শিবাজী মহারাজের জীবনী ও বীরত্বগাথা- (৭)

0
339

© অরিন্দম পাল

গুরু-শিষ্য পরম্পরা

পর্ব-৭

ধৌম্য (গুরু) : আরুণি, উপমন্যু ও বেদ (শিষ্য)

ধৌম্য :- ধৌম্য ঋষির পূর্ণ নাম আয়োদ ধৌম্য । ইনি একজন আদর্শ ঋষি ও আদর্শ গুরু ছিলেন । তাঁর তিনজন শিষ্য ছিল — আরুণি, উপমন্যু ও বেদ । শিষ্যদের গুরুভক্তি পরীক্ষার জন্য তিনি তাদের নানাবিধ ক্লেশ দিতেন, তারপর শিষ্যরা সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে তিনি তাদের সর্বশাস্ত্রে পারদর্শী করে গৃহে ফেরার অনুমতি দিতেন ।

আরুণি :- পাঞ্চাল দেশের প্রখ্যাত ঋষি ইনি । তিনি ঋষি গৌতমের বংশজাত ঋষি উপবেশির পৌত্র ও ঋষি অরুনের পুত্র । ইনি ছিলেন ঋষি যাঞ্জবল্ক্যের গুরু । আরুণির পুত্র শ্বেতকেতু এবং পৌত্র নচিকেতা । আরুণি তাঁর গুরুভক্তির জন্য প্রসিদ্ধ ছিলেন । একদিন তাঁর গুরুদেব ধৌম্য তাকে ক্ষেতের আল বাঁধার আদেশ দিলেন, কিন্তু আরুনি মাটির সাহায্যে আল বাঁধতে না পেরে, নিজেই ভাঙ্গা আলের উপর শুয়ে পড়ে ক্ষেতের জল নির্গমন রোধ করেন । আরুনি ঘরে ফিরছেন না দেখে গুরুদেব স্বয়ং ক্ষেতের কাছে গিয়ে দেখেন, আরুণি নিজের দেহ দিয়ে আল বন্ধ করে রেখেছে । আরুনির কান্ড দেখে তিনি অত্যন্ত প্রীত বিস্মিত হলেন । তাঁর আহবানে আরুণি আল ভেদ করে উঠে এল । ধৌম্য তাঁর নাম রাখলেন ‘উদ্দালক’ আর আশীর্বাদ করলেন, সকল বেদ ও ধর্মশাস্ত্র তাঁর কন্ঠস্থ থাকবে ।

উপমন্যু :- আয়োদ ধৌম্যের প্রখ্যাত শিষ্য ছিল উপমন্যু । ধৌম্য তাঁকে গো-চারনে নিযুক্ত করেন । গুরুদেব লক্ষ্য করলেন উপমন্যু এই সময় ভিক্ষান্ন গ্রহণ করায় স্থূলকায় হয়ে গেছে, গুরুদেব তখন তাকে ভিক্ষা করতে নিষেধ করলেন । উপমন্যু তখন গো-দুগ্ধ পান করতে লাগলেন, গুরুদেব তাও নিষিদ্ধ করলেন কারন গো-দুগ্ধ পান করলে গো-বৎস গুলি বঞ্চিত হয় । তখন উপমন্যু গো-বৎস মুখ নিঃসৃত ফেনা ভক্ষণ করতে লাগলেন, গুরুদেব তাও নিষিদ্ধ করলেন। একদিন ক্ষুধাতুর উপমন্যু আকন্দ পাতা খেয়ে অন্ধ হয়ে গেল । আশ্রমে ফেরার পথে সে এক শুষ্ক কূপে পড়ে গেল । গুরুদেব সন্ধ্যায় তাকে খুঁজতে বের হয়ে দেখলেন সে কূপে পড়ে আছে । তিনি তাকে অশ্বিনী কুমারদের স্তব করতে বললেন । উপমন্যুর স্তবে সন্তুষ্ট হয়ে অশ্বিনীকুমারদ্বয় তাকে একটি পিস্টক দিলেন । সেই পিস্টক খেলে সে সুস্থ্য হবে । উপমন্যু কিন্তু গুরুদেবকে নিবেদন না করে সেই পিস্টক ভক্ষন করতে অস্বীকার করলেন । উপমন্যুর অসাধারণ গুরুভক্তি দেখে অশ্বিনীকুমারগন তার অন্ধত্ব দূর করেন । আয়োদ ধৌম্য তাকে সকল বেদ ও ধর্মশাস্ত্র আয়ত্ত করার আশীর্বাদ দান করেন ।

বেদ :- গুরু ধৌম্যের কাছে থেকে গেলেন বেদ । তিনি দীর্ঘদিন গুরুসেবা করলেন । শীত-গ্রীষ্ম-বর্ষা, ক্ষুধা-তৃষ্ণা সহ্য করে বলীবর্দের মতো ভার বহন করে বেদ একাগ্রচিত্তে গুরুসেবা করতে লাগলেন । অবশেষে গুরুকে তুষ্ট করে শ্রেয়-প্রেয় লাভ করে গুরুর আদেশে গৃহে প্রত্যাবর্তন করেন । ‘বেদ’ উপাধ্যায়ের তিন শিষ্য ছিল । পরে জনমেজয় ও পৌষ্য নামে তাঁর আরো দুইজন শিষ্য হয় । এইসব শিষ্যের মধ্যে ‘উতঙ্ক’ ছিল তার প্রিয় শিষ্য ।

(ক্রমশঃ)

We are not big media organisation. Your support is what keeps us moving. Don't hesitate to contribute because, work, for society needs society's support. Jai Hind.