বাঙালি হিন্দুর উত্তরণ কোন পথে? কিছু ভাবনা- (২)

0
138

© জয় রাজ

(দ্বিতীয় পর্ব)

কি হবে কর্মসুচী

  • মাসমোবিলাইজেসন- বুথস্থর, বিধানসভা, লোকসভা এবং রাজ্যস্থরে সমাবেশ।
  • নিবিড় জনসংযোগ- বাড়ি বাড়ি প্রচার অভিযান মাসিক বুথসভা।মহিলাদের মধ্যে বিশেষ প্রচার।বিধানসভা স্থরে হিন্দুমেলার আয়োজন ।
  • প্রচার ইন্টারনেট ও মুদ্রন- বাঙ্গালী হিন্দুজাতীয়তাবাদ সংক্রান্ত তথ্যবলীর অনলাইন পাঠ্য তৈরী,মুদ্রন প্রকাশনা।সোসাল মিডিয়ায় ও মাল্টিমিডিয়ার সাহায্যে অফলাইনে নিবিড় প্রচার।বিশেষত এনআরসি,ইয়ুসিসি,জন্মনিয়ন্ত্রন বিধির মত বিষয়ে জনমতগঠন।
  • তথ্যপঞ্জী তৈরী- প্রত্যেকটি হিন্দুর ডিজিটাল তথ্যপঞ্জী।
  • দাবীসনদ রচনা- জনমত ও বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় আঞ্চলিক ও রাজ্যস্থরে হিন্দুস্বার্থ সম্পর্কিত অর্থনৈতিক,সামাজিক ও সাংস্কৃতিক দাবীসমূহ পঞ্জীকৃত করা

নির্বাচনের আগে ও পরে

  • বিভিন্ন দলের সামনে দাবীসনদ পেশ ও বৈঠক- নির্বাচনের পূর্বে প্রধান রাজনৈতিক শক্তিগুলির কাছে দাবীপত্র নিয়ে বৈঠক
  • নির্বাচনী প্রচার ও সভা-কর্মসূচীভিত্তিক সমঝোতার ভিত্তিতে রাজনৈতিক দলকে সমর্থন ও সামগ্রিক জনসমাজের কাছে প্রচার।বিশেষ করে একদলকে ভোট ও সবার ভোটদানের প্রসঙ্গটি ঘরে ঘরে প্রচার করতে হবে।
  • নিজস্ব প্রার্থী- নূন্যতম কয়েকজন প্রার্থী হিন্দু সমাজের পক্ষ থেকে যারা স্বাধীনভাবে বক্তব্য রাখতে পারেন
  • কর্মসুচী তৈরী- সরকার গঠনের সময় দপ্তর ভিত্তিক কর্মসূচী বিনিময়
  • সরকারে নিয়মিত মতদান- সরকারের সাথে সমন্বয় কমিটি গঠন।

সমাজের বিভিন্ন বর্গকে যুক্ত করা

ধর্মীয় সঙ্ঘ গুলির সাথে সম্পর্ক-পশ্চিমবঙ্গের ছোট বড় ধর্মীয়সংঘ গুলিকে সংগঠনের সভায় আমন্ত্রন।তেমনি তাদের মধ্যেও প্রচার।বিশেষত হিন্দুর অস্তিত্বরক্ষার সংগ্রামে তাদের ভূমিকার কথা বার বার স্মরন করাতে হবে।বিভিন্ন হিন্দুসংগঠনের সাথে সম্পর্ক-পশ্চিমবাংলায় লাভজিহাদ,দাঙ্গাপ্রতিরোধ,গরুপাচাররোধ,অনুপ্রবেশবিরোধ,উদ্বাস্তু আন্দোলন এমন বহুহিন্দুস্বার্থ সংশ্লিষ্ট অনেক সংগঠন কাজ করছে।তাদের সাথে সমন্বয় সাধন।বিভিন্ন পেশার হিন্দুর সাথে সম্পর্ক-বিভিন্ন পেশার হিন্দুদের আঞ্চলিক ও রাজ্যস্থরে মতবিনিময় সভা।উপরের তিনটি বর্গকেই আন্দোলন,দাবীসনদ নির্মানে যুক্ত করতে হবে।

সংগঠনের গঠন পরিকল্পনা

সাগর থেকে পাহাড় ২৯৪টি বিধানসভায় ৭০হাজার বুথে ৭কোটি হিন্দুকে নিয়ে আন্দোলন একটি বিশাল কর্মযজ্ঞ। রাজনৈতিক দল নয় অথচ রাজনৈতিক দলের মতই ব্যাপক জনজাগরন করে যেতে হবে।যেকোন আন্দোলন গড়ে ওঠে কর্মী,পরিচালক ও আর্থিক তহবিল নিয়ে।এমন বিরাট আন্দোলন সৃষ্টি করতে গেলে যেমন হাজার হাজার কর্মী ও পরিচালককে প্রশিক্ষন দিতে হবে এছাড়া পরিকাঠামো ও আন্দোলন সংক্রান্ত ব্যয় হবে।সুতরাং আন্দোলনের বিষদ আর্থিক রুপরেখা তৈরী করা প্রয়োজন।শুধুমাত্র দান নির্ভর না হয়ে বিনিয়োগের মাধ্যমে একটি মজবুত আর্থিক ভিত্তি রচনা করা সম্ভব।রিটেল,বিনোদন সহ নানা ক্ষেত্রে বিবেচনা ও পরিচালনার জন্য একটি নীতি নির্ধারন কমিটি হতে পারে।

ভবিষ্যত কর্মসুচী

যদিও এই আন্দোলনের একমাত্র কাজ হবে হিন্দুত্বের জাগরনের ভিত্তিতে বাঙ্গালী হিন্দুসমাজের সমগ্র নির্বাচনী শক্তিকে সংহত করা তবুও হিন্দুসমাজকে শক্তিশালী করতে আরো কিছু কর্মসূচী রুপায়নের লক্ষ্য দরকার।রাজনৈতিক ক্ষমতালাভের পর এগুলি আসবে।

  • নির্বাচক পুনর্বন্টন-নির্বাচন কমিশন ভবিষ্যতে দুরবর্তীস্থান থেকে ভোটদানের ব্যবস্থা করতে চলেছে।এই ব্যবস্থার সুবিধা নিয়ে সারা বাংলা জুড়ে সংগঠনের সাহায্যে হিন্দুভোটারদের নাম নতুন করে রেজিস্ট্রসন ।হিন্দুভোটার দের এমনভাবে সারাবাংলাজুড়ে ছড়িয়ে দিতে হবে যেন সবকয়টি বিধানসভা হিন্দুসংখ্যাগরিষ্ঠ হয়ে যায়।
  • হিন্দুবসতি স্থাপন- সমবায়ের মাধ্যমে হিন্দুর যৌথবসতি প্রতিটি মুসলিম প্রধান বিধানসভায় স্থাপন।
  • হিন্দুপ্রতিরোধ বাহিনী-বাঙ্গালী হিন্দুসমাজের সামরিকীকরনের জন্য স্বল্পমেয়াদী ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা।বিধানসভাস্থরে রাইফেল ক্লাব। গনপ্রতিরক্ষাবাহিনী গঠন।সামরিক শিক্ষার হাব নির্মান।ধর্মীয় মিছিলে হানা ও দাঙ্গা প্রতিরোধ পরিকল্পনার জন্য পুলিস ও সেনাবাহিনীর অবসর প্রাপ্তদের নিয়ে উপদেষ্টা মন্ডলী গঠন।
  • হিন্দুবাঙ্গালীর হোমল্যান্ড-১পশ্চিমবঙ্গকে হিন্দুবাঙ্গালীর হোমল্যান্ডরুপে আইনত ও পরিকাঠামোগত ভাবে গড়ে তোলা।ভবিষ্যতে পশ্চিমবঙ্গে এনআরসি হলে যাতে কোন বাঙ্গালী হিন্দুর হেনস্থা না হয়। সেইসাথে সারাভারতের ও বাংলাদেশের সমস্ত বাঙ্গালী হিন্দুর বাসস্থান বাংলায় গড়ে তোলা।যে যেখানেই থাকুক বাঙ্গালী হিন্দুমাত্রেই পশ্চিমবাংলায় যাতে একটি নিজস্ব বাসস্থান পায় সেটি নিশ্চিত করা।২পশ্চিমবাংলা ধর্মের ভিত্তিতে ভাগ হয়ে সৃষ্টি হয়েছে।মুসলমানদের বসবাসের জন্য পশ্চিমবাংলা তৈরী হয়নি।হিন্দুরাও মুসলমানদের সাথে বসবাস অসম্ভব একথা বিবেচনা করেই পশ্চিমবঙ্গ গঠনের আন্দোলন করেছিল।বাংলার হিন্দুদের গনভোটের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের মুসলমানদের ভবিষ্যত নির্ধারন হবে।
  • বাঙ্গালী হিন্দু সংসদ – পশ্চিমবাংলার হিন্দুধর্মীয় সঙ্ঘ হিন্দুসমাজের নানা বর্গের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি বাৎসরিক সভা যা বাঙ্গালী হিন্দু সমাজের জন্য সামাজিক,সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক নীতি প্রণয়ন করবে ও ভারতের অন্যপ্রদেশের ও বাংলাদেশের বাঙ্গালী হিন্দুসমাজের অবস্থা পর্যালোচনা করবে।
  • হিন্দুরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা -পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় হিন্দুরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব সমর্থন
  • জাতি ও পদবী নিষিদ্ধ-শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ বাঙ্গালী হিন্দুসমাজ গড়তে সবরকম জাতি ও পদবী আইনত নিষিদ্ধ করা হবে
  • জাতীয় মন্দির(ন্যাশনাল চার্চ) বিভিন্ন মত ও পথে বিভক্ত সমস্ত বাঙ্গালী হিন্দুকে ঐক্যবদ্ধ করতে একটি জাতীয় মন্দির স্থাপন যা বাঙ্গালী হিন্দুর সমস্ত সামাজিক স্থরের মধ্যে যোগসূত্রস্থাপন করবে।যেখানে বঙ্গজননী হবেন উপাস্য বন্দেমাতরম হবে উপাসনা।লিঙ্গবৈষম্য জাতীভেদ কুসংস্কার মুক্ত বিজ্ঞানমনস্ক যুক্তিবাদী প্রগতিশীল হবে এই মন্দির

শেষ কথা

বাঙ্গালী হিন্দুসমাজকে সংগঠিত হয়ে পশ্চিমবাংলার রাজনীতি,অর্থনীতি ও সংস্কৃতি সম্পূর্ণ করায়ত্ত করতে হবে।প্রতিদিন দিস্তা দিস্তা লিখে,বছরে পর বছর সভাসমিতি করে হাহুতাস করা মানে একজায়গায় দাঁড়িয়ে সাইকেল চালানোর মত।বাঙ্গালী হিন্দুর সমস্ত আন্দোলন হতে হবে এক লক্ষ্যে সুনির্দিষ্ট পথনির্দেশিকা মেনে।এর আর কোন বিকল্প নেই।বাঙ্গালী হিন্দু হয় লড়বে হবে নয় মরবে। (সমাপ্ত) 

We are not big media organisation. Your support is what keeps us moving. Don't hesitate to contribute because, work, for society needs society's support. Jai Hind.