কেন কমিউনিটি বিজনেস বা সামাজিক ব্যবসা দরকার?

3
336

© রত্না সান্যাল

ইজরায়েলীরা আজ ছোট একটা ভূখণ্ডের বুকে নিজেদের ইজারায়েলী পরিচয় নিয়ে সসন্মানে টিকে আছে।পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে নিশ্চিহ্ন হতে হতেও নিশ্চিহ্ন হয়নি যে জাতি নতুন ইজরায়েল ভূখণ্ড পাওয়ার পর কত টা লড়াই করেছে,কত টা আত্মত্যাগ করেছে,কত টা একতাবদ্ধ হয়েছে আজকের ইজরায়েল বানানোর জন্য সেই কাহিনী কজন জানে বা জানার চেষ্টা করে?শুধু তাই না আজ তারা শুধু নিজেদের বাঁচায় না অন্য দেশকে বাঁচাবার ও ক্ষমতা রাখে।আত্মত্যাগ ছাড়া,একতা ছাড়া,লড়াই ছাড়া ভারতের হিন্দুরা যদি মনে করে তারা ১০০০ বছরের ইসলামিক আগ্রাসনের হাত থেকে এমনি এমনি বেঁচে যাবে,এক মোদী জী সব হিন্দু দেশবাসীকে স্বর্গে বাস করার ব্যাবস্থা করে দেবে তাহলে তারা নরকে যাবার প্রস্তুতি নিতে শুরু করুক কারণ তাদের নরক যাত্রা নিশ্চিত।

নিজের দেশকে স্বর্গ বানাতে চাইলে প্রত্যেকটা হিন্দুকে ভূমিকা নিতে হবে।ভূমিকা বলতে এখন যদি সবাই বলে প্রত্যেক হিন্দু কে মোদী হতে হবে তাহলে তারা ঘুমাও।গায়ে আগুন লাগলে নাহয় উঠে জল ঢেলো নিজেদের গায়ে।

ভারতের অর্থনীতি,রাজনীতি,সমাজনীতি আজ মুসলমানদের হাতে চলে,নতুন করে আবার চলে গেছে অথচ আমরা কেউ সেদিকে ফিরে ও তাকাই না।কোন চিন্তা ভাবনা ও করিনা।সব দোকান বাজার আজ মুসলমানদের দখলে।আমরা ইচ্ছায় হোক বা না হোক তাদের হাতে আমাদের অর্থ তুলে দিতে বাধ্য হই কারণ আমরা না খেয়ে থাকতে পারবো না আর সেই অর্থ ওরা খরচ করে আমাদের হত্যা করতে অস্ত্র কিনতে,আমাদের হত্যা করার জন্য ওয়াজ করতে।আমরা মহানন্দে হিমালয় কোম্পানির প্রডাক্ট ব্যাবহার করি কিন্তু কজন লোক জানে হিমালয় কোম্পানির মালিক মুসলিম?শুধু মুসলিম হলে অসুবিধা ছিল না কিন্তু সে তার রোজগারের বিশাল একটা অংশ PFI কে যাকাত দেয়।PFI কি করে?ভারত দখল করার জন্য লড়াই করে,হিন্দুদের কাটে,হিন্দু মেয়েদের ঘর থেকে নিয়ে যায়।তার অর্থ কি হলো?আমরা অর্থ দিচ্ছি মুসলমানদের এই জন্য,”এসো তোমরা আমাদের কাটো আর ধর্ষণ করো,”এই বলে।

সব হিন্দু মেয়েরা হাবিব বলতে পাগল,সেখানে রূপচর্চা করতে ছোটে অথচ বহু হিন্দু ছেলেমেয়ে অর্থের অভাবে পার্লার বানাতে পারেনা।আমরা যদি কমিউনিটি পার্লার বানাতে পারি সবার অর্থে আর সবাই সেখানে স্বাধীন ভাবে কাজ করে তবে তো আমাদের অর্থ ওদের হাতে যায়না,আমাদের ঘরেই থাকে।এই হাবিব ই কিন্তু আমাদের মা দুর্গাকে নিয়ে ইয়ার্কি করেছিল অথচ তার কিন্তু মহম্মদকে নিয়ে ইয়ার্কি করার কথা মনে হয়নি।
এত কিছুর পর ও কোন মতেই হিন্দুরা তাদের অর্থনীতি নিজেদের মধ্যে ধরে রাখার চেষ্টা করেনা,যেটা মুসলমানরা করে থাকে।এ কেমন জাতি?পরিশ্রম করবে না,বুদ্ধির প্রয়োগ করবে না।চাকরী জুটলে ভাল তাতে যা বেতন পাবে তাই দিয়ে যেমন ভাবে হয় জীবন কাটাবে। না পেলে জমি বেচে টাকা ব্যাঙ্কে রেখে সুদ দিয়ে জীবন কাটাবে কিন্তু ব্যাবসামুখী হবেনা,উল্টে যারা ব্যাবসা করে তারা ও সুযোগ খোঁজে কিছু বেশী টাকার বিনিময়ে নিজেদের ব্যাবসা মুসলমানদের হাতে বেচে দিয়ে সেই টাকার সুদে বসে বসে খাবে।হিন্দুরা দান খয়রাত করে হিন্দুর অর্থ দিয়ে মুসলমানদের মধ্যে,এমনকি হিন্দু সব ধর্মীয় সংস্থাও সেই কাজই করে অথচ মুসলমানরা তাদের যাকাতের অর্থ মুসলমানদের ছাড়া কোন হিন্দুকে দেয়না।
ভারত কে আবার বাঁচাতে হলে,হিন্দুদের বাঁচতে হলে হিন্দুদের নিজেদের অর্থনীতি নিজেদের মধ্যে ফিরিয়ে আনতে হবে।হিন্দুর অর্থ কোন পরিস্থিতি তে ই মুসলমানদের হাতে যেতে দেওয়া যাবে না আর তারজন্য আমাদের কমিউনিটি বিজনেসের কথা ভাবতে হবে।ব্যাক্তিগত স্তরে মানুষ ব্যাবসা করে কিন্তু তারজন্য আর্থিক ভাবে শক্তিশালী হতে হয়,অনেক আইন কানুনের বেড়াজাল পার হতে হয়,অনেক ঝামেলা পার হতে হয়।অথচ আমরা যদি হিন্দু কমিউনিটি ব্যাবসা শুরু করতে পারি তাহলে ছোট থেকে বড় সব রকমের ব্যবসার অর্থ হিন্দুদের মধ্যেই থাকবে মুসলমানদের হাতে যাবে না আর হিন্দুদের অর্থ ওদের হাতে না গেলে ওদের শক্তি কমতে বাধ্য আর ওদের অর্থনীতি দুর্বল করতে পারলে ওরা আমাদের ধ্বংস করতে পারবে না।
পান থেকে চাল,মাংস থেকে কাপড়,সবজি থেকে গামছা,ফল থেকে বাসন অর্থাৎ প্রতিটা জিনিসের ব্যবসা হিন্দুদের করতে হবে,এমনকি ম্যানুফ্যাকচারিং ও।আমরা কেন আলিগড়ের তালা ই ব্যাবহার করতে বাধ্য হবো?তালা বানানো কি খুব কঠিন কাজ?কোন হিন্দু বানাতে পারবে না?তাহলে?কেন আমরা বানাবো না?আমাদের নটরাজ কেন মুসলিমরা পিতল বা ব্রোঞ্জ  দিয়ে বানায়?কেন হিন্দুরা সেগুলো বানায় না?কেন আমরা হালাল মাংস খেতে বাধ্য হই?কেন নিজেরা ঝটকা মাংসের ব্যাবসা করিনা?ওদের মতো হিংস্র না?একটা স্লটার হাউজ কেন বানাই না?সব হিন্দুদের উদ্দেশ্যে বলছি আপনারা যদি অনলাইন হিন্দু কমিউনিটি ব্যাবসায় আগ্রহী হন তাহলে মতামত রাখুন সবাই।আমরা একটা অনলাইন কমিউনিটি ব্যাবসার ভাবনা চিন্তা করছি।সবাই এগিয়ে আসলে কম বিনিয়োগে সব ধরনের ব্যাবসা শুরু করা যেতে পারে।গ্রসারী,স্টেশনারী,ফল,সবজি সবকিছু নিয়ে করা যেতে পারে।আলাদা আলাদা গ্রুপ আলাদা আলাদা জিনিসের ব্যাবসা করতে পারে।একজন বিভিন্ন জিনিসের ব্যবসায় অল্প অল্প বিনিয়োগ করতে পারে।বড় ব্যাবসায় বেশী বিনিয়োগ করা যেতে পারে।এইসব গের লভ্যাংশ  প্রযুক্তির ব্যাবসায় বিনিয়োগ করতে পারি।
তাহলে আর চাইনিজ ফোন কিনে আমাদের অর্থ চীনকে দিয়ে ধনী করার দরকার হবেনা।চীন ভারতে ৬০ হাজার কোটি টাকার ব্যাবসা করছে,ধীরে ধীরে সব শেয়ার কিনে নিচ্ছে।HDFC ব্যাঙ্কের  ১% এর বেশী শেয়ার কিনে নিয়েছে।এটা জানাও যেত না গোপন থাকতো কিন্তু ১% এর বেশী শেয়ার কিনলে গোপন রাখা যায়না তাই এটা জানা গেছে কিন্তু তাও কটা লোক জানে বা খোঁজ রাখে সন্দেহ আছে।এরপর যারা HDFC থেকে হোম লোন নেবে তারা চীনকে টাকা দেবে।এছাড়া জোম্যাটো,সুইগী,টিকটক,উবের সবকিছু চাইনিজ।ভারতের হিন্দুদের সব অর্থ মুসলমানদের হাতে চলে যাচ্ছে আর চীনের হাতে চলে যাচ্ছে।এরপর চীন আর মুসলমানরা মিলে আমাদের দেশ থেকে আমাদের তাড়াবে।তারা বাঁচালে বাঁচবো,মারলে মরবো,এই পরিস্থিতি তৈরী হবে।ভারতেরহিন্দুদের বাঁচানোর জন্য এই প্রচেষ্টা,জানিনা হিন্দুরা আগ্রহী হবে কিনা!তবে আশা রাখবো সবাই সবার মতামত অন্তত জানাক জানালে অন্তত বুঝতে পারবো হিন্দুরা কি ভাবে আর সেটার জন্য কোন অর্থ ও খরচ হবেনা।যদি হিন্দুদের কাছে প্রস্তাবটা গ্রহনযোগ্য হয় তাহলে আলাদা আলাদা করে বিভিন্ন ব্যাবসা নিয়ে ডিটেল আলোচনায় যাব,কি ভাবে কোন ব্যাবসা করা যেতে পারে সেসব আলোচনা করবো।সব ব্যাবসা অন লাইন ভিত্তিক হবে।কোন কারচুপির যায়গা থাকবে না।মানুষ ঘরে বসে সব পেয়ে যাবে।চেষ্টা করা হবে মার্কেট থেকে দাম কম রাখা যায় কিনা,যাতে মার্কেট ভাল তৈরী হয়।জিনিসের কোয়ালিটির সাথে কোন সমঝোতা হবেনা।এগুলো আমাদের নীতি থাকবে।
এবার একটা শর্ত থাকবে কমিউনিটি ব্যাবসার।কোন অহিন্দু যোগাযোগ করতে পারবে না কোন মতেই।জাল নাম নিয়েও না।সব যাচাই না করে কাউকে নেওয়া হবেনা।তাই মতামত ও শুধু হিন্দুরা ই দেবেন।

(মতামত লেখিকার ব্যক্তিগত)

We are not big media organisation. Your support is what keeps us moving. Don't hesitate to contribute because, work, for society needs society's support. Jai Hind.

3 COMMENTS

  1. খুব ই ভালো হবে যদি উদ্যোগ নেয়া হয়। আমি আগ্রহী ও সহযোগীতা করতে ও রাজি।

  2. উত্তম প্রস্তাব। আমি এই কাজ করতে আগ্রহী। দেশ, ধর্ম ও সংস্কৃতি রক্ষায় আমি সদার্থক ভুমিকা নিতে প্রস্তুত।

    • সঙ্কীর্ণতা যতোই বাড়বে দেশের গনতন্ত্র ও সংবিধান ততোই নিরাপত্তা হারাবে। যারা এদুটো কে ভালোবাসতে অক্ষম, তাদের সরকারে থাকার কোন অধিকার নেই। যারা এটাকে অপমান করার চেষ্টা করবে, তাদের জনতা শাস্তি দেবে। জয় হিন্দ, জয় মূল নিবাসী ভারতীয়।

Comments are closed.