বাঙালি হিন্দুর উত্তরণ কোন পথে? কিছু ভাবনা- (১)

0
142

© জয় রাজ

 বাঙালি হিন্দুর বর্তমান অবস্থাকে এককথায় বলা যায় সার্বিক এক্সটারমিনেসন। বাংলাদেশে এর শেষ পর্যায়, উত্তর-পূর্ব ভারতে মধ্যপর্যায় আর পশ্চিমবাংলায় এর শুরুর পর্যায় চলছে। এই প্রক্রিয়া বন্ধ করার একমাত্র শক্তি আছে পশ্চিমবাংলার হিন্দুর। তারাই বাঙ্গালী হিন্দুর অস্তিত্বরক্ষার সংগ্রামে নেতৃত্ব দিতে পারে।

একটি সংগঠন

ইসলাম একটি সর্বগ্রাসী রাজনৈতিক মতবাদ তাই মুসলিম সমাজে মসজিদ তৃণমুলস্থর থেকে মুসলমানদের রাজনৈতিক কর্তব্য, জনআন্দোলন এবং নির্বাচনী রাজনীতিতে দিকনির্দেশ করে থাকে।সাংগঠনিকভাবে নানা স্থরে তারা মাস মোবিলাইজেসন করে। গাজোয়া- এ -হিন্দের পর দার-উল-ইসলাম প্রতিষ্ঠা লক্ষ্যে মুসলিম সমাজ দীর্ঘমেয়াদী লড়াই করে চলেছে। অজগরের মত ভারতকে গিলে খাবার আগে মুসলমানরা সরকারকে দোহন করে একেবারে ধ্বংশ করার নীতি নিয়েছে। সমস্ত রাজনৈতিক দল কার্যত তাদের কাছে আত্মসমর্পন করেছে। মুসলিমদের সংহত ভোট ঘিরেই রাজনীতি ও প্রশাসন আবর্তিত হচ্ছে।প্রশাসন হিন্দুর প্রতিক্রিয়ার কোন ভয় করেনা। কারন হিন্দুরা সমাজগত ভাবে সংগঠিত নয়। সেকুলারিজমের ফাঁকাবুলি আর দলীয় রাজনীতির বিভেদে হিন্দু আত্মবিস্তৃত। হিন্দুরা হিন্দু সমাজের কথা ভেবে ভোট দেয়না। প্রবল সংখ্যাগুরু হয়েও মুসলিম ব্লকভোটের কাছে পরাজিত হয়। হিন্দুসমাজ রক্ষা ও উন্নতির কোন সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেই। প্রশাসনের সাথে হিন্দুসমাজের দাবী নিয়ে নীতিনির্ধারন করার মত সংগঠন বা শক্তি কোনটাই হিন্দুসমাজের নেই। এই সার্বিক নেই রাজ্যে হিন্দুবাঙ্গালীর কাজ হবে রাজ্যব্যাপী একটি সংগঠন তৈরী যা প্রচার করবে-

১)ব্যক্তিগত হিন্দু হলেই চলবেনা সমাজগত হিন্দু হতে হবে।

২)রাজনীতি সার্বিক সমাজ ও ধর্মরক্ষার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার।

৩)সম্মিলিত সমাজের ভোট ছাড়া হিন্দুর অস্তিত্ব বিপন্ন।৪) সমগ্র সমাজের সংহত শক্তি ছাড়া রাজনীতি সব সময় প্রতিকূল থাকবে৫প্রতিটা ভোট দামী।তাই ইতঃস্তত ভোটদান বা ভোটদান থেকে বিরত থাকলে চলবেনা…………….

সংগঠনের শ্লোগান হবে-

হিন্দু হয়ে ভোট দাওএকদলে ভোট দাও”

বাঙ্গলার নিজস্ব ইতিহাস থেকে হিন্দুত্বকে প্রতিষ্ঠা

বাংলা সামগ্রিক হিন্দুসভ্যতার অঙ্গ হলেও এর নিজস্বতা আছে।সরাসরি অন্যরাজ্যের সাথে বাংলার সংস্কৃতিকে এক করে ফেললে সংঘাত হবে।তাছাড়া দীর্ঘ কয়েক যুগ বাংলায় হিন্দু বিরোধী সংস্কৃতি ও রাজনীতি চলছে।তারফলে হিন্দুত্ব বাঙ্গালী সংস্কৃতি বহির্ভুত বলে প্রচার করা হয়।তাছাড়া এতকাল ভীনদেশী ব্যক্তিদেরই বাংলার পথপ্রদর্শক নেতা মহাত্মারুপে চাপিয়ে দেয়া হয়েছে।সেইসব দুষ্টচক্র বাঙ্গলায় হিন্দুত্ববাদী আন্দোলন গড়ে ওঠামাত্র জনগনকে বিভ্রান্ত করতে বাঙ্গালী সংস্কৃতির দোহাই দিচ্ছে এবং দেবে।এই সমস্ত বিরুদ্ধ প্রচারকে পরাজিত করতে বাংলার সংস্কৃতি ও ইতিহাসের ভিত্তিতে হিন্দুত্বকে প্রচার করতে হবে।বাংলার সাধুসন্ত চিন্তাবিদরাই আমাদের রাজনীতির আধার হবেন।যে সমস্ত প্রসঙ্গগুলি প্রচারে প্রাধান্য পাবে:-

(১) বাংলার আত্মপরিচয় হিন্দুত্বকে ভিত্তি করেই।বাংলার লৌকিক পৌরাণিক ও দার্শনিক সমগ্র ধর্মইতিহাসের ভিত্তি বেদান্ত দর্শন।

(২) বাঙ্গালীর হিন্দুধর্ম একইসাথে ব্যক্তিগত ও সমাজগত। বাঙ্গালী গনআন্দোলন করেই হিন্দুত্বকে রক্ষা করেছে। মুসলমানরা যখন বাঙ্গলার মঠমন্দির বিদ্যাস্থান ধ্বংস করছে তখন চৈতন্যমহাপ্রভুর নেতৃত্বে ঘরে ঘরে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে মন্দির শাস্ত্রচর্চা। সমাজকে জাগাতে নামসঙ্কীর্তন নগরপরিক্রমা। এযুগেও ব্যক্তিগত ও সমাজগত প্রয়াস এককরতে হবে।

(৩) শুধু শাস্ত্র নয় শস্ত্রচর্চা বাংলার হিন্দুত্বের ঐতিহ্য।রাজা গণেশ, রাণী ভবশঙ্করী, রাজা প্রতাপাদিত্য, বীর হাম্বীর, রাজা সীতারাম রায় প্রবল ভাবে হিন্দুধর্মরক্ষায় সংগ্রাম করেছেন। তাদের প্রয়াসেই হিন্দুসমাজ রক্ষা পেয়েছে। বৈষ্ণবগুরু শ্রীলরুপগোস্বামী অস্ত্রচালনার দক্ষতাকে কৃষ্ণভক্তির শর্ত বলেছেন। বাংলার বৈষ্ণবসন্ত মধুসূদন সরস্বতী নাগা সন্ন্যাসীদের সংগঠিত করে তৈরী করেছেন হিন্দুসমাজ রক্ষাকারী সাধুসেনা।হিন্দুত্বের আদর্শে উদ্ধুদ্ধ বাঙ্গালী সন্ন্যাসীরা করেছেন ব্রিটিশের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ।তেমনি হিন্দুত্বই ছিল ব্রিটিশ বিরোধী স্বশস্ত্র বিপ্লবীদের প্রেরণা।

(৪)  বাংলার হিন্দুত্ব চিরকাল জাতিভেদের বিরুদ্ধে সরব।একদিকে নিত্যানন্দ মহাপ্রভু জাতীভেদ মুছে দিয়ে প্রতিষ্ঠা করেছেন আধ্যাত্মিক গনতন্ত্র।তেমনি বিবেকানন্দ প্রতিষ্ঠা করেছেন সর্বজাতির উপনয়নের অধিকার।

(৫)  নারী আন্দোলন হিন্দুত্বের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ।নিত্যানন্দপত্নী জান্হবা যেমন গুরু হয়ে পাঁচশত বছর আগেই চালু করেছেন স্ত্রীশিক্ষা।তেমনি রামমোহন বিদ্যাসাগরের পথ বেয়ে স্বামী বিবেকানন্দের অনুপ্রেরণায় বাঙ্গলার হিন্দু সন্ন্যাসিনীরা গঠন করেছেন স্বাধীন সঙ্ঘ।শুধুমাত্র ঐহিক নয় আধ্যাত্মিক জগতেও বাংলার হিন্দুত্ব নারীর চরম স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করেছে।বিদেশের ধার করা ধর্মীয় বা রাজনৈতিক মতবাদ ছাড়াই বাঙ্গালী হিন্দু নারীপ্রগতি করতে সক্ষম।

(৬) বাংলার হিন্দুত্ব শুধুমাত্র শ্রেষ্ঠভাববাদীদের জন্ম দেয়নি বিনয়সরকারের মত বস্তুবাদী দার্শনিকেরও উৎপত্তিস্থল।৭হিন্দুমহাসভার প্রতিষ্ঠা ও নেতৃত্ব বাঙ্গালী হিন্দুর দ্বারাই হয়েছে।হিন্দুঅধিকারের রাজনীতি বাঙ্গালীর অবদান।…………কোন রাজনৈতিক দলের মতবাদ নয় বাঙ্গালীর হিন্দুর ইতিহাস ও ঐতিহ্য হবে পথপ্রদর্শক।বাঙ্গালীর রক্তে মিশে আছে ধর্মপ্রাণতা,সংগঠন প্রতিভা ও আন্দোলন স্পৃহা।আত্মশক্তিতেই নির্ভর করতে হবে।অধিকাংশ বাঙ্গালীর আজ অবস্থান একেবারে প্রান্তিক তাই গগনবিহারী ত্বত্তকথাই শুধুনয় বাঙ্গালী হিন্দুর আর্থসামাজিক পরিস্থিতি ফোকাসে থাকবে।

একদলীয় রাজনীতির ওপর কেন নির্ভরতা চলেনা

(১) হিন্দুসমাজের স্বার্থে যে দল কথা বলবে শর্ত স্বাপেক্ষে অবশ্যই সমর্থন চলবে।কিন্তু বাঙ্গালী হিন্দুরা শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক দলের ইচ্ছা অনিচ্ছা কর্মতৎপরতার উপর নির্ভর করে থাকতে পারেনা।রাজনৈতিক দলের নিজস্ব স্বার্থ,নেতৃত্বের দুর্বলতা থাকে।সমাজগত প্রবল সংগঠিত শক্তি না থাকলে রাজনৈতিক দল ক্ষমতা পেয়ে সম্পূর্ণ বিপরীত আচরন করতে পারে।

(২) ভারত একদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থার দেশ নয়।তাই একচক্ষু হরিণের মত একটি দলেরই পিছু পিছু ছুটলে সামগ্রিক হিন্দুএকতা কোনদিন তৈরী হবেনা।

(৩) জিহাদ একটি সর্বাত্মক সমাজগত প্রক্রিয়া তারসাথে সর্বাত্মক সমাজগত ভাবেই লড়াই করতে হবে।এশুধুমাত্র একদলীয় রাজনৈতিক লড়াই নয়।

(৪) রাজনৈতিক দলের কাছে ক্ষমতাদখলই শেষ কথা।তা সে যে কোন মূল্যেই হোক।আবার একটি রাজ্য ক্ষমতা দখল না হলেও সর্বভারতীয় কোনদলের কিছুমাত্র আসে যায় না। তেমনি একটি দল চিরকাল ক্ষমতায় থাকবে এমনটাও নয়। ভোটে হেরে গেলে তারা বিরোধী আসনে বসবে। কিন্তু পশ্চিমবাংলা বাসী হিন্দু এই লড়াইয়ে হেরে গেলে চিরকালের মত তার শেষ আশ্রয় থেকে নিশ্চিন্হ হবে।

(৫) ইতিহাসকে সর্বদা মনে রাখতে হবে।১৯৪৬সালে কংগ্রেস অখন্ড ভারত রক্ষা করার শপথ করে বাংলার হিন্দুদের নিরঙ্কুশ আস্থা অর্জন করে।একবছরের মধ্যেই দেশবিভাগ করে বাঙ্গালী হিন্দুর সর্বনাশ করে।এমন বিশ্বাসঘাতকতার পরম্পরা থেকে শিক্ষা নিতে হবে। (ক্রমশ )

We are not big media organisation. Your support is what keeps us moving. Don't hesitate to contribute because, work, for society needs society's support. Jai Hind.