খ্রিস্টান মিশনারীদের নতুন কৌশল- ধর্মান্তরণ হবে, কিন্তু নামের পরিবর্তন হবে না

0
23
ছবি: ধর্মান্তকরণ

© অমিত মালী

দেশে হিন্দুদের খ্রিস্টান ধর্মে ধর্মান্তরিত করতে বহু খ্রিস্টান মিশনারী সংগঠন কাজ করে চলেছে। তাদের একটাই লক্ষ্য যে করেই হোক, হিন্দুদেরকে খ্রিস্টান ধর্মে ধর্মান্তরিত করা। সেই কাজে তাঁরা নানা রকম কৌশল অবলম্বন করছেন। কখনো রোগ ভালো করে দেওয়ার নাম করে, কখনও বা সেবার নামে হিন্দুদের ধর্মান্তরিত করা হচ্ছে। আর বেশিরভাগ ক্ষেত্রে খ্রিস্টান মিশনারীদের টার্গেট পিছিয়ে পড়া, গরিব হিন্দু। গরিব হিন্দুদের ধর্মান্তরিত করা হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু সরকারি নথিপত্রে তাঁর আগের নাম ও পরিচয় থাকছে। আর এটা করা হচ্ছে খ্রিস্টান মিশনারীদের কৌশল অনুযায়ী ।

কিন্তু এর কারণ কি? একজন দলিত, পিছিয়ে পড়া, তফসিলি উপজাতি কিংবা আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষ সরকারি ক্ষেত্রে চাকরিতে সংরক্ষণের সুবিধা লাভ করেন। শুধু তাই নয়, সরকারি নানারকম যোজনার সুবিধা লাভ করেন তাঁরা। পাশাপাশি সন্তানরা লেখাপড়া, সরকারি স্কলারশিপ পেয়ে থাকেন। আর একটি সুবিধা রয়েছে, তা হলে ভোটে আসন সংরক্ষণ। কিন্তু কোনো ব্যক্তি যদি খ্রিস্টান ধর্মে ধর্মান্তরিত হওয়ার পরে তিনি তাঁর নাম, ধর্ম পরিবর্তন করেন এবং সরকারি নথিপত্রে খ্রিস্টান নাম উল্লেখ করেন, তাহলে তিনি সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন। আর এটা যদি হতে থাকে, তাহলে বহু মানুষ খ্রিস্টান ধর্মে ধর্মান্তরিত হতে চাইবেন না। কারণ, বহু মানুষ এটা জানেন যে, তাঁরা আদিবাসী, উপজাতি সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত বলেই তাঁরা সরকারি সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন। আর তাই ধর্মান্তকরণের প্রক্রিয়া জোর ধাক্কা খাবে। আর তাই নতুন কৌশল। অর্থাৎ একজন ব্যক্তি নামে আদিবাসী, উপজাতি, তফসিলি জাতির হবে; কিন্তু ভিতরের পুরোটাই হবে খ্রিস্টান। এইভাবে ভারতের সংবিধান, আইনের দুর্বলতার সুযোগে খ্রিষ্টানিকরণ চালিয়ে যাচ্ছে মিশনারীরা। 

এসবের বেশ কিছু উদাহরণ বাস্তবে রয়েছে। তামিলনাড়ুর প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতা, অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী জগণ রেড্ডি এবং সদ্য প্রয়াত ছত্তিশগড়ের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অজিত যোগী। এরা সকলেই ধর্মান্তরিত খ্রিস্টান হলেও ভোটের কথা মাথায় রেখে নিজেদের আসল পরিচয় কখনো প্রকাশ করেননি। হিন্দু পরিচয় দেখিয়ে হিন্দু জনতাকে বোকা বানিয়ে গিয়েছেন। 

তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতার মৃত্যুর পর তাকে খ্রিস্টান রীতি মেনে কবর দেওয়া হয়েছিল। অজিত যোগীকেও খ্রিস্টান রীতি অনুযায়ী কবর দেওয়া হয়।

 আর অন্ধ্র প্রদেশের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীও একই সুরে গান গেয়েছেন। তিনি মন্দিরের ওপর ট্যাক্স চাপিয়েছেন। তিরূপতি মন্দিরের সম্পত্তি বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কিন্তু চাপে পড়ে সে সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন। যদিও অন্ধ্র প্রদেশের চার্চ ও মিশনারীদের হাতে থাকা বিশাল সম্পদ ও অর্থের দিকে নজর দেননি তিনি। জগণ রেড্ডি নিজে ধর্মান্তরিত খ্রিস্টান হলেও , নিজের হিন্দু নাম ব্যবহার করে জনতাকে বোকা বানিয়ে ভোটে জিতেছেন। ঠিক এইভাবে নিঃশব্দে জনতাকে বোকা বানিয়ে কাজ করে চলেছে খ্রিস্টান মিশনারীরা। ভারতের সংবিধান ও আইনকে কাজে লাগিয়ে এই কাজ করে চলেছে তাঁরা। আর সংখ্যাগুরু হিন্দু জনতা বোকা হয়ে বসে বসে দেখছে, কিন্তু কিছুই বুঝছে না। 

(Image: @noconversion, Twitter)

We are not big media organisation. Your support is what keeps us moving. Don't hesitate to contribute because, work, for society needs society's support. Jai Hind.

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here