দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ- শ্রী কাশী বিশ্বনাথ

© শ্রী সূর্য শেখর হালদার

এই জ্যোতির্লিঙ্গ অবস্থান করছেন ভারত ভূমির প্রসিদ্ধ নগরী কাশী নগরীতে। ভারতের প্রাচীন নগর কাশী দেবভূমি। সৃষ্টির আদিতে পরমেশ্বর নিজের অঙ্গ থেকে সৃষ্টি করলেন পুরুষ ও প্রকৃতি। তাঁদের নির্দেশ দেওয়া হল পৃথিবীতে মানুষ সমাজ সৃষ্টি করতে। তখন তাঁদের অবস্থানের জন্যই তৈরি হল পাঁচ ক্রোশ লম্বা একটি সুন্দর নগর যার নাম
পঞ্চকোশী সংক্ষেপে কাশী।
অর্থাৎ সৃষ্টির আদি থেকে এই নগরীর অস্তিত্ব।
কাশীধামকে নিয়ে কথা ও কাহিনীর যেন শেষ নেই! কথিত আছে প্রলয়কালেও কাশীধাম বিলুপ্ত হয় না, কারণ ভগবান স্বয়ং তাঁর নিবাস স্থল এই পবিত্র নগরীকে ত্রিশূল এর উপর ধারণ করেন এবং পুনরায় সৃষ্টির সময় এলে তিনি যথাস্থানে এটিকে স্থাপন করেন।

কাশীকে সৃষ্টির আদি স্থান বলা হয় । ভগবান বিষ্ণু সৃষ্টির কামনায় এই স্থানেই তপস্যা করে ভগবান শঙ্করকে প্রসন্ন করেছিলেন। মহর্ষি অগস্ত্য এই স্থানে তাঁর তপস্যা দ্বারা ভগবান শংকরকে সন্তুষ্ট করেছিলেন। এই স্থানের এমনই মহিমা যে এই স্থানে কোন জীব প্রাণ ত্যাগ করলে সে মোক্ষ লাভ করে। মৎস্যপুরাণে এই নগরীর মাহাত্ম্য কথায় বলা আছে, যে জপ, ধ্যান-জ্ঞান বিহীন মানুষদের জন্য কাশীধামই একমাত্র পরম গতি স্থল।
শ্রীবিশ্বেশ্বর আনন্দ কাননে পাঁচটি প্রধান তীর্থ আছে এগুলি হল দশাশ্বমেধ , লোলার্ক, বিন্দু মাধব, কেশব ,এবং মণিকর্ণিকা। এই জন্য এই ক্ষেত্রকে ‘অবিমুক্ত ক্ষেত্র’ বলা হয়।

কাশীধামের জ্যোতির্লিঙ্গ কিভাবে প্রতিষ্ঠিত হলেন সে নিয়ে নানা কাহিনী রয়েছে। একটি কাহিনী মতে ভগবান বিষ্ণু কাশীধাম দেখতে এসেছিলেন। কাশীধামের সৌন্দর্য দেখে তাঁর চোখ সরে না। অবিশ্বাসে তিনি মাথা নাড়লেন আর তাঁর কান থেকে খুলে পড়ে গেল রত্নখচিত দুল। যে স্থানে এই দুল পড়েছিল, সেই
স্থানের বর্তমান নাম হল মণিকর্ণিকা। পুরুষ ও প্রকৃতির পূজা করার সুযোগ দেবার জন্য শিব নেমে এলেন কাশীধামে এবং অভিমুক্ত লিঙ্গ হয়ে সেখানে অবস্থান করলেন। এই জ্যোতির্লিঙ্গ ই শ্রীবিশ্বেশ্বর।

আরেকটি কাহিনী মতে ভগবান বিষ্ণু তাঁর চক্রের দ্বারা কাশীধামে একটি পুষ্করিণী খনন করেন এবং নিজের দেহের স্বেদজলে পূর্ণ করে দেন সেই পুকুর। তারপর সেই জলাশয়ের ধারে শিবের তপস্যায় রত হন বিষ্ণু। সহস্র বছর ধরে চলে বিষ্ণুর তপস্যা। বিষ্ণুর তপস্যার আকর্ষণে সেখানে আবির্ভূত হন হরপার্বতী। হঠাৎই পার্বতীর কর্ণভূষণ পড়ে যায় সেই জলাশয়তে। সেই থেকেই সেই ঘাট মহাতীর্থ মণিকর্ণিকা রূপে অভিহিত। এরপরে শিব বিষ্ণুকে বর দিতে চাইলেন। বিষ্ণু বললেন,

” আমি চাই তুমি এই স্থানে থাক।”

শিব ‘তথাস্তু ‘বলে জ্যোতির্লিঙ্গ রূপ ধারণ করে সেখানে রয়ে গেলেন।

আরেকটি কাহিনী মতে ভগবান শ্রীশংকর পার্বতীর পাণিগ্রহণ করার পরে কৈলাস পর্বতের উপরেই বসবাস করতে থাকেন। কিন্তু পার্বতীর পিতৃগৃহে অবস্থান পছন্দ হচ্ছিল না। তিনি পতিগৃহে যেতে চান। তাঁর এই ইচ্ছা তিনি ভগবান শিবের কাছে প্রকাশ করেন। ভগবান শিব তাঁর কথা মেনে মাতা পার্বতী কে নিয়ে আবির্ভূত হন কাশীধামে। আর এখানে এসে তিনি শ্রী বিশ্বেশ্বর জ্যোতির্লিঙ্গ রূপে স্থাপিত হন।

মনু বংশীয় রাজা দিবোদাস এর নামও জড়িয়ে আছে কাশীধামের সঙ্গে। তিনি ছিলেন ভারতের একেশ্বর অধিপতি। তিনি দশটি অশ্বমেধ যজ্ঞ করেন। সেই মহাযজ্ঞে একহাজার পুরোহিত একসঙ্গে আহুতি দান করেন। যজ্ঞের ধোঁয়ায় আকাশ ধারণ করে নীল বর্ণ। এই পবিত্র যজ্ঞস্থল ছিল গঙ্গাতীরে। সেই পবিত্র স্থান হল আজকের দশাশ্বমেধ ঘাট। রাজা দিবোদাস সেই যজ্ঞ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠা করেন দশাশ্বমেধ শিবলিঙ্গ। এই কারণে কথিত আছে দশাশ্বমেধ ঘাটে স্নান করে শিব লিঙ্গের মাথায় জল ঢাললে অশ্বমেধ যজ্ঞের ফল পাওয়া যায়।

এই কাশীধামের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে শ্রীরামের পূর্বপুরুষ সূর্যবংশীয় রাজা হরিশচন্দ্রের নামও। রাজা হরিশচন্দ্র ছিলেন ত্রিশঙ্কুর পুত্র। তিনি একদিন জঙ্গলে শিকার করতে গিয়ে এক নারী কণ্ঠের আর্তনাদ শোনেন। রাজা ভেবেছিলেন নিশ্চয়ই কোন নারী বিপদে পড়েছেন। কিন্তু তখন সেই জঙ্গলে মহামুনি বিশ্বামিত্র সিদ্ধিদেবী কে আয়ত্তে আনার জন্য দীর্ঘদিন তপস্যা করার পর তাঁকে মন্ত্র শক্তিতে বেঁধে ফেলে ছিলেন। আর্তনাদ আসছিল সিদ্ধি দেবীর কন্ঠ থেকে। রাজা তা না বুঝেই যজ্ঞস্থলে উপস্থিত হলেন আর যজ্ঞে বিঘ্ন ঘটালেন। ঋষি রেগে গেলেন। রাজা তখন তাঁকে ইচ্ছামতন ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রতিজ্ঞা করলেন। ঋষি তখন রাজার রাজ্য এবং সহস্রা স্বর্ণমুদ্রা দক্ষিণ চেয়ে বসলেন।

প্রতিজ্ঞা রক্ষার্থে যেহেতু রাজা তাঁর রাজ্য আগেই ঋষিকে দিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছিলেন, তাই সহস্র স্বর্ণমুদ্রা তিনি দিতে অক্ষম হলেন। তখন স্ত্রী ও পুত্র কে নিয়ে তিনি রাজধানী ত্যাগ করে চলে এলেন কাশীধামে। সেখানে স্ত্রী ও পুত্র কে বিক্রয় করলেন এক ব্রাহ্মণের কাছে। সেখানে তিনি পেলেন পাঁচ শত স্বর্ণমুদ্রা, আর নিজেকে ডোম রুপী ধর্মরাজের কাছে বিক্রি করে পেলেন আরো পাঁচশত স্বর্ণমুদ্রা। এভাবেই নিজের প্রতিজ্ঞা রক্ষা করলেন শ্রী রামের পূর্বপুরুষ।

পরবর্তীকালে সাপের কামড়ে মারা গেলেন রাজা হরিশচন্দ্রের একমাত্র পুত্র রোহিতাশ্ব। মহারানী শৈব্যা, রাজা হরিশচন্দ্রের রানী, সেদিন পথের ভিখারী। তিনি নিজেই সন্তানের মৃতদেহ নিয়ে দুর্যোগের মধ্যে এলেন শ্মশানে। ঈশ্বরের অদ্ভুত লীলা! সেদিন নিজের অজ্ঞাতে নিজের সন্তানের চিতা সাজালেন হরিশচন্দ্র। কিন্তু সৎকার হবে কি করে? শৈব্যা তো সেদিন সহায়-সম্বলহীন, কপর্দকশূন্য! হরিশচন্দ্র না জেনেই কুকথা বলতে লাগলেন শৈব্যাকে। মহারানী তখন বিলাপ শুরু করলেন হরিশচন্দ্রের নাম করে। ঠিক সেই সময়ই বিদ্যুতের দ্যুতিতে হরিশচন্দ্র আর শৈব্যা দুজন দুজনকে দেখতে পেলেন। সন্তানের দেহ কোলে নিয়ে বিলাপ করতে লাগলেন দুজনেই । তাঁরা ঠিক করলেন রোহিতাশ্বের চিতায় দুজনেই আত্মবিসর্জন দেবেন। হরিশচন্দ্র ডোম রুপী ধর্মরাজের কাছে ছুটে গেলেন অনুমতি নিতে। তিনি বললেন এতদিন শ্মশানে কাজ করার ফলে তাঁর যে বেতন হয়েছে তারই পরিবর্তে তিনি ওই অনুমতি চাইছেন। তখন আত্মপ্রকাশ করলেন ধর্মরাজ। আশীর্বাদ করলেন সত্যনিষ্ঠ রাজাকে। গঙ্গা জল ছিটিয়ে প্রাণ দান করলেন রোহিতাশ্বের। মুনিবর
বিশ্বামিত্রও রাজ্যের ভারে ক্লান্ত হয়ে রাজত্ব ফেরত দিলেন হরিশচন্দ্রকে।

এই কাশীধামের সঙ্গে জড়িয়ে আছে আরো অনেক বিখ্যাত নাম। এই সেই নগর, যেখানে বুদ্ধত্ব লাভ করে প্রথম এসেছিলেন শাক্য মুনি। তারপর কাশীধাম সংলগ্ন ঋষিপত্তন গ্রামের মৃগদারে বসে তিনি তার প্রথম পঞ্চ শিষ্যকে দিয়েছিলেন দীক্ষা। এই নগরে বসেই শ্রীরামচরিত মানস রচনা করেছিলেন তুলসীদাসজী। শোনা যায় একদল স্বার্থান্বেষী সেদিন চেয়েছিল তুলসীদাসের রামকথা অপহরণ করে পুড়িয়ে দিতে। কিন্তু স্বয়ং শ্রীরামচন্দ্র তীর-ধনুক নিয়ে পাহারা দিয়েছিলেন শ্রী তুলসী দাসের পর্ণকুটির। এই কাশীধামের গঙ্গার ঘাটে পাঠ হয় রামায়ণ। আর সেই রামায়ণ গান শুনতে আসেন অমর হনুমান। স্বয়ং তুলসীদাসজী গঙ্গার ঘাটে দর্শন পেয়েছিলেন
শ্রীহনুমানের। এই সেই নগর যেখানে সচল শিব তৈলঙ্গ স্বামী দীর্ঘদিন লীলা করে গেছেন। কাশীধামের জ্যোতির্লিঙ্গ স্বয়ম্ভু: তিনি আদি দেবতা। দ্বাপর যুগে স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণ এসে শ্রীবিশ্বেশ্বর এর আরাধনা করেছিলেন; এসেছিলেন মহামতি ভীষ্ম শিবের পূজা দিতে।

কাশীধামের জ্যোতির্লিঙ্গের ইতিহাসে বিশেষ উল্লেখ দাবি করে জ্ঞানবাপী কূপ। এই জ্ঞানোদ বা জ্ঞানপাপী কূপ কত প্রাচীন কেউ জানে না। অনেকে মনে করেন দেবাদিদেবের জলময় মূর্তি এই জ্ঞানবাপী। শিব শব্দের অর্থ জ্ঞান। জল রূপে অবস্থিত সেই জ্ঞানই জ্ঞানবাপী, যার আরেক নাম জ্ঞানোদ। সৃষ্টির আদিতে পৃথিবী ছিল জলময়। সেই সময় শিব এসে উপস্থিত হলেন আদি নগরী কাশীধামে। তিনি দেখলেন সেখানে ব্রহ্মা- বিষ্ণু সহ দেবগণ, সিদ্ধ ঋষিরা তাঁরই লিঙ্গ মূর্তি
শ্রীবিশ্বেশ্বর এর সেবক হয়ে সেখানে অবস্থান করছেন। তাঁদের সঙ্গে রয়েছেন অপ্সরা, কিন্নর। আর তাঁরাও আরাধনা করছেন জ্যোতির্লিঙ্গের আর লাভ করছেন অপার আনন্দ। এই সময় দেবাদিদেবের ইচ্ছা হল তার লিঙ্গ মূর্তি কে স্নান করাতে। কিন্তু জল কোথায় ? না আছে নদী, না আছে ঝর্না। তখন ত্রিশূলের আঘাতে স্বয়ং শিব সৃষ্টি করলেন একটি কূপ উঠে এল শীতল বারি, আর মহাদেব মহানন্দে স্নান করালেন তাঁর জ্যোতির্লিঙ্গকে । সেই থেকেই এই কূপটির নাম হয় জ্ঞানবাপী । জ্ঞানবাপী দর্শন মানুষকে সর্বকষ্ট থেকে মুক্ত করে। মানুষ অশ্বমেধ যজ্ঞের ফল লাভ করে এই জলাশয় দর্শন করে।

কাশীধামের ইতিহাসে রয়েছে বিশ্বাসঘাতকতা আর বিধর্মীদের শত্রুতার কথাও। বিশ্বাসঘাতকদের মধ্যে প্রথমেই যার নাম আসে তিনি হলেন জয়চাঁদ। জয় চাঁদের বিশ্বাসঘাতকতা দিল্লির শেষ হিন্দু সম্রাট পৃথ্বীরাজ চৌহানের পরাজয় ও মৃত্যুর কারণ হয়েছিল। এরপর দিল্লি দখল করেন মোহাম্মদ ঘোরি, আর শাসনভার চলে যায় কুতুবউদ্দিন আইবক এর হাতে। ১১৯৪ সালে কুতুবউদ্দিন আইবক এর হাতে পরাজিত হন জয়চাঁদ আর কাশী চলে যায় বিধর্মীদের হাতে। কুতুবউদ্দিন প্রথমেই কাশীধামের শ্রী বিশ্বেশ্বর মন্দির ধ্বংস করেন। ধ্বংস করেন বহু প্রাচীন হিন্দু ও বৌদ্ধ মন্দির। এই সময় আদি জ্যোতির্লিঙ্গ লুকিয়ে ফেলা হয়েছিল জ্ঞান বাপী কূপে।

১২ বছর পর ধ্বংসস্তূপের ওপর গড়ে তোলা হয় নতুন মন্দির। আবার প্রতিষ্ঠা করা হয় আদি জ্যোতির্লিঙ্গ।এই সময় মন্দির রক্ষণাবেক্ষণ এবং পূজার জন্য বস্তুপাল নামে এক গুজরাটি ব্যবসায়ী এক লক্ষ স্বর্ণমুদ্রা দিয়েছিলেন। সেই সময় দিল্লির মসনদে আসীন ছিলেন ইলতুৎমিস। তখন থেকেই কাশীধামের জ্যোতির্লিঙ্গ শ্রীবিশ্বেশ্বর , শ্রী বিশ্বনাথ নামে পরিচিত হন।

আবার কাশীধামের ওপর আক্রমণ আসে কালাপাহাড় আর তার পাঠান বাহিনীর দ্বারা। এই কালাপাহাড়ের প্রকৃত নাম ছিল কালাচাঁদ মুখোপাধ্যায়। জ্ঞাতিদের প্ররোচনায় ব্রাহ্মণ সমাজ অত্যাচার চালায় কম বয়সে পিতৃহীন কালাচাঁদের উপর। এর প্রতিবাদে একরোখা কালাচাঁদ তার উপবীত ছিড়ে, ধর্ম ত্যাগ করে, সুলতান সুলেমান কররানীর সেনাপতি নিযুক্ত হন। ব্রাহ্মণ সমাজের ওপর প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য ধর্মনগর কাশীধাম আক্রমণ করে কালাপাহাড়। সেবারেও কালাপাহাড়ের আক্রমণে শ্রী বিশ্বনাথের মন্দির মিশে গিয়েছিল মাটিতে। আবার জ্যোতির্লিঙ্গ আশ্রয় নিয়েছিলেন জ্ঞানবাপীর মধ্যে। শোনা যায় কালাপাহাড়ের এই ধ্বংসলীলা সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করেছিলেন তার মা।

এরপর পুনরায় শ্রী বিশ্বনাথের মন্দির তৈরি হয় ১৫৮৫ খ্রিস্টাব্দে। এবারে উদ্যোগ নেন পন্ডিত নারায়ন ভাট। রাজা টোডরমল বাড়িয়ে দেন সাহায্যের হাত। দিল্লি থেকে সাহায্য করেন সম্রাট আকবর। সাহায্যের পরিমাণ ছিল ৪৫০০০ দিনার। এবারে মন্দির গড়ে ওঠে জ্ঞানপাপী কূপ এর কাছে এক প্রাচীন বৌদ্ধ স্তুপ এর ধ্বংসাবশেষ এর উপরl কিন্তু নতুন মন্দির আবার ধ্বংস হয় ১৬৬৯ খ্রিস্টাব্দে। এবারে ধ্বংসের কারিগর ছিলেন মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেব। তবে তিনি পুরোপুরি ধ্বংস করেননি মন্দির। যেহেতু এক মুসলমান সম্রাট আকবর অর্থ দান করেছিলেন ওই মন্দির নির্মাণে, সেই কারণে তিনি মন্দিরকে মসজিদে পরিণত করেন। আবার কোনদিন যাতে ওই মসজিদ মন্দিরে পরিণত না হয় তার জন্যে
গোরক্ত ছিটিয়ে অপবিত্র করেন এই পবিত্র স্থান। কাশীধামের নাম বদলে হয় মোহাম্মদাবাদ। এবারেও জ্যোতির্লিঙ্গ লুকিয়ে রাখা ছিল সেই জ্ঞানবাপী কুপে।

এর ১০০ বছরেরও বেশি সময় এর পর আবার নতুন মন্দির তৈরি হয়। জ্ঞানবাপী
কূপের কাছেই তৈরি হয় এই নতুন মন্দির। এই মন্দির নির্মিত হয় ইন্দরের রানী অহল্যা বাঈ এর উদ্যোগে। পাঞ্জাব কেশরী রঞ্জিত সিং ২২ মন সোনা দিয়ে মুড়ে দেন মন্দিরের চূড়া। শিখ সম্প্রদায়ের এক রাজার এই শিব ভক্তি অতুলনীয়।

মন্দিরের গর্ভগৃহ চতুষ্কোণ। বহিরঙ্গের নিম্নাংশ চতুষ্কোণ। সেখান থেকে ক্রমে হ্রাস প্রাপ্ত হতে হতে উপরে উঠে গেছে বক্রাকারে শিখর পর্যন্ত। মন্দিরের গায়ে অপূর্ব অলংকরণ। শীর্ষদেশে কলস এবং ত্রিশূল । নাটমন্দিরকে মধ্যিখানে রেখে দুদিকে দুটি মন্দির আছে। সেখানে আছে অনেক দেবদেবীর মূর্তি।

শ্রী বিশ্বনাথের সন্ধ্যারতি ও সপ্তর্ষি পূজা দেখবার মত। প্রত্যেকবার আরতির আগে
শ্রীবিশ্বনাথকে স্নান করানো হয় দুধ, দই, ঘোল ও মধু দিয়ে। তারপরে লেপন করা হয় চন্দন ও কর্পূর ।আরতির সময় চলে বেদ পাঠ আর শয়ন আরতির সময় মৃদুমন্দ ভাবে বাজে ডমরু।

শ্রী বিশ্বনাথের শক্তি হিসেবে শিব ক্ষেত্র কাশীধামে বিরাজ করছেন মা অন্নপূর্ণা। মা অন্নপূর্ণার মন্দিরও ধ্বংস হয়েছিল বিধর্মীদের আক্রমণে। সেটাও তৈরি হয় নতুন করে।

পরিশেষে বলা যায় কাশীধাম হল তীর্থরাজ। সৃষ্টির সেই আদিকাল থেকেই এই নগরী ছিল ধর্ম নগরী। এখানে বিরাজ করছেন স্বয়ং শিব ও শিবানী। শ্রী বিশ্বনাথের দর্শন, স্পর্শন ও পূজা মুক্ত করে সমস্ত পাপ থেকে। তাই আজও সকল সনাতনীর কাছে কাশীধাম এক পবিত্র তীর্থস্থান।

তথ্য ঋণ:

১. শিব ঠাকুরের বাড়ি: সোমনাথ।

২. ওঁ্ নমঃ শিবায় :
গীতাপ্রেস গোরক্ষপুর

🙏🚩 হর হর মহাদেব🙏🚩

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!