ইসলামিক আগ্রাসন প্রতিরোধে বন্ধ থাকুক জপ, তপ, ধ্যান; চলুক ধর্মরক্ষার প্রস্তুতি

0
551

© শ্রী তপন কুমার ঘোষ
ইসলামিক আগ্রাসনের মুখে পড়ে সবরকম দিব্যজ্ঞান, জপ তপ ধ্যান আসন প্রাণায়ামের কথা আগামী ১০ বছর স্থগিত রাখতে হবে। আগে অন্যকে মানে মুসলিমদেরকে নিয়ন্ত্রণ করে দেখান। তারপর আত্মনিয়ন্ত্রণ, আত্মশুদ্ধি, মোক্ষ, ইত্যাদির কথা ভাববেন। ব্যস, আর মাত্র ১০ বছর সময় হাতে আছে। এর মধ্যে হয় সারা ভারতে হিন্দুর মালিকানা ownership, titlesuit স্থাপিত হবে। অথবা পশ্চিমবঙ্গের হিন্দুরা কাশ্মীরি হিন্দুদের মত রিফিউজি হবে, অথবা ইসলামধর্ম গ্রহণ করে একটি নতুন মুসলিম রাষ্ট্রের বা বর্ধিত বাংলাদেশের বাসিন্দা হবে।

জপ তপ ধ্যান যোগ প্রাণায়াম সব বন্ধ রাখুন আগামী দশ বছর। আগে এই পশ্চিমবঙ্গের মাটির উপর নিজের মালিকানা নিশ্চিত করুন। জপ তপ ধ্যান করলে মানুষ অন্তর্মুখী হয়। তখন বাইরে কী ঘটছে তা আর নজরে থাকে না। তাই আজ আপনারা ভণ্ড গুরুদের পাল্লায় পড়ে জানতে পারছেন না, বুঝতে পারছেন না যে আপনার পাশের বাড়ির পাশের এলাকার মুসলমানরা কী ভাবছে। তারা ভাবছে, ১৭৫৭ সালে ইংরেজরা ছল চাতুরী ও বিশ্বাসঘাতকতার দ্বারা এই দেশ মুসলমানের হাত থেকে ছিনিয়ে নিয়েছিল। তাই ১৯৪৭ সালে দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার সময় ইংরেজদের উচিত ছিল এই দেশকে মুসলমানের হাতেই তুলে দেওয়া। তা না করে ইংরেজরা অন্যায়ভাবে ভারতবর্ষকে হিন্দুর হাতে তুলে দিয়ে গেছে মুসলমানকে বঞ্চিত করে, ঠগিয়ে। তারা ভাবে, তাদের পূর্বপুরুষরা শক্তি দিয়ে এই দেশকে জয় করেছিল। তাই ইংরেজ চলে যাওয়ার পর এদেশের ন্যায্য মালিক ও দাবীদার তারাই। সেই দাবীকে পূরণ করার জন্য ওদের প্রস্তুতি এখন তুঙ্গে। আমরা এখনই এর মোকাবিলা না করতে পারলে ওইসব ভণ্ড গুরু, গুরুর চেলা সহ আমাদের সবার কপালে আছে অনেক দুর্যোগ। কেউ বাদ যাবে না।

ওইসব ভণ্ড গুরু, গুরুবংশ আর গুরুভজা প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্তাব্যক্তিরা জানে না ১৯৪৬-৪৭ এর মত কী প্রলয় এগিয়ে আসছে হিন্দুর জীবনে। তাই এখন বাঙালি হিন্দুর জীবনে জরুরী অবস্থা। এই অবস্থায় সমাজে ধ্যান জপ তপ বন্ধ করে ওগুলো শুধু মন্দির ও আশ্রমে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। আর গোটা সমাজে করতে হবে এক সার্বিক যুদ্ধের প্রস্তুতি। এ যুদ্ধ বাঁচার যুদ্ধ, নিজের অস্তিত্ব রক্ষার যুদ্ধ, নিজের ধর্ম রক্ষার যুদ্ধ, মা বোনের সম্ভ্রম রক্ষার যুদ্ধ। সর্বোপরি এই মাটির উপর মালিকানা establish করার যুদ্ধ। আর একটা সাবধানবাণী: এই যুদ্ধ মোদীজী লড়ে দেবেন না। এমনকি মোদীজী-র নেতৃত্বেও হবে না। এটা Civilizational war. তাই কোন রাজনৈতিক নেতার দ্বারা এই যুদ্ধ পরিচালিত হবে না। নিশ্চিতভাবে এই যুদ্ধ হবে কোন ধার্মিক বা সামাজিক নেতার নেতৃত্বে। যেমন মায়ানমারে এই যুদ্ধের নেতৃত্ব বরেণ্য নেত্রী সু চি দিচ্ছেন না, যেহেতু তিনি রাজনৈতিক নেত্রী ও রাষ্ট্রনায়ক। মায়ানমারে এই যুদ্ধের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বৌদ্ধ সন্ন্যাসী আশিন উইরাথু। মোদীজী-র ভূমিকা থাকবে কুরুক্ষেত্র যুদ্ধে শ্রীকৃষ্ণের মত। শ্রীকৃষ্ণ যেমন কুরুক্ষেত্র যুদ্ধে প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ করেন নি। তিনি ওই যুদ্ধটাকে সম্ভব করে তুলেছিলেন। তিনি না হলে ওই যুদ্ধটাই হত না। ঠিক সেইরকম এখনও আমাদের শত্রুপক্ষের এজেন্ট যারা আছে তাদের চেষ্টা হল এই ধর্মযুদ্ধটা না হতে দেওয়া, এবং আরো কিছুটা দেরী করে (২০ বছর) এমন পরিস্থিতি তৈরী হতে সাহায্য করা যখন মুসলমানরা বিনা যুদ্ধে এই মাটির দখল নিতে পারে। ঠিক যেমন কাশ্মীরের মাটির দখল নিতে ওদেরকে যুদ্ধ করতে হয় নি। এক হুমকিতেই কাজ হয়ে গিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ ও আসামেও তারা তাই চায়। এখানেই হবে মোদীজী র ভূমিকা। উনি এটা হতে দেবেন না। উনি মুসলিমের সঙ্গে লড়াই করবেন না। উনি শুধু Battle line টা draw করতে সাহায্য করবেন এবং ওই যুদ্ধটাকে facilitate করবেন। এগিয়ে আনবেন। যুদ্ধটা করতে হবে সমাজকেই। কারণ সেনার সঙ্গে সেনা লড়ে। কোন একটা সমাজের সঙ্গে সমাজকেই লড়তে হবে। সুতরাং গোটা হিন্দু সমাজকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হতে হবে আমাদের Civilization কে রক্ষা করার জন্য। এই দেশ যাতে তালিবানের আফগানিস্তান অথবা আইসিস এর সিরিয়া না হয়ে যায় সেজন্য।
একজন প্রশ্ন করেছেন, কার সঙ্গে কার যুদ্ধ এটা? এবং এই যুদ্ধে পক্ষ সমূহ কারা কারা? আমার উত্তর:
এই যুদ্ধ Civilizational War. এই যুদ্ধ হবে, অথবা হতে হবে হিন্দু বনাম মুসলিম। এবং খ্রীস্টান, বৌদ্ধ, পার্সি, শিখ, বিভিন্ন গুরু-ভজারা (ISKCON included), নাস্তিক (হিন্দু ও মুসলিম উভয়), সেকুলার, লিবারেল, কম্যুনিস্ট, জাতিবাদী, দলিতবাদী, দ্রাবিড়বাদী, বিভিন্ন ভাষাপ্রেমিক, রাবীন্দ্রিক, এদের সবাইকে বাধ্য করা হবে কোন একটি পক্ষ নিতে। হিন্দু পক্ষ অথবা মুসলিম পক্ষ। এটাকেই আমি বলছি Battle Line draw করা। স্পষ্ট করা। ঠিক এই কাজটাই মোদীজী ও অমিত শাহ করছেন।উদাহরণ: নাসিরউদ্দিন, জাভেদ আখতার, এরা কোন্ দিকে বোঝা যেত না। মোদীজী র পদক্ষেপের ফলে বোঝা গেল ওরা কোন্ দিকে। আর একটা মজার উদাহরণ দেখুন। বিজেপি নেতা, পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির সহ সভাপতি চন্দ্র বসু। মোদীজী তাঁকে কত খাতির করলেন। বিশেষ অনুষ্ঠান করে লালকেল্লায় নিয়ে গেলেন। কিন্তু এখন বেরিয়ে পড়ছে চন্দ্র বসু আমাদের দিকে অর্থাৎ হিন্দুর দিকে নেই। (চিন্তা করবেন না, এতে মোদীজী মোটেই ধাক্কা খাবেন না। এসব ওনার হিসাবের মধ্যেই ধরা আছে)এই তো সবে শুরু। ব্যাটল লাইনটা আরও স্পষ্ট করতে হবে। আমার দৃঢ় আশা মোদীজী সেটা করবেন। তাহলেই কাজ হয়ে যাবে। মুসলিম পক্ষকে হয় লড়তে হবে অথবা সারেন্ডার করতে হবে। হিন্দু পক্ষ নিশ্চিতভাবে সারেন্ডার করবে না। কারণ হিন্দুরা কখনোই ভীতু ও কাপুরুষ নয়। তারা শুধু বিভ্রান্ত। তাদের শুধু ঘাটতি শত্রু ও মিত্র চেনাতে। হিন্দু পৃথিবীর অপরাজেয় জাতি। ইতিহাসে সেকথা প্রমাণ হয়ে গেছে বহুবার। হিন্দুর আছে তিনটি দুর্বলতা। (১) বিভ্রান্তি (২) ভুল, স্বার্থপর ও কাপুরুষ নেতৃত্ব, (৩) সদগুণবিকৃতি। মানে শত্রু, হন্তারক ও বিশ্বাসঘাতক এর প্রতি দয়া ও ক্ষমা এবং “শঠে শাঠ্যং সমাচারেৎ” নীতিবাক্য ভুলে যাওয়া।এই তিনটি দুর্বলতা হিন্দু যদি কাটিয়ে উঠতে পারে এবং মুসলিমরা যদি এ মাটির উপর হিন্দুর স্বামিত্ব মেনে না নিয়ে লড়তে চায়, তাহলে হিন্দু কখনই পিছু পা হবে না। হিন্দু লড়বে এবং জিতবে। একটা পূর্বশর্ত : যুদ্ধ শুরুর যথেষ্ট আগেই হিন্দু সমাজকে সঠিক নেতৃত্ব চয়ন করে নিতে হবে। বেঠিক নেতৃত্ব হলে সেই নেতৃত্বই হিন্দু সমাজকে লড়তে দেবে না। বিভিন্ন কুযুক্তি দেখিয়ে এবং হিন্দুর মনোবল ভেঙে দিয়ে হিন্দুকে আপোষ করতে বাধ্য করবে। মোদীজী ২০০২ এ গুজরাটে এবং ২০২০ তে দিল্লীতে হিন্দুদেরকে লড়তে দিয়েছেন। এরকম আর একটি সঠিক নেতৃত্ব ছিল নরসিমা রাও। ১৯৯২ সালে ৬ ই ডিসেম্বর তিনি পাঁচ ঘণ্টা পূজা ঘরে ঢুকে থেকে অযোধ্যায় হিন্দুকে লড়তে দিয়েছিলেন। জানি আমার এই কথায় বিতর্ক হবে। তবু আমার বোধ বুদ্ধি, জ্ঞান বিবেচনা মত আমি এইকথা বললাম ও বলব। নেহেরু, গান্ধী, বাজপেয়ী, আদবানির মত নেতৃত্ব হলে হিন্দুর সমূহ সর্বনাশ। হিন্দুর এখন গান্ধী নয়, আব্রাহাম লিঙ্কন চাই। প্রথম কথায় ফিরে আসি। ব্যাটল লাইন স্পষ্ট হওয়া মানে সবাইকে বাধ্য করা কোন একটি পক্ষ নিতে। সেই কাজ মোদীজী facilitate করবেন। তারপর বাকি কাজটা হিন্দু সমাজকে করতে হবে। তার জন্য হিন্দু সমাজকে প্রস্তুত করার কাজ আমাদের। ভারত দেশের মাটি রক্ষা, হিন্দুর ধর্ম রক্ষা ও বিশ্বের মানবতা রক্ষার (to preserve human civilization) জন্য হিন্দুর মানসিক প্রস্তুতি ও ধর্মযুদ্ধের প্রস্তুতি – এ কাজ আমাদের।
এই বিশ্বব্যাপী যুদ্ধে ব্যাটল লাইন এখনো স্পষ্ট নয়। যেমন পশ্চিম ইউরোপের পুঁজিপতি শিল্পপতিরা তাদের কল কারখানায় মাস প্রোডাকশনের জন্য সস্তা শ্রমিক পাওয়ার স্বার্থে নিজেদের দেশগুলির সরকারকে প্রভাবিত করেছে মধ্য প্রাচ্যের উচ্ছন্নে যাওয়া মুসলিম দেশগুলি থেকে বিপুল সংখ্যক অভিবাসী (migrants) গ্রহণ করতে। এর ফলে ওইসব দেশের নাগরিক নিরাপত্তা বিপন্ন, পরিচ্ছন্নতা, স্বাস্থ্য পরিকাঠামো, এসবের উপরে প্রচণ্ড চাপ পড়ছে। তবু ওই ধনকুবেরদের ব্যবসায়িক স্বার্থ রক্ষায় এ জিনিস হচ্ছে। গোটা পশ্চিম ইউরোপ পতনের মুখে। তাই এখন বিশ্বে চাই একজন শ্রীকৃষ্ণ, যিনি বর্তমান কুরুক্ষেত্রের ওই যুদ্ধ-রেখাটা টানবেন। আর একজন প্রশ্ন করেছেন, ভীতু ও যুদ্ধ বিমুখ বাঙালি জাতি কি লড়তে পারবে?আমার উত্তর:
বাঙালি কখনোই যুদ্ধ বিমুখ জাতি নয়। শিক্ষিত মধ্যবিত্ত বাঙালি ভীতু, লোভী, অলস, স্বার্থকেন্দ্রিক ও কেরিয়ারিস্ট। কিন্তু বাঙালি বলতে শুধু তাদেরকেই বোঝায় না। বাগদী, ডোম, হাড়ী, কাওড়া, বাল্মীকি, কৈবর্ত, গোয়ালা ঘোষ, নমশূদ্র, মাহাতো, চাঁই মণ্ডল, সাঁওতাল, রাজবংশী, অন্যান্য আদিবাসী, প্রভৃতি জাতি (caste) প্রচণ্ড সাহসী। তাদেরকে যোগ্য মর্যাদা দিয়ে তাদের হাতে সামাজিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাকে তুলে দিলেই পুরো চিত্রটা বদলে যাবে, পাল্টে যাবে।

(লেখক হিন্দু সংহতির প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রাক্তন সভাপতি)

We are not big media organisation. Your support is what keeps us moving. Don't hesitate to contribute because, work, for society needs society's support. Jai Hind.