শিবাজী মহারাজের জীবনী ও বীরত্বগাথা- (১৪)

0
194

© অরিন্দম পাল

পর্ব-১৪

কোণ্ডানা দুর্গ জয়

দাদাজীর মৃত্যুর পর শিবাজীর উপর সমস্ত কাজের একক দায়িত্ব এসে পড়ল। তখন তাঁর বয়স ষোল বছর পূর্ণ হয়ে সতেরোয় পড়েছে। এই সময়ে শিবাজীর অন্যান্য সহকর্মীদের মধ্যে রাজকার্যে নিযুক্ত ছিলেন শ‍্যামরাজ পন্ত পেশোয়া, সোনোপন্ত, রঘুনাথ পন্ত, পন্তাজী গোপীনাথ, মনকোজী দহাতোণ্ডে ইত্যাদি প্রবীণ ও বিচক্ষণ ব্যক্তিরা। তাছাড়া ছিলেন তুকোজী সরনৌবৎ ও তাঁর অধীনে তানাজি,এসাজী প্রমূখ বীর যুবকবৃন্দ।
দাদাজী কোণ্ডদেবের মৃত্যু-সংবাদ বিজাপুরে পৌছানোর সঙ্গে সঙ্গে বাদশাহ শিরবলের মিয়া রহিম মোহম্মদকে কোণ্ডানা দুর্গে গিয়ে থাকার হুকুম পাঠালেন। শিবাজী আগেই বুঝেছিলেন যে মিয়া রহিম আমাদের খুবই কষ্ট দিতে পরে, তাই কেমন করে তাড়াতাড়ি কোণ্ডানা দখল করা যায়, তিনি গভীরভাবে এই চিন্তায় নিমগ্ন হলেন। এই সময় সিদ্দি অম্বর নামে এক পুরাতন ও অভিজ্ঞ ব্যক্তি কোণ্ডানার দুর্গ রক্ষকের পদে বহাল ছিল। সেই কারণে এই দুর্গ জয় করা অত্যন্ত কঠিন সে কথা শিবাজী উপলব্ধি করেছিলেন। রাজগড় থেকে ঈশান কোণে প্রায় ছয় ক্রোশ দূরে কোণ্ডানা দুর্গ অবস্থিত। কোণ্ডানাকে স্বরাজের অন্তর্ভুক্ত করতেই হবে― এই ছিল শিবাজীর দৃঢ়সঙ্কল্প।

রাজা তার মনোবাসনা বাপুজী মুদ্গল দেশপান্ডেকে জানালেন এবং বললেন, যেমন করেই হোক কোণ্ডানা দখল করতেই হবে। বাপুজী ছিলেন কোণ্ডানার দক্ষিণে অবস্থিত খেড়েবারার দেশপান্ডে এবং ঐ দুর্গের সমস্ত আট-ঘাট ছিল তার নখ-দর্পণে। তিনি জানতেন, ছয় মাস ধরে যুদ্ধ করলেও কোণ্ডানা দখল করা প্রায় অসম্ভব। কিন্তু শিবাজী যখন আমার উপর এতখানি আস্থা রাখেন তখন কর্তব্য-নিষ্ঠা ও কর্মক্ষমতাও আমি প্রমাণ করব । এই দৃঢ় সংকল্প নিয়ে বাপুজী একাই যাত্রা করলেন কোণ্ডানার উদ্দেশ্যে।

আর সত্যিই তারিফ করতে হয় বাপুজীর সূক্ষ্ম বুদ্ধির। না জানি কোন কৌশলে তিনি কোণ্ডানার প্রহরীদের ভুলিয়ে হাত করলেন এবং তাঁর নিজের বিশ্বস্ত অনুগামীদের নিয়ে নিঃশব্দে দুর্গে প্রবেশ করেন একবারে বিনা রক্তপাতে কোণ্ডানা দখল করে নিলেন। কোণ্ডানা দুর্গের উপর স্বাধীনতার গৈরিক পতাকা উড্ডীন হল। এত দ্রুত ও বিনা যুদ্ধে কোণ্ডানা অধিকার হওয়ায় শিবাজী ও জননী জিজাবাঈ বাস্তবিকই অত্যন্ত আনন্দিত হলেন। রাজা শিবাজী বাপুজী মুদগল দেশপান্ডেকে যথোচিত সম্মানে ও পুরস্কারে ভূষিত করলেন।

ওদিকে মিয়া রহিম মোহম্মদ মনের আনন্দে যখন কোণ্ডানাতে ঘাঁটি স্থাপন করার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছে তখন মাঝ পথেই খবর পেল যে ‘ভোঁসলের ছোকরা’ কোণ্ডানা দখল করে নিয়েছে। শিরবল ফিরে গিয়ে সে তাড়াতাড়ি বিজাপুরে খবর পাঠাল, কারণ এর চেয়ে বেশি কিছু করার ক্ষমতা তাঁর ছিল না ।
বিজাপুর দরবারে শিবাজী সম্বন্ধে এত দিন যেসব সংবাদ পাঠানো হয়েছিল, সেগুলি বাদশাহ মোটেই আমল দেননি, কিন্তু কোণ্ডানা দখলের সংবাদ শুনে বাদশাহ খুব রেগে উঠলেন। শাহাজীর ছেলে এত বড় দুঃসাহস। আশ্চর্যের ব্যাপার, পলকের মধ্যে চুপচাপ দুর্গ দখল করে নিল ! তাহলে তো শিবাজীকে আর বাড়তে দেওয়া ঠিক হবে না।
কোণ্ডানা অধিকার করে তৎপরতার সঙ্গে তার যাবতীয় সুবন্দোবস্ত করার পর শিবাজীও চুপ করে বসে রইলেন না। একটুও সময় নষ্ট না করে তিনি অকস্মাৎ একেবারে খাস শিরবলের থানাই আক্রমণ করে দিলেন এবং মিয়া রহিম মোহম্মদকে চিন্তা করার একটুও সময় না দিয়ে শিবাজীর মাবল বীর সৈনিকরা সুভানমঙ্গল দুর্গ অধিকার করে নিয়েছিল ।

(ক্রমশঃ)

We are not big media organisation. Your support is what keeps us moving. Don't hesitate to contribute because, work, for society needs society's support. Jai Hind.