ডিটেনশন ক্যাম্পের নরক যন্ত্রনা থেকে স্বাধীনতা কবে ?

0
436

© সম্রাট দত্ত

যে বাঙালী হিন্দুর পূর্বপুরূষেরা ফাঁসি কাষ্টে ঝুলে ভারতমাকে পরাধীনতার শিকল থেকে স্বাধীন করেছিল সেই পূর্বপুরুষেরা স্বপ্নেও ভাবেনি যে তাদের পরবর্তী প্রজন্মকে ভারতীয় বলে প্রমান করতে দুয়ারে দুয়ারে ঘুরতে হবে। কিন্তু এটাই সত্য।

আসামের শিলচর, কোকরাঝাড়, গোয়ালপাড়া, তেজপুর বা যোড়হাটে অবৈধ বিদেশিদের জন্য মোট ছটি ডিটেনশন সেন্টারে বাংলাদেশী সন্দেহে শত শত ব্যক্তি বছরের পর বছর ধরে আটক আছেন।কিন্তু এই ‘অমানবিক ও বেআইনি প্রথা’ রদ করতে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেওয়ার পর আসামের সরকার স্থির করেছিল, যারা তিন বছরের বেশি সময় ধরে সেন্টারগুলোতে বন্দী আছেন তারা এখন মুক্তি পেতে পারেন।তবে তার জন্য তাদেরকে মোট দু’লক্ষ টাকার বন্ডে দুজন জামিনদার রাখতে হবে, আর একটি যাচাই করার মতো ঠিকানাও পেশ করতে হবে – যেখানে স্থানীয় পুলিশ থানায় তারা প্রতি সপ্তাহে হাজিরা দেবেন। মানে যাদের দুশত টাকা খরচ করার ক্ষমতা নেই তাদের দু লক্ষ টাকার যোগাড় করা বা জামিনদার যোগাড় করা কতটা কঠিন ব্যাপার হতে পারে নিজেই বোঝা যায়| বর্তমান corona পরিস্হিতিতে সুপ্রিম কোর্ট সেই দু লক্ষ টাকা ১০০০০ এ এবং দু বছরে নামিয়ে নিয়ে এসেছে এবং অনেকে মুুক্তি পেয়েছে। এখন কথা হচ্ছে ডিটেনশন ক্যাম্পে তো কাউকে সারা জীবন রেখে দেওয়া যায় না। ডিটেনশনের পরবর্তী পদক্ষেপটা হল ডিপোর্টেশন, কিন্তু মুশকিল হল এক্ষেত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের কোনও দ্বিপাক্ষিক ব্যবস্থা নেই।
তাহলে সরকার এই লোকগুলোকে নিয়ে করবেটা কী? তুমি ডিপোর্ট করতে পারছ না বলে কি আজীবন এদের ক্যাম্পে রেখে দেবে?

সুপ্রিম কোর্টও এটা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পর সরকার এদের মুক্তির জন্য আইন করতে বাধ্য হয়েছে। এর আরেক দিকও রয়েছে | ইতিমধ্যে প্রায় শতখানা বিদেশী শনাক্তকরন কোর্ট আসামে কাজ করছে সংখ্যা আরও বেশি হবে। এই কোর্টগুলিতে ইতিমধ্যেই অনেক নুতন ম্যাজিষ্ট্রেট নিয়োগ হয়েছেন। প্রত্যন্ত

অঞ্চলে কোর্টের নোটিশ সেই অঞ্চলের লোকের ঘরে না দিয়ে লাইট পোস্ট, গাছ বা দোকানের দরজায় চিপকিয়ে দিয়ে আসছে। অশিক্ষিত লোকেরা ইংলিশ বা বাংলায় নোটিস হাতে পেয়েও বুঝতে পারছে না, এখানে যখন এভাবে নোটিশ জারি করা হচ্ছে সেক্ষেত্রে নোটিশ পাওয়ার সম্ভাবনা খুব কমই থাকছে।এদিকে কোর্টে হাজিরা না দেওয়ার কারনে কয়েক মাসেই expartee order করে জেলে পাঠিয়ে দিচ্ছে। এমন ঘটনা আছে ২০১৩ সালে পুলিশ নোটিশ দিয়ে থানায় নিয়ে কাগজপত্র দেখে ভারতীয় বলে ছেড়ে দিয়েছে কিন্তু ২০২০এ তাদের কোর্ট থেকে আবার নোটিশ এসেছে। তার উপরে বিদেশী ,স্বদেশী নির্ধারন এখন আসামে ১৯৫০-৫২ সালকে ভিত্তি করতে আসু বলছে আর বরাক উপত্যকতার সরকারী দপ্তরে, ইলেকশন অফিসে এত পুরোনো কোনো কাগজই নেই।এক্ষেত্রে certified copy-এর অভাবে এমনিতেই বিদেশী হয়ে যাবে। ডিটেশন ক্যাম্পের নরক যন্ত্রনায় দুলালপাল সহ আরও অনেকের মৃত্যুও হয়েছে।

NRC নিয়ে পুরো দেশ উত্তাল। আসামে ১৩ লক্ষ বাঙালী হিন্দুর নাম বাদ পড়লো। হাইলাকান্দি, করিমগঞ্জের মতো জায়গায় ৯০% মুসলিমদের নাম উঠে কিন্তু হিন্দুদের নাম বাদ পড়ে যায়।
বাঙালী হিন্দুর দুঃখ এই জায়গায় যে বাংলাদেশী মুসলমানদের অনুপ্রবেশকারী ও হিন্দুদের শরনার্থী বলে যারা ২০১৬ সালের আগে গলা ফাটিয়েছিল, তারা আজ শরনার্থী ও অনুপ্রবেশকারী সবকিছু গুলিয়ে একাকার করে দিল | আজ আসুর দেখানো পথে আসামের নেতারা কংগ্রেসের বানানো আসাম একোর্ড, ক্লোজ ৬ নং ধারা রূপায়ন করতে বদ্ধ পরিকর হলে মনে প্রশ্ন জাগতেই পারে যে কাশ্মীরের ৩৭০ ধারা যদি কংগ্রেসের বানানো দেশবিরোধী আইন বলে সরিয়ে দেওয়া যায় তবে কী আসামের Assam Accord সরানো যায় না ?

হতভাগা বাঙালী হিন্দু ওপারে মালাউন আর এপারে অনুপ্রবেশকারী হয়ে থেকে গেল। প্রকৃত স্বাধীনতা সেদিন আসবে যেদিন ডিটেনশন ক্যাম্পের নরক যন্ত্রনা থেকে প্রত্যেক হিন্দুর রেহাই হবে।

We are not big media organisation. Your support is what keeps us moving. Don't hesitate to contribute because, work, for society needs society's support. Jai Hind.