অখণ্ড ভারতের যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলি ধর্মান্ধ মুসলিম শাসকের দ্বারা ধ্বংস হয়েছে

0
178

১। নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় :- ১১৯৩ খ্রিস্টাব্দে মুসলিম আক্রমণকারী বখতিয়ার খিলজি এই নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের আক্রমণ চালিয়ে ধ্বংস করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে থাকা ১০টি মন্দির, আটটি বিল্ডিং ধ্বংস করেন। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকা ৯কোটি বই(হাতে লেখা পুঁথি) পুড়িয়ে দেন। ইসলামে ধর্মান্তরিত হতে অস্বীকার করায় কয়েক হাজার ব্রাম্ভন ও সন্ন্যাসীকে গলা কেটে হত্যা করে মুসলমান সেনাবাহিনী। 

২। ময়নামতি বৌদ্ধ বিহার  :-বাংলাদেশের কুমিল্লায় অবস্থিত ছিল এই ময়নামতি বৌদ্ধ বিহার। বৌদ্ধদের দ্বারা পরিচালিত হলেও এতে হিন্দু ধর্মীয় শাস্ত্র ও জ্ঞান-বিজ্ঞানের শিক্ষা দেওয়া হতো। এটি অষ্টম শতাব্দী থেকে বারোশো শতাব্দীর শেষ পর্যন্ত টিকে ছিল। বারোশো শতাব্দীর শেষ দিকে এটি ধ্বংস করা হয়। ঐতিহাসিকরা অনুমান করেন যে বখতিয়ার খিলজি এটি ধ্বংস করেন। সেইসঙ্গে বৌদ্ধ বিহারের মধ্যে থাকা একাধিক বৌদ্ধ মন্দির এবং হিন্দু মন্দির ধ্বংস করে মুসলমান সেনাবাহিনি।

 ৩। জগদ্দল মহাবিহার :-জগদ্দল মহাবিহার ছিল একটি বৌদ্ধ বিহার এবং জ্ঞান চর্চার কেন্দ্র। এটি বর্তমানে বাংলাদেশের ধামরিহাট উপজেলার জগদল গ্রামে অবস্থিত এবং এর ধ্বংসাবশেষ আবিষ্কৃত হয়েছে। এটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন পাল বংশের রাজা রামপাল। মুসলিম আক্রমণে এই মহাবিহার ধ্বংস হয়ে যায় ১২০৪ খ্রিস্টাব্দে। কারণ কাশ্মীরি পন্ডিত শাক্য শ্রীভদ্র-এর লেখা থেকে জানা যায় যে তিনি এই মহাবিহারে শিক্ষা গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু ১২০৪ খ্রিস্টাব্দে মুসলিম সেনারা মহাবিহারে আক্রমণ করলে তিনি কোনোরকমে প্রাণ বাঁচিয়ে তিব্বতে পালিয়ে যান। 

৪। পন্ডিত বিহার  :-এটি চৈত্তভূমি বৌদ্ধবিহার নাম পরিচিত ছিল। বর্তমান বাংলাদেশের চট্টগ্রাম শহরের কাছে আনোয়ারা উপজিলায় এর ধ্বংসাবশেষ আবিষ্কৃত হয়েছে। এর ধ্বংসাবশেষ থেকে প্রাপ্ত মুদ্রা, মূর্তি, টেরাকোটা শিল্প থেকে সকলেই মেনে নিয়েছেন যে এটি একটি বৌদ্ধ বিহার ও জ্ঞান চর্চার কেন্দ্র ছিল। এটি পঞ্চম শতাব্দী থেকে বারোশো শতাব্দী পর্যন্ত চালু ছিল। ১২০০ খ্রিস্টাব্দ সময়কালে তখনকার অখণ্ড বাংলায় ইসলামিক আক্রমণে এই বিহার ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়।

 ৫। ওদন্তপুরী মহাবিহার :- এটি বর্তমান বিহারে অবস্থিত। অষ্টম শতকে এটির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন পাল বংশের রাজা  গোপাল। শুধু ভারত নয়, সুদূর তিব্বত থেকেও ছাত্ররা এখানে পড়তে আসতো। তিব্বতীয় সূত্র অনুযায়ী, এখানে ১২,০০০ ছাত্র পড়াশুনো করতো। ১১৯৩ খ্রিস্টাব্দে ধর্মান্ধ বখতিয়ার খিলজি এটিকে ধ্বংস করেন এবং সমস্ত ছাত্র-অধ্যাপককে হত্যা করেন।

We are not big media organisation. Your support is what keeps us moving. Don't hesitate to contribute because, work, for society needs society's support. Jai Hind.

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here