ছেচল্লিশের দাঙ্গা

0
207


© মিতালী মুখার্জী
===========
সেদিন ভোরে সূর্য ওঠার আগেই
ঘুমন্ত কলকাতার বুক চীরে
উঠল এক পৈশাচিক চীৎকার
আল্লা হো আকবর ।।
হিন্দু নিধন যজ্ঞে মেতে উঠল
পঞ্চাশ হাজার মুসলিম।
জিন্না আর সুরাবর্দির ষড়যন্ত্রে রক্তে ভেসেগেল
কলকাতা শহর আর শহরতলী।
বেলেঘাটা নারকেলডাঙা চিৎপুর
কলুতোলা মেটিয়াবুরুজ লিচুবাগান,
হাহাকার ,আর্তনাদ আর মৃতের পাহার ।
আর সুরাবর্দি তুমি!
সেই নিধনযজ্ঞের পুরোহিত!!
সুপরিকল্পিতভাবে নেমেছিলে
এই বিধ্বংসী খেলায়।
নারী পুরুষ নির্বিশেষে চলল নৃশংস হত্যালীলা।
আর্তচীৎকারে মথিত হল বাঙলার আকাশ।
শ্যামবাজার হাতীবাগান ষষ্ঠীতলা
লাইট হাউস বেঙ্গল ক্লাব
উন্মত্ত আক্রোশে ধ্বংস হল
হিন্দুত্বের যাবতীয় দলীল ।
ধর্মতলা মানিকতলা ক্যানিং স্ট্রিট
শুধু অগুনতি লাশের ঠিকানা।
কমলা বস্ত্রালয় ভারতভান্ডার
লক্ষী স্টোর্স রক্ষা পেলনা একটাও হিন্দু দোকান।
হিন্দুদের জনে মানে ধনে
শেষ করে দিতে চেয়েছিলে
সুপরিকল্পিত ভাবে ।
তখন জেগে উঠল গোপাল পাঁঠা।
নিয়তির নিয়মে সেই ব্রাহ্মণসন্তানের ছিল পাঁঠার মাংসের দোকান ।
একতরফা মার খাওয়া অসহায় হিন্দুদের বাঁচাতে
গর্জন করে উঠে দাঁড়াল সে।
খোলা রাম’দা হাতে নিয়ে
ডাক দিল বাঙলা মায়ের বীরপুত্রদের ।
বিজয়সিংহ নাহার যুগল বোস ভানু বোস
এবং আখরাগুলোর মিলিত প্রতিরোধে,
জয় মা কালী নিনাদে
কেঁপে উঠলো বিধর্মীদের বুক।
পাল্টা জবাবে পিছু হটল তারা।
বেঁচে গেল অবশিষ্ট হিন্দুরা।
বেঁচে রইল কলকাতা
এক রক্তমাখা দিনের ইতিহাস বুকেনিয়ে।।
আর হিন্দু বাঙালী !!
আবার ঘুমিয়ে পড়লো আরো এক ছেচল্লিশের অপেক্ষায়।।

We are not big media organisation. Your support is what keeps us moving. Don't hesitate to contribute because, work, for society needs society's support. Jai Hind.