মুম্বইয়ের এই কনস্টেবল হার মানিয়েছেন দুঁদে গোয়েন্দাদের !

0
353

হেড কনস্টেবল রাজেশ পান্ডেকে একঝলক দেখলে আর পাঁচটা সাধারণ পুলিসকর্মীর মতোই লাগে। কিন্তু নিখোঁজ ব্যক্তিদের খুঁজে বের করা এবং তদন্ত করার অসাধারণ দক্ষতা তাকে আর অন্য কনস্টেবলদের থেকে আলাদা করেছে। এই কনস্টেবল তাঁর চাকরিজীবনে এখনো পর্যন্ত ৭০০ টি “মিসিং কেস” সমাধান করেছেন। প্রতিক্ষেত্রেই অপহৃত এবং নিখোঁজদেরকে উদ্ধার করেছেন। এই কাজে তাকে সারা দেশে যেতে হয়েছে। এর ফলেই হেড কনস্টেবল রাজেশ পান্ডে হয়ে উঠেছেন দুঁদে গোয়েন্দাদের সমান সম্মানীয়। এমনকি মুম্বই পুলিস দপ্তর সমস্ত গোয়েন্দাদেরকে নির্দেশ পাঠিয়েছে যে নিখোঁজ কেসে যেন রাজেশ পাণ্ডের তদন্তের ধরণ অনুযায়ী তদন্ত করা হয়। 

কি এমন ক্ষমতা রয়েছে, যা অন্যদের থেকে আলাদা করে রাজেশ পান্ডেকে? জানা গিয়েছে, পাণ্ডেজির অসাধারণ ক্ষমতা হলো ছদ্মবেশ ধারণ করার ক্ষমতা এবং সহজে যেকোনো পরিবেশে মিশে যাওয়ার ক্ষমতা। এই ক্ষমতাই তাকে একের পর এক কেস সমাধানে সাহায্য করেছে। এমনকি একবার তিনি তদন্তের কাজে পশ্চিমবঙ্গে এসেছিলেন এবং উদ্ধার করেছিলেন এক আটকে রাখা নাবালিকাকে। সেই অভিজ্ঞতা তিনি জানিয়েছেন নিজের মুখেই। সেটা ২০১৪। একজন নাবালিকা কাজের মেয়ে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়ে যায়। তাকে উদ্ধার করার ভার পড়ে রাজেশ পান্ডের ওপর। প্রথম দিকে কোনোভাবেই মেয়েটির কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিলো না। কিন্তু একদিন মেয়েটি তাঁর বাড়ির মালিককে ফোন করে। তদন্ত করে দেখা যায় নম্বরটি পশ্চিমবঙ্গের। মুম্বই পুলিসের পক্ষ থেকে উনাকে পশ্চিমবঙ্গে পাঠানো হয়। দেখা যায় নম্বরের সঙ্গে দেওয়া ঠিকানা ভুয়ো। তবুও তিনি হাল ছাড়েননি। ওই নম্বরে ফোন করেন এবং নিজেকে ”ক্যুরিয়ার বয়” হিসেবে পরিচয় দিয়ে পুরো ঠিকানা নেন। তারপর ক্যুরিয়ার কর্মীর ছদ্মবেশ ধারণ করে নির্দিষ্ট ঠিকানা থেকে মেয়েটিকে উদ্ধার করেন। দেখা যায় যে মেয়েটিকে আটকে রাখা হয়েছিল এবং পরে স্থানীয় পুলিসের সহযোগিতায় তিনি দোষীদের গ্রেপ্তার করেন। এছাড়াও কখনো বারের কর্মী, গাড়ির ড্রাইভার ইত্যাদি ছদ্মবেশ ধারণ করেছেন একাধিকবার। 

মুম্বইয়ের অতিরিক্ত পুলিস কমিশনার( পশ্চিম অঞ্চল) মনোজ শর্মা জানিয়েছেন, ‘ রাজেশ নিখোঁজ কেসে এতটাই দক্ষ যে প্রায়ই বিভিন্ন থানা থেকে ডাক পড়ে তদন্তে সাহায্যের জন্য”। খুব তাড়াতাড়ি হয়তো রাজেশ পান্ডের কাহিনী আমরা সিনেমার পর্দায় দেখতে পাবো। কারণ বলিউডের একজন পরিচালক পুলিস দপ্তরের অনুমতি চেয়েছেন রাজেশ পান্ডেকে নিয়ে সিনেমা বানানোর।   

We are not big media organisation. Your support is what keeps us moving. Don't hesitate to contribute because, work, for society needs society's support. Jai Hind.