অনন্তনাগের শিখ গণহত্যা

জম্মু-কাশ্মীরের অনন্তনাগ জেলার শিখ গণহত্যার ২০ বছর পূর্ণ হলো। ২০ বছর পূর্বে আজকের দিনেই একদল জিহাদি মিলিটারি ছদ্মবেশে শিখ অধ্যুষিত চিত্তিসিংপুরা গ্রামে প্রবেশ করে এবং শিখ গণহত্যা চালায়। ঠান্ডা মাথায় গুলি করে ৩৬ জন শিখ পুরুষকে খুন করে ওই জিহাদিরা। সেদিন ছিল আমেরিকার রাষ্ট্রপতি বিল ক্লিনটনের ভারতে আসার দিন।

একজন প্রত্যক্ষদর্শীর মতে, প্রায় ১৫-২০ জন জিহাদি এসেছিল গ্রামে। তাঁরা দুটি দলে ভাগ হয়ে গ্রামের মধ্যে ঢুকে পড়ে। ভারতীয় সেনার পোশাক পরে থাকায় কারওর সন্দেহ হয়নি। জিহাদিদের একটি দল যায় গ্রামের সৌকিন মহল্লা গুরুদ্বারা-তে এবং জিহাদিদের ওপর দলটি যায় সিং সভা সমুন্দি হল গুরুদ্বারা-তে। দুটি গুরুদ্বারার দূরত্ব ছিল মাত্র ১৫০ মিটার। গুরুদ্বারাতে ঢুকেই সবাইকে বের করে আনা হয়। তারপর সবাইকে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করায় জিহাদিরা। তারপর এলোপাথাড়ি গুলি চালায় জিহাদিরা। গুলিতে ৩৬ জন নিরীহ শিখের মৃত্যু হয়। কিন্তু গুলি লাগলে বেঁচে যান নানক সিং নামক এক ব্যক্তি। সেদিনের গণহত্যায় নিজের পুত্র, ভাই এবং ভাইয়ের তিন সন্তানের মৃত্যু হয়। পরে নানক সিং জিহাদিদের এই নারকীয় গণহত্যার বিবরণ দেন। তাঁর কথা অনুযায়ী- সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করানোর পর গুলি করার আদেশ দেয় দলের নেতা। গুলির শব্দের সঙ্গে সঙ্গে আমি মাটিতে পড়ে যাই। তারপর শুধু ভগবানকে ডাকতে থাকি। কিছু সময় পরে গুলির শব্দ বন্ধ হয়। জিহাদিদের একজন বলে, আর এক রাউন্ড গুলি মারো। এদের একজনও যেন বেঁচে না থাকে। তারপর তাঁরা চলে যায়। আমার পায়ে গুলি লেগেছিল। আমাকে প্রথমে অনন্তনাগ জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখান থেকে পরে শ্রীনগরের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সুস্থ হতে ২ মাস সময় লেগেছিল আমার ।এই ঘটনার CBI তদন্ত হয়েছিল। তদন্তে উঠে এসেছিল পাকিস্তানের জিহাদি সংগঠন লস্কর এবং হিজবুল মুজাহিদিনের যুক্ত থাকার কথা। এই গণহত্যায় জম্মু-কাশ্মীরের কয়েকজন মুসলিম যুবক জড়িত ছিল, যারা হিজবুলের সদস্য ছিল। তাদের মধ্যে একজন সোহেল মালিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। বিচার চলাকালীন বিচারকের প্রশ্ন ছিল যে- নিরীহ, নিরস্ত্র অমুসলিমদের হত্যা করায় সে কি অনুতপ্ত কিনা। উত্তরে সে বলেছিল যে অমুসলিমদের হত্যা করায় আমি দুঃখিত, অনুতপ্ত নই।

আজও প্রতি বছর অনন্তনাগের সেই গ্রামে সেদিনের নিহতদের স্মরণে শোক পালন করা হয়। গ্রামে তিন দিনের শোক পালন হয় গ্রামে। সেদিনের গণহত্যা ২০ বছরে পড়লো। সেদিনের নিহতের স্মরণ করার দিন আজ। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!