পশ্চিমবঙ্গ দিবস- পশ্চিমবঙ্গের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ

0
183

প্রসেনজিৎ দে

২০ শে জুন, পশ্চিমবঙ্গ দিবস।

১৯৪৭ সালের আজকের দিনেই এই রাজ্যের সৃষ্টি হয়।
পশ্চিমবঙ্গ ভারত তথা হিন্দুস্থানের একটি প্রাদেশিক অঙ্গরাজ্য। এর আয়তন মাত্র ৮৮,৭৫২ বর্গ কিলোমিটার, পশ্চিমবঙ্গের প্রাদেশিক রাজধানী কলকাতা। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে “ভারত বিভাগ আইন” পাশ হয়। সেই বিলে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রদেশগুলো নিয়ে একটা মুসলিম রাষ্ট্র এবং অবশিষ্ট হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্রগুলো নিয়ে ভারতের সৃষ্টির কথা বলা হয়।

সেই হিসেবে পুরো বাঙ্গালা তখন পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হতে যাচ্ছিলো, তার কারণ অবিভক্ত বঙ্গে ৫৪% মুসলমান ছিল এবং ৪৬% হিন্দু ছিল। তবে বঙ্গের পূর্বভাগ (বর্তমান বাংলাদেশ, সাবেক পূর্ব পাকিস্তান) মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেও বঙ্গের পশ্চিমভাগ (বতর্মান পশ্চিমবঙ্গ) ছিল বাঙ্গালী হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ।

পুরো বঙ্গটা যাতে পাকিস্তান হয়ে না যায়, তার জন্য এগিয়ে আসেন ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী। ১৯৪৬-এর কলকাতায় এবং নোয়াখালীতে একতরফা হিন্দু নিধনযজ্ঞ হিন্দু বাঙ্গালী নেতৃত্বের মনে ব্যাপক প্রভাব ফেলে। তারা বুঝতে পেরেছিল পুরো বঙ্গটা পাকিস্তান হয়ে গেলে সেখানে অদূর ভবিষ্যতে কোন হিন্দু আর টিকে থাকতে পারবে না এবং হিন্দু বাঙ্গালী ভূমিহীন হয়ে যাবে। ডঃ মুখার্জীর সাথে যারা এগিয়ে এসেছিলেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন ডঃ মেঘনাথ সাহা, এন সি চ্যাটার্জি, পি এন ঠাকুর এবং দিল্লির বিজ্ঞ হিন্দু রাজনেতাসহ আরও অন্যান্য বুদ্ধিজীবীরা। একদিকে ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীর নেতৃত্বে এই বিদ্বজনেরা এবং আরেকদিকে কংগ্রেস ও হিন্দু মহাসভা সমগ্র বাঙ্গালাকে পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্তির বিপক্ষে এবং ভারতের অন্তর্ভুক্তির পক্ষে সরাসরি মাঠে নামলেন, তাঁরা বাঙ্গালী হিন্দুদের জন্য বাঙ্গালার পশ্চিমভাগে “পৃথক হোমল্যান্ড”-এর দাবী জানালেন। তারেকেশ্বরে অনুষ্ঠিত হলো পৃথক পশ্চিমবঙ্গ সৃষ্টির পক্ষে হিন্দু মহাসম্মেলন। সমগ্র ভারতে ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুূখার্জী এই বিষয়ে মোট ৭৬ টি জনসভা করেন। ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী এবং হিন্দু বাঙ্গালীদের তৎকালীন নেতারা ব্রিটিশ প্রতিনিধিদের এটা বোঝাতে সমর্থ হন যে সমগ্র বঙ্গে মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেও বঙ্গের পশ্চিমভাগের বিশাল একটা অংশ হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ। যেহেতু মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজ্যগুলো পাকিস্তান হবে, তাহলে হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ এই রাজ্য পাকিস্তানের অংশ হবে কেন? এটা ভারতেরই অংশ হবে! তাই ধর্মের ভারত বিভাজনের পাশাপাশি পূর্ব এবং পশ্চিমবঙ্গেরও বিভাজন করতে হবে।

সুরাবর্দী তখন পুরো বঙ্গটা পাকিস্তান যে হচ্ছে না, সেটা বুঝে এখনকার “বাংলাপক্ষ”-এর মতো বাঙালী হুজুগ তৈরী করে যুক্তবঙ্গের কথা বলতে শুরু করেন। কিন্তু হিন্দু বাঙ্গালী ও তাঁদের নেতারা তো ১৯৪৬ সাল দেখেছিলেন, তাই তাঁদের অনুমান ছিলো, এই যুক্তবঙ্গের হুজুগ তোলা বাংলাভাষী মুসলমানরাই দেশবিভাগের অব্যবহিত পরেই আবার হিন্দুদের উপর নির্মম অত্যাচার নামিয়ে আনবে এবং কিছুদিনের মধ্যেই পাকিস্তানের সাথে বিলীন হয়ে যাবে।

তাই সুরাবর্দীর কথাতে তাঁরা গেল না। সুরাবর্দী এবং সকল মুসলিম নেতৃত্বের কলকাতাকে সমগ্র পাকিস্তানের রাজধানী বানানোর স্বপ্ন আর সত্য হলো না। ব্রিটিশ প্রতিনিধিত্বকারীরা হিন্দু বাঙ্গালীদের এই যৌক্তিক দাবী মেনে নিয়ে একইভাবে ভারত বিভাজনের মতো বঙ্গবিভাজনের বিলও ব্রিটিশ পার্লামেন্টে পাশ করলো।

এরপর ১৯৪৭ সালের ২০ শে জুন পৃথক বঙ্গীয় আইনসভায় অর্থাৎ পূর্ববঙ্গের জন্য ঢাকায় পূর্ববঙ্গীয় আইনসভা এবং পশ্চিমবঙ্গের জন্য কলকাতায় পশ্চিমবঙ্গীয় আইনসভায় ভোটাভুটি হয়। সেখানে পশ্চিমবঙ্গীয় হিন্দু বাঙ্গালী নেতৃত্বের ভোটে ৫৮-২১ ভোটাভুটিতে পৃথক পশ্চিমবঙ্গ সৃষ্টির পক্ষে বিল পাশ হয়ে যায়। লক্ষ্যণীয়ভাবে, এই ভোটের ৫৮ জনের মধ্যে ৫৩ জনই ছিলেন হিন্দু এবং ৫ জন ছিলেন অ্যাংলো ইন্ডিয়ান আর পশ্চিমবঙ্গ সৃষ্টির বিপক্ষের ২১ জনের মধ্যে সকলেই ছিল মুসলমান। তিনজন বাদে প্রত্যেক মুসলমান ছিল এই পশ্চিমবঙ্গের মূলনিবাসী। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ সৃষ্টি হোক — তারাও সেটা চায়নি, তার কারণ তারা চেয়েছিল পুরো বঙ্গটা ইসলামিক রাষ্ট্র পাকিস্তানের পূর্ব পাকিস্তান হয়ে যাক‌।

এই হলো পশ্চিমবঙ্গের মুসলমান এবং তাদের নেতাদের আসল রূপ।

সৃষ্টি হলো পশ্চিমবঙ্গঃ হিন্দু বাঙ্গালীদের জন্য হোমল্যান্ড।

বিস্ময়কর হলেও সত্যি, সাম্প্রদায়িকতার ভিত্তিতে এই বঙ্গ ভাগ করে হিন্দু বাঙ্গালীদের জন্য এই হোমল্যান্ড তৈরি করা হলেও কংগ্রেস নেতৃত্ব পরে এই পশ্চিমবঙ্গটা সমগ্র ভারতেরই মতো মুসলমানসহ সকলের জন্য মুক্ত করে দেন, যার ফলে ধর্মের ভিত্তিতে বঙ্গের বিভাজন হলেও বঙ্গের জনসংখ্যা বিভাজন হয় নি, যার ফলশ্রুতিতে ১৯৪৭-এ পশ্চিমবঙ্গে সেখানে মুসলমান ছিল ১৯%, আজ সেটা প্রায় ৩০%-এ পৌঁছে গিয়েছে।
শুধু তাই নয়, পশ্চিমবঙ্গের ৩৪১ টি ব্লক এবং ২৩ টি জেলার মধ্যে শতাধিক ব্লক এবং তিনটি জেলাতে ইতিমধ্যে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়ে গিয়েছে, কয়েকটি জেলাতে তো মুসলিম জনসংখ্যা ৪০%-ও অতিক্রম করে ফেলেছে, আর বেশিরভাগই জেলাতেই ৩০% অতিক্রম করে ফেলেছে। পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান ২৯৪ টা বিধানসভার মধ্যে কমপক্ষে ৬০ টি বিধানসভায় আজ মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ, ৪০ টি বিধানসভায় ৪০%-এর ঊর্ধ্বে, অর্থাৎ প্রায় ১০০ টি বিধানসভা মুসলমানদের ল্যান্ড জিহাদের ফাঁদে। সেই সূত্র ধরে ৯-১০ টি লোকসভাতেও মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ এবং ৪ টি তে তো ৪০%-এর ঊর্দ্ধে। ফলস্বরূপ পশ্চিমবঙ্গে বৃদ্ধি পেয়েছে সাম্প্রদায়িক হিন্দু বিরোধী দাঙ্গা। ২০১০ থেকে ২০২০ — মাত্র এই দশ বছরেই এই পশ্চিমবঙ্গে বর্তমান বাংলাদেশের মতো ঘটে গিয়েছে ২৫-৫০ টি হিন্দু বিরোধী দাঙ্গা। হিন্দু বাঙ্গালীরা আবার জানমালের নিরাপত্তার অভাব বোধ করতে শুরু করে দিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের গ্রামীণ স্তর থেকে চলছে হিন্দু পলায়ন। সেজন্যই পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ১০,০০০ গ্রামে আজ হিন্দু সংখ্যা শুন্য! এদিকে পশ্চিমবঙ্গের মুসলমানরা এখন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। সবসময়ই শাসক দলের পতাকা ধরে হিন্দুদের নির্যাতন করা ওদের নিয়মমাফিক কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু এসব দেখেও সেকুলারিজম আর কমিউনিজমের সাম্যবাদে হিন্দু বাঙ্গালী আজও ঘুমন্ত, যেন তারা বুদ্ধি-প্রতিবন্ধী হয়ে গিয়েছে।

তবে হ্যাঁ আশার বাণী হলো, হিন্দুরা একটু হলেও জেগেছে, তবে মূল কাজটি হলো জমি বাঁচানো। এর জন্য হিন্দুদের রাজনৈতিক শক্তির চেয়ে সামাজিক শক্তির বেশি দরকার।

আজ মুসলমানরা ৩০%, কিন্তু ২০ বছর পর সেটা ৫০% হয়ে যাবে, তখন হিন্দু বাঙ্গালীদের বর্তমানে থাকা সকল সেকুলারিজম, কমিউনিজম পূর্ববঙ্গের মতো এই পশ্চিমবঙ্গ থেকেও কর্পূরের মতো উড়ে গিয়ে পশ্চিমবঙ্গে কাশ্মীরের মতো অবস্থা হবে আর হিন্দু বাঙ্গালীদের ঐ কাশ্মীরের হিন্দুদের মতো, পূর্ববঙ্গের হিন্দুদের মতো, বাংলাদেশের হিন্দুদের মতো ভিটেমাটি, মা, মানুষ হারিয়ে উদ্বাস্তু হয়ে ঐ বিহার কিংবা ঝাড়খন্ড কিংবা ওড়িশায় পালাতে হবে। কিন্তু ঐ রাজ্যগুলো তো আর বাঙ্গালী হিন্দুদের রাজ্য নয়। পশ্চিমবঙ্গটা আজও আছে বলেই বাংলাদেশ হতে হিন্দুরা এসে এখনও এখানে ভূমি পাচ্ছে।

তাই আমাদের পশ্চিমবঙ্গটাকে আবার যে পাকিস্তান বা পশ্চিম বাংলাদেশ বানানোর পরিকল্পনা চলছে, তার বিরুদ্ধে লড়াই করে সেই অপশক্তিকে গোড়া থেকে অতি দ্রুত নির্মূল করতে হবে।

অত্যন্ত আনন্দের বিষয় এটা যে এখন এই “পশ্চিমবঙ্গ দিবস” পশ্চিমবঙ্গে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। তার প্রমাণ এই পশ্চিমবঙ্গ দিবস নিয়ে প্রায় একডজন অনলাইনভিত্তিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে বিভিন্ন হিন্দুত্ববাদী সংগঠন। লকডাউন না থাকলে যে কি হতো, তা আর বলার প্রয়োজন নেই।

২০ শে জুনকে “পশ্চিমবঙ্গ দিবস” হিসেবে সরকারীভাবে স্বীকৃতি প্রদানের জন্য কেন্দ্র ও রাজ্য — উভয় সরকারের কাছেই দাবী করা হচ্ছে ও এই দিনটিকে মহাসমারোহে পালন করার জন্য অনুরোধ জানানো হচ্ছে। যেহেতু হিন্দু বাঙ্গালীদের জন্যই এই ভূমির সৃষ্টি, তাই পশ্চিমবঙ্গের নাম পরিবর্তন করে “হিন্দুবঙ্গ” রাখারও দাবী জানানো হচ্ছে।

পশ্চিমবঙ্গের সকল বাঙ্গালী হিন্দুদের উচিৎ এই দিনে একই সাথে গৈরিক ও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে এই দিবসটি পালন করা।

জাগো বাঙ্গালী হিন্দু, জাগো।

আমাদের মনে রাখা উচিৎ মাটি কারো বাপের হয়না, মাটি হয় দাপের। দাপট যার, মাটি তার।

জয় মা কালী।
হরহর মহাদেব।
জয় মা দুর্গা।
জয় শিব শম্ভু।
জয় পশ্চিমবঙ্গ।
জয় ভারত।
জয় হিন্দুবঙ্গ।
জয় হিন্দুস্থান।
বন্দে মাতরম।
ভারত মাতা কি জয়।

We are not big media organisation. Your support is what keeps us moving. Don't hesitate to contribute because, work, for society needs society's support. Jai Hind.