লক ডাউন: পরিযায়ী শ্রমিকদের সেবায় রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘ

0
221

© সূর্য শেখর হালদার

সেবা সনাতন সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ ।সীতামাতা, শ্রীরাম আর শ্রীকৃষ্ণের কর্ম ও জীবন চর্চা করলে আমরা দেখব মানব তথা পৃথিবীর সমস্ত জীবকুলের সেবায় তাঁরা তাঁদের জীবন নিয়োজিত করেছিলেন । ঠাকুর শ্রীরাকৃষ্ণ ও শিব জ্ঞানে জীব সেবার কথা বলেছেন। আর শ্রী নরহরি ভীড়ে রচিত রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবা সংঘের প্রার্থনার প্রথম স্তবকে বলা হচ্ছে : ‘মহামঙ্গলে পুণ্যভূমে ত্বদর্থে পতত্বেষ কায়ো নমস্তে নমস্তে ‘ ।( হে, মহামঙ্গলময়ী পুণ্যভূমি তোমার কার্যের জন্য আমি শরীর পাত করে দেব : তোমাকে নমস্কার )

এই আদর্শ সামনে রেখে 1989 সালে সংঘের তৃতীয় শরসংঘচালক পরম পূজনীয় শ্রী বালাসাহেব দেওরস জী তৈরী করেন সমাজ সেবা ভারতী। এই সেবা ভারতীর নেতৃত্বেই সংঘের প্রতিটি স্বয়ং সেবক ও কার্যকর্তা শরীর, মন আর অর্থ দিয়ে নেমে পড়েছেন কোভিড 19 এর সংক্রমণে দেশে যে দুর্যোগ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে তার মোকাবিলাতে। দেশের দরিদ্র, প্রান্তিক জনসাধারণ, পরিযায়ী শ্রমিক, বৃদ্ধ – বৃদ্ধা যাঁরা লকডাউনে অসহায়, ডাক্তার, সাফাই কর্মী, স্বাস্হ্য কর্মী, পুলিশ ইত্যাদি সমাজবন্ধুদের – সবার পাশে দাঁড়ানোই এই সেবা সংস্থার উদ্দেশ্য ।

নভেল করোনার সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে কেন্দ্রীয় সরকার দেশে লকডাউন শুরু করেন বিগত 25 মার্চ থেকে l 23 মার্চ থেকেই কিন্তু বিভিন্ন রাজ্য সরকার শুরু করে দিয়েছিল লকডাউন। এর মধ্যেই রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সঙ্ঘ নেমে পরে সেবা কাজে। রাজধানী দিল্লির আনন্দ বিহারের বাস টার্মিনাস এর কাছে তৈরী হয়ে যায় কমিউনিটি কিচেন ।( 29 মার্চ, ইকোনমিক টাইমস ) এছাড়াও দিল্লী ও আহমেদাবাদ এ বন্টন করা হয় খাবারের প্যাকেট ।

লকডাউনের প্রথম থেকেই রাজস্থানের স্বয়ং সেবকরা পরিযায়ী শ্রমিক ও দরিদ্র মানুষদের সাহায্যের দিকে দৃষ্টি দেন । রাজ্যের প্রান্ত সঞ্চালক ড: রমেশ আগরওয়াল জী বিগত 4 এপ্রিল বলেন যে রাজ্যের 893 টি শাখা থেকে 8213 জন স্বয়ং সেবক প্রায় 1.5 লাখ পরিবারকে ইতিমধ্যেই সাহায্য করেছেন । এর মধ্যে রয়েছে নভেল করোনা প্রতিরোধের গাইড লাইন তৈরী করে প্রচার করা : লকডাউন বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরী করা : খাবারের প্যাকেট সরবরাহ করা : বয়স্ক দের বিশেষ যত্ন নেয়া : মাস্ক তৈরী : সাবান, স্যানিটাইজার বিতরণ।স্বয়ং সেবকরা এখানে টুইটারে প্রচার চালান। এসময় জয়পুরের SMS হসপিটালে মাস্কের অভাব হলে স্বয়ং সেবকরা 5000 মাস্ক তৈরী করে সরবরাহ করেন । News 18 কে দেয়া সাক্ষাৎকরে এই কথা বলেন ডঃ রমেশ আগরওয়াল জী l সেইদিন পর্যন্ত সংঘের ঘনিষ্ঠ পরিবার গুলি 87775 টি মাস্ক বাড়িতে তৈরী করেন ।

রাজস্থান এর ফুলেরার একটি শাখা বাচ্চাদের নিয়মিত খাবার প্যাকেট যোগান দেয় । ঐ দিন পর্যন্ত 65033 টি খাবারের প্যাকেট সারা রাজস্থানে বন্টিত হয় ।

পরিযায়ী শ্রমিক সমস্যা এই মুহূর্তে সারা জাতির কাছে একটি বড় সমস্যা । রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘের দ্বারা প্রভাবিত শ্রমিক সংগঠন ভারতীয় মজদুর সঙ্ঘ ( BMS ) বিভিন্ন রাজ্য সরকার গুলিকে ( মহারাষ্ট্র, অন্ধ্র প্রদেশ, তেলেঙ্গানা, রাজস্থান, পশ্চিমবঙ্গ গুজরাট ও ঝাড়খন্ড ) সমালোচনা করে পরিযায়ী শ্রমিকদের কথা না ভাবার জন্য । BMS এর জেনারেল সেক্রেটারি শ্রী ব্রিজেশ উপাধ্যায় জী হিন্দুস্তান টাইমস কে দেয়া সাক্ষাৎকারে বিগত 16 মে জানান যে কেন্দ্র ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকার গুলিকে পরিযায়ী শ্রমিকদের দেখা শোনার নির্দেশ দিয়েছেন , কিন্তু রাজ্য সরকার গুলি দায় নিতে ব্যর্থ হয়েছেন। তিনি মালিক পক্ষের ও সমালোচনা করে বলেন যে মালিকরা শ্রমিকদের সাহয্যে সম্পদ তৈরী করলেও, এই বিপদের সময় তাঁদের রক্ষাকর্তা হতে পারেননি। মহারাষ্ট্রের ঔরঙ্গা বাদে ট্রেন দুর্ঘটনাতে নিহত 16 জন শ্রমিকের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন পুলিশ শ্রমিকদের রাস্তা দিয়ে হাঁটতে না দিতে চাওয়ায় তাঁরা রেল লাইন দিয়ে হাঁটতে বাধ্য হন। আরো অনেক শ্রমিক পথ দুর্ঘটনাতে মারা যান। তিনি শ্রমিকদের সাহায্যের উদ্দেশ্যে একটি হেল্প ডেস্ক তৈরির কথাও বলেন।

আউটলুক ইন্ডিয়া. কমের 14 মে এর সংবাদ অনুযায়ী জয়পুরে পরিযায়ী শ্রমিকদের বাড়ি ফেরার ব্যবস্থা করেন সংঘের স্বয়ং সেবকগণ। জয়পুর থেকে এই শ্রমিকরা আগ্রা ও গোয়ালিয়র ফিরছিলেন।

রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘের জেনারেল সেক্রেটারি শ্রী সুরেশ ভাইয়া যোশীজি বিগত 2 এপ্রিল ডেকান হেরাল্ড কে দেয়া সাক্ষাৎকরে জানান যে পরিযায়ী শ্রমিক দের মধ্যে বিশ্বাস ও আস্থা যোগাতে হবে যে সমাজ তাদের পাশে আছে ।

বিগত মে মাসের 26 তারিখে টাইমস নিউজ .কমের খবরে দেখা গেল আরএসএস এর স্বয়ং সেবকরা উত্তরপ্রদেশের মোরাদাবাদ, মধ্যপ্রদেশের সাতনা স্টেশনে খাবার ও জলের প্যাকেট বন্টন করছেন। সেদিন আরএসএস এর প্রচার বিভাগের কার্য কর্তা শ্রী পবন জৈন জী বলেন প্রায় 400 স্বয়ং সেবক মিলে প্রায় 10000 দরিদ্র পরিযায়ী শ্রমিক দের খাবার প্যাকেট o জল দিয়েছেন। 31 মে থেকে কমিউনিটি কিচেন করে তিনি প্রত্যেক দিন 10000 – 12000 মানুষকে সেবার কথা তিনি জানান ।

পশ্চিমবঙ্গতেও সংঘের স্বয়ং সেবক রা খাবার প্যাকেট, কাঁচা আনাজ, চাল, ডাল প্রায় প্রত্যেক জেলাতেই বিতরণ করেন ।কোথাও কোথাও কমিউনিটি কিচেনও করা হয় । বাঁকুড়া তে সংঘ প্রভাবিত শিক্ষক সংগঠন (BSS) 7 জুন সাফাই কার্মচারী দের সম্মান পত্র ও ত্রাণ দেয়। তবে পশ্চিমবঙ্গতে ত্রাণের কাজ করতে গিয়ে অনেক
কার্যকর্তা পুলিশ ও শাসক দলের তোপের মুখে পড়েন, গ্রেপ্তারও হন । এখানকার মিডিয়া ও বিষয় টি প্রচারে আনেন নি ।

সংঘের এই সেবাকাজ সারা দেশ জুড়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে, এখন ও চলছে। সঙ্ঘ প্রচারের আড়ালেই এই কাজ চালিয়ে যাচ্ছে ঠিক যেভাবে প্রাচীন কালে ঋষিরা নির্জনে তপস্যা করতেন।

We are not big media organisation. Your support is what keeps us moving. Don't hesitate to contribute because, work, for society needs society's support. Jai Hind.