকদের ভ্রমণ বৃত্তান্তে যেসকল মঠ,মন্দিরের উল্লেখ বঙ্গে পাওয়া যায় সেইসবের অস্তিত্ব কোথাও আর দেখতে পাওয়া যায়না।

দ্বিতীয় হল দেশভাগের কারণে বঙ্গের প্রাচীন ইতিহাসের অবশিষ্ট অনেক প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন পূর্বপাকিস্তান বা বর্তমান বাঙলাদেশে চলে যায়, এক অন্ধ ইসলামিক রাষ্ট্রের সেইসব চলে যাবার ফলে আবারও ধ্বংসের মুখে পরে বাঙালি সভ্যতার প্রমাণ যেমনটি সুমেরীয়, ব্যবিলন, সিরিয়া,হরপ্পা,মহেঞ্জোদারো বা বামিয়ান বুদ্ধে সঙ্গে যা ঘটেছে সেটাই বাংলাদেশেও ঘটছে বিদেশি সংস্কৃতি গ্রহণের পর এরা নিজের প্রাচীন সভ্যতার ইতিহাস নিজেরাই ধ্বংস করছে।কিন্তু এখনো বাংলাদেশের মাটি খুঁড়লেই বেরিয়ে আসে বিষ্ণু,বৌদ্ধ মূর্তি।

তৃতীয়ত মানে আমরা যারা প্রকৃত বাঙালি যারা ইসলামিক আগ্রাসনকে প্রতিহত করে নিজেদের বাঙালিত্বকে রক্ষা করতে সমর্থ হয়েছি তারাও কিন্তু বর্তমানে নিজেদের প্রাচীন ইতিহাস চর্চা বন্ধ রেখেছি কেবল সুশীলতা ও ছদ্মধর্ম নিরপেক্ষতা বজায় রাখবো বলে।আমরা বিজাতীয় সিরাজকে বাঙালি বানিয়ে আরব সংস্কৃতির মানুষদের খুশি করেছি কিন্তু শশাঙ্ক বা পালেদের মর্যদা দিইনি কারণ তাতে যদি নিজেদের ছদ্মধর্ম নিরপেক্ষতার মুখোশ খুলে যায়। আর ভারতীয় সংস্কৃতিকে তুলে ধরতে হয়। মনে রাখবেন নিজেদের প্রাচীন ভারতীয় সংস্কৃতি তুলে না ধরে যদি বিজাতীয় সংস্কৃতিকে ভাই বানাই তবে নিজেদের সংস্কৃতিকে কখনই ধ্রুপদী সংস্কৃতি হিসাবে তুলে ধরা সম্ভব নয়।

৩) বাঙালির প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরতে গেলে প্রথমেই যারা ঈশ্বর আরাধনার মার্গ বদলেই নিজেদের সংস্কৃতি বদল করেই নিয়েছে তাদের বাঙালি ভাবা বন্ধ করতে হবে।বাঙালি বলতে কেবল বিভিন্ন ভারতীয় মার্গের বিশ্বাসী ভারতীয় সংস্কৃতির উপর আস্থাশীল মানুষদের বুঝতে হবে।

দ্বিতীয়ত হোসেন সাহ, আলিবর্দী, সিরাজ প্রভৃতি বিদেশি ব্যক্তিকে বাঙালি না প্রমাণ করে বিদেশি শাসকের চোখেই দেখুন যেমনটি ইংরাজদের দেখন।

পড়াশোনা করুন তবে সেইসব লেখকের নয় যারা দুইবাংলার সংখ্যাগুরু মুসলিমদের তুষ্ট করে ব্যবসা বৃদ্ধি করতে চায় তাদের নয়। বাংলাদেশের বই ও ভাষা বর্জন করুন কারণ এরা প্রতিনিয়ত বাংলা ভাষা ও বাঙালিকে ধ্বংসকে করে আরবীয় সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করবার নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

এইবার আসুন নিজেদের পূর্বপুরুষদের সঙ্গে পরিচিত হই আর এগিয়ে চলি বাঙালির হারিয়ে যাওয়া গৌরবকে পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য।

শশাঙ্ক

বাঙালির ইতিহাস চর্চায় যার অস্তিত্ব হওয়া উচিৎ ছিল সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু দুঃখের বিষয় এই যে তাঁকে বাঙালি ঠিক মতো চেনেনা। হ্যাঁ আমি বাঙালির গৌরব গৌড়াধিপতি মহারাজ শশাঙ্কের কথা বলছি, যিনি বাঙালির প্রাণপুরুষ হয়েও বাঙালির কাছে উপেক্ষিত।

বাঙলার ইতিহাসে গৌড়াধিপ শশাঙ্কারে স্থান বিশেষ উল্লেখযোগ্য, তিনি প্রথম ঐতিহাসিক বাঙালি চরিত্র যিনি নিজের বাহুবলে বাঙলার সীমানা অতিক্রম করে অনেকদূর পর্যন্ত বাঙলার আধিপত্য বিস্তার করেছিলেন।কিন্তু ইতিহাস বিমুখ ও আত্মবিস্মৃত বাঙালী তাঁর কথা মনে রাখেনি, বরং বিভিন্ন মিথ্যা অপবাদে জর্জরিত করেছে তাঁর চরিত্র, তাঁর উপর এই অবিচারের প্রধান ও একমাত্র কারণ শশাঙ্ক ছিলেন একজন বাঙালি হিন্দু নৃপতি। তাই বৌদ্ধধর্মের অনুরাগী ও মেরুদণ্ডহীন ভারতীয় ঐতিহাসিকরা তাঁর গৌরবকে খাটো করে দেখিয়ে গেছেন।

আসুন আমরা সমবেত ভাবে প্রচেষ্টা করি বাঙালির সেই হারিয়ে যাওয়া গৌরবকে পুনরুদ্ধারের, মিথ্যা বৌদ্ধ প্রোপাগাণ্ডা গুলির মুখোশ খুলে তুলে ধরি বাঙালির গৌরব শশাঙ্ককে।

দুর্ভাগ্যবশত ঐতিহাসিকরা শশাঙ্কের বংশ পরিচয় ও প্রথম জীবন নিয়ে কিছুই আলোকপাত করতে পারেনি। তিনি কোথা থেকে এলেন, কি তাঁর বংশ পরিচয়,কিভাবে তিনি গৌরের সিংহাসনে আরোহন করলেন সবকিছুই অজ্ঞাত।

মহারাজ শশাঙ্কের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার পূর্ব একটি ছোট বিষয়ের উপর আলোকপাত করা বিশেষ প্রয়জোন, সেটি হল গৌর রাজ্যের পরিচয়।

গৌড়ের প্রাচীনতম উল্লেখ যা পাওয়া যায় সেটি হল একটি নগরী হিসেবে, পাণিনির অষ্ট্যাধ্যায়ীতে গৌড়পুর,কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্রে গৌড়ে উৎপন্ন দ্রব্যের উল্লেখ দেখা যায়, যেমন গুড়।বাৎস্যায়নের কামসূত্রে গৌড় একটি বিখ্যাত দেশ।মৌখরীরাজ ঈশানবর্মনের হরাহা লিপিতে গৌড়জন হল সসমুদ্রের সন্নিকটের অধিবাসী। আবার বরাহমিহিরের মত অনুযায়ী গৌড়ক একটি স্বতন্ত্র জনপদ।ভবিষ্যপুরাণ অনুযায়ী গৌড় বর্ধমানের উত্তরে ও পদ্মা নদীর দক্ষিণে অবস্থিত। যাইহোক সবমিলেয়ে এটা বুঝায় যে “গৌড়” হল সেকালের উত্তরবঙ্গ ও পশ্চিমবঙ্গের উত্তরাঞ্চলকে বা সমগ্র পশ্চিমবঙ্গকে। আর গৌড়ে গুপ্তদের শাসন ব্যবস্থা দৃঢ় ছিল প্রথম থেকেই,অনেক ঐতিহাসিকরা মনে করেন গুপ্তদের আদিবাসভূমি ছিল বরেন্দ্রীতে গঙ্গার তীরে এই তথ্য চৈনিক পরিব্রাজক ইৎ-সিঙের একটি বিবরণ থেকে পাওয়া যায়।আর যদি মহারাজ শ্রীগুপ্তকে গুপ্ত বংশের প্রতিষ্ঠাতা মনে করা হয় তবে গুপ্তরাও বাঙালি ছিল সেই যুক্তিও অমূলক নয়।

প্রথমেই বলেছি শশাঙ্কের প্রথম জীবন ও বংশ পরিচয় কেউ জানেনা, অনেক ঐতিহাসিকরা মনে করেন শশাঙ্ক গুপ্তবংশজাত কিন্তু এই অনুমানের সাপেক্ষে কোনপ্রকার ঐতিহাসিক তথ্যপ্রমাণ নেই। তবে রোটাসগড়ের পর্বতদুর্গে পাওয়া সীলের ছাঁচে খোদাই করা লিপিতে শ্রী মহাসামন্ত শশাঙ্কের নামের উল্লেখ দেখে ঐতিহাসিকরা মনে করেন যে শশাঙ্ক প্রথম জীবনে কোন সার্বভৌম রাজার অধীনস্থ সামন্ত রাজা ছিলেন, কিন্তু কে সেই সার্বভৌম রাজা সেই নিয়ে ঐতিহাসিকদের মতপার্থক্যে রয়েছে।বিশিষ্ট ঐতিহাসিক শ্রী রমেশচন্দ্র মজুমদার মনে করেন, শশাঙ্ক গুপ্তবংশের শাসক মহাসেনগুপ্তের অধীনে সামন্তরাজা ছিলেন আবার অন্যদিকে ঐতিহাসিক ডি.সি.গাঙ্গুলি ও অন্যান্য ঐতিহাসিকরা মনে করেন যে শশাঙ্ক মগধে মৌখরীরাজ অবন্তীবর্মনেট অধীনে সামন্ত ছিলেন, এই ব্যাপার নিয়ে এখনো যথেষ্ট মতপার্থক্য রয়েছে।

অনুমান করা যায় যে ৫৯৬ থেকে ৬২৫ খ্রীস্টাব্দের মধ্যে কোনও সময়ে শশাঙ্ক গৌড়ের সিংহাসনে আরোহন করেন।তাঁর রাজধানী ছিল কর্ণসুবর্ণে, মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের ছয় মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে রাঙামাটিতে ছিল কর্ণসুবর্ণ অবস্থিত ছিল।

এই আলোচনা আরও গভীরে যাবার আগে আমাদের অন্যতম প্রধান কর্তব্য হল মহারাজ শশাঙ্কের নামে তার শত্রুপক্ষ যেসকল মিথ্যা অপবাদ প্রচার করে ইতিহাসের পাতা ভরিয়ে রেখেছে সেই সকল অপবাদকে যুক্তিযুক্ত তথ্য প্রমাণ দিয়ে খণ্ডন করা।

মহারাজ শশাঙ্কের চরিত্র প্রধানত কালিমালিপ্ত করা হয়েছে বৌদ্ধ ধর্মের পৃষ্ঠপোষকতায়, হর্ষবর্ধনের সভা কবি বাণভট্ট ও চৈনিক বৌদ্ধধর্ম প্রচারক হিউয়েনথ্ ছিল এই মিথ্যাচারের প্রধান মুখ। কিন্তু সবথেকে নির্লজ্জ মিথ্যাচার করে গেছেন ধর্মান্ধ হিউয়েনথ।হিউয়েনথ সাং শশাঙ্কের নামে বহু মিথ্যাচার তার বিবরণে বিবৃত করে গেছে শশাঙ্ককে হীন প্রতিপন্ন করবার জন্য, কিন্তু হিউয়েনথ সাং এর বিবরণ ভালোমতো পড়লে দেখা যায় হিউয়েনথ সাং ইচ্ছাকৃত এবং উদ্দেশ্যমূলক কারণে শশাঙ্কের চরিত্র কলুষিত করে ছিলেন যা হিউয়েনথ সাং এর বিবরণ দ্বারাই মিথ্যা প্রমাণ করা সম্ভব।

প্রথমে দেখা যাক হিউয়েনথ সাং কি কি অপপ্রচার শশাঙ্কের নামে করে গেছেন।
১) কুশীনগর বৌদ্ধবিহার থেকে বৌদ্ধদের তাড়িয়ে দিয়ে বৌদ্ধ ধর্মেরর ধ্বংস সাধন।
২) পাটলিপুত্রের বুদ্ধের পদচিহ্ন অঙ্কিত পাথর ধ্বংস।
৩) গয়ার বোধিবৃক্ষ কেটে দেওয়া।
৪) একটি বৌদ্ধ মূর্তি ধ্বংস করবার ব্যর্থ চেষ্টার ফলে শশাঙ্কের শরীর ক্ষত হয়ে মৃত্যু।

আসলে শশাঙ্ক ছিলেন শিবের উপাসক তাই উপর হিউয়েনথ সাং ছিল ধর্মগত বিদ্বেষ তাই থেকেই এইসব লিখেছেন, অন্যদিকে আবার যখন হিউয়েনথ সাং শশাঙ্কের রাজধানী কর্ণসুবর্ণের বিবরণ প্রদান করেন তখন তিনি উল্লেখ করেছেন যে কর্ণসুবর্ণে দশটি বৌদ্ধ বিহার ছিল। এইক্ষেত্রে যদি ধরে নেওয়া হয় শশাঙ্ক বৌদ্ধ বিদ্বেষী ছিলেন তাহলে নিজের রাজধানীতে বৌদ্ধ বিহারের অস্তিত্ব গুলি কি রাখতেনা!!

যদি বৌদ্ধ মঠ ও শ্রমণদের উৎখাত করে বৌদ্ধ ধর্মের বিনাশ করাই যদি শশাঙ্কের একমাত্র অভিরুচি থাকতো তাহলে তিনি বরেন্দ্র,রাঢ় এবং বঙ্গে বৌদ্ধ বিহার গুলি ছেড়ে দিতেননা?যখন দেখাযাচ্ছে বাংলার বৌদ্ধগণেকে নির্বিরোধ ধর্ম পালনের স্বাধীনতা দিয়ে ছিলেন কিন্তু মগধ ও মিথিলার বৌদ্ধদের নিপিড়ীত করেছে তখন বুঝতে হবে শশাঙ্কারের এই বিদ্বেষ সাম্প্রতিকগত নয় বরং রাজনৈতিক। কুশিনগর ও গয়া বৌদ্ধ তীর্থক্ষেত্র এখানে শ্রবণরা শৈব রাজা শশাঙ্কের বিরুদ্ধে বঙ্গের বৌদ্ধের ষড়যন্ত্র ও বিদ্রোহ করবার উৎসাহ প্রদান করতেন এই রাজনৈতিক কারণেই ঐ অঞ্চলের বৌদ্ধ দমন করে শশাঙ্ক রাজধর্ম ও নিজের রাজ্য রক্ষা করেন,কিন্তু ধর্মান্ধ ইউয়েনথ সাং এই ব্যাপারটিকে ধর্মীয় নিপীড়নের রূপ দিতে সফল হন।

মনে রাখতে হবে সেইসময় বঙ্গে বৌদ্ধরাই ছিল সংখ্যাগরিষ্ঠ, শশাঙ্কের প্রজারাও ছিল বৌদ্ধ তারা কখনো নিপিড়ীত হয়নি, তাছাড়া শশাঙ্কের সময়ে হিন্দুদের মধ্যে বুদ্ধদেবকে যথেষ্ট ভক্তি করা হতো, বুদ্ধ সেইসময় কোথাও বিষ্ণুর অবতার আবার কোথাও শিব রূপে সম্মান পেতেন।

(ক্রমশ)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!