নোয়াখালী গণহত্যা- (৫)

0
121
চিত্র : রাজেন্দ্রলাল রায়চৌধুরীর বাড়ি

শ্রী চপলাকান্ত ভট্টাচার্য

তৃতীয় অধ্যায়ঃ

ঘটনার পরঃ

নোয়াখালি-ত্রিপুরার ঘটনা ও অবস্থা সম্বন্ধে এই সময়ে আরও অনেকগুলি উল্লেখযোগ্য বিবৃতি এবং অত্যাচারের কিছু কিছু সংবাদ ও বিবরণ প্রকাশিত হয়। এ সমস্তই প্রকাশিত হইতেছিল প্রেস এ্যাডভাইসরী কমিটীর অনুমোদনে। পূর্ববঙ্গের হিন্দু-সমাজের উপর অনুষ্ঠিত অত্যাচারকাহিনী লোকচক্ষু হইতে অন্তরাল করিয়া রাখিবার জন্য নিষেধাজ্ঞার যে লৌহ-যবনিকা রচিত হইয়াছিল এই সকল বিবৃতি, সংবাদ ও বিবরণ প্রকাশের ফলে তাহাতে ফাটল দেখা দিল। ইহাতে সুরাবদী-গবর্ণমেন্ট রুষ্ট হইলেন এবং বিচলিত হইলেনও বটে। যে গোপন অভিপ্রায় লইয়া নিষেধাজ্ঞা জারী করা হইয়াছিল কমিটীর কার্যের ফলে তাহা ব্যর্থ হইতেছে দেখিয়া তাহারা কমিটীর কণ্ঠরোধ করিতে অগ্রসর হইলেন। ২৯শে সেপ্টেম্বরের আদেশে কমিটীর নিজ দায়িত্বে সংবাদ প্রকাশের যে অধিকার স্বীকৃত হইয়াছিল ৩১শে অক্টোবর এক নুতন আদেশে তাহা রহিত করা হইল। ফলে সংবাদপত্রের পক্ষে সরকারী বিবৃতি ছাড়া সাম্প্রদায়িক উপদ্রব সম্বন্ধে অন্য কোনো বিবরণ নিরুদ্বেগে প্রকাশ করিবার উপায় রহিল না। গবর্ণমেন্টের এই আচরণের কঠোর ভাষায় নিন্দা করিয়া ২’রা নভেম্বর কমিটী এক প্রস্তাব গ্রহণ করেন এবং তাহাতে বলেন যে, জাতীয়তাবাদী সংবাদপত্রসমূহের কণ্ঠরোধ করিয়া মন্ত্রিমণ্ডলের অনুগৃহীত মুসলীম লীগের পত্রিকা কয়টীকে যথেচ্ছভাবে অভিসন্ধিপূর্ণ ও বিকৃত সংবাদ প্রকাশের সুযোগ দিবার জন্যই এই অপকৌশল অবলম্বিত হইয়াছে।

বিবৃতি ও বিবরণঃ

কিন্তু প্রেস এ্যাডভাইসরী কমিটীর ক্ষমতা এইভাবে রহিত করা হইলেও ৩১শে অক্টোবরের মধ্যেই কমিটীর অনুমোদনে যাহা প্রকাশ পাইয়াছিল তাহা হইতেই নোয়াখালি-ত্রিপুরায় অনুষ্ঠিত ধ্বংসকাণ্ডের পরিচয় লোকে বুঝিয়া লইতে পারিয়াছিল। অবশ্য ইহার পরেও বিবৃতি ও বিবরণ কিছু কিছু প্রকাশিত হইয়াছে। কিন্তু তৎকালীন নিষেধাজ্ঞার সহিত সামঞ্জস্য রক্ষার জন্য সেগুলি হইতে প্রায়ই বিশেষ অংশ বাদ পড়িয়াছে। এমন কি মিস মুরিয়েল লিষ্টারের ন্যায় বিশিষ্ট মহিলার বিবৃতিও অব্যাহতি পায় নাই। অথচ এই বিবৃতিগুলির গুরুত্ব যথেষ্ট। কারণ মূল ঘটনা ও উহার পরবর্তী ফলাফলের সমস্ত সংবাদ প্রকাশ না পাইলেও এই সকল বিবৃতি অনুধাবন করিয়াই আমরা ঘটনার প্রকৃতি ও গতি বুঝিতে পারি। ১০ই অক্টোবর হইতে ১৪ই অক্টোবরের মধ্যে ঘটনার মূল অংশ অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু উহার জের চলিয়াছিল বহুদিন ধরিয়া। প্রথমবার পরিদর্শন করিয়া ফিরিবার কিছুকাল পরে দ্বিতীয়বার পরিদর্শনের জন্য যখন যাই তখনও উপদ্রবমূলক ঘটনার জের চলিতেছিল এবং বিচ্ছিন্নভাবে অনুষ্ঠিত হইলেও ঘটনার সংখ্যা কম ছিল না। উপদ্রুত অঞ্চলে স্বয়ং গান্ধীজীর উপস্থিতিও তাহা বন্ধ করিতে পারে নাই। আমরা দ্বিতীয়বার পরিদর্শনে যাত্রা করিবার পূর্ব পর্যন্ত ঘটনার পরিণতি কি অবস্থায় আসিয়া দাঁড়াইয়াছিল এবং আমাদের পরিদর্শনলব্ধ অভিজ্ঞতা কি পটভূমিকা হইতে গৃহীত হইয়াছিল তাহা বুঝাইবার জন্য মধ্যবর্তী কালের এই বিবৃতিসমূহের আলোচনা প্রয়োজন। ইহাদের মধ্য দিয়াই তৎকালীন অনভিব্যক্ত ইতিহাস কথঞ্চিৎ পরিস্ফুট হইয়াছে।

বেরসকারীমহলের এই বিবৃতিসমূহের মধ্যে রাষ্ট্রপতি আচার্য্য কৃপালনীর বিবৃতিই প্রধান। রাষ্ট্রপতির পদোচিত দায়িত্ব লইয়া তিনি গভীর বেদনাপূর্ণ এবং তথ্যানুসারী যে কয়টি বিবৃতি প্রদান করেন তাহাই নোয়াখালি-ত্রিপুরার অত্যাচার-পৰ্বকে বিশ্বসমাজের দৃষ্টির সম্মুখে তুলিয়া ধরে। অবশ্য দিল্লী হইতে প্রচারিত মহাত্মাজীর বেদনাৰ্ত্ত ভাষণের স্থান সকলের উচ্চে। তাহা স্বতন্ত্রভাবে আলোচনার বিষয়। আপাততঃ নিম্নলিখিত বিবৃতিগুলির উল্লেখ করিতেছি—
১) আচাৰ্য কৃপালনীর প্রথম বিবৃতি, ২১শে অক্টোবর
(২) আচাৰ্য কৃপালনীর দ্বিতীয় বিবৃতি, ২২শে অক্টোবর
(৩) প্রতিক্রিয়াশীল শক্তিকে প্রতিহত করিবার জন্য শরৎচন্দ্রের। আবেদন, ‘২২শে অক্টোবর
(৪) গভর্ণরের রিপোর্টের প্রত্যুত্তরে শরৎচন্দ্রের বিবৃতি, ২৩শে অক্টোবর
(৫) কুমিল্লা হইতে শ্রীকামিনীকুমার দত্ত কর্তৃক ভারত গভর্ণমেন্টের স্বরাষ্ট্র বিভাগের নিকট প্রেরিত দীর্ঘ বিবরণ, ২৩শে অক্টোবর
(৬) আচাৰ্য কৃপালনীর তৃতীয় বিবৃতি ও তাহার ভ্রমণপঞ্জী, ২৭শে অক্টোবর
(৭) মুসলীম লীগ পক্ষীয় শ্ৰীযোগেন্দ্র নাথ মণ্ডলের অভিমত, ২৯শে অক্টোবর
(৮) দিল্লীর সাংবাদিক বৈঠকে আচাৰ্য কৃপালনীর বিবৃতি, ৩০শে অক্টোবর
(৯) গভর্ণরের নিকট শ্ৰীযুক্তা লীলা রায়ের খোল চিঠি, ৩১শে অক্টোবর
(১০) মুসলীম লীগের প্রত্যুত্তরে আচার্য কৃপালনীর বিবৃতি, ৩রা নভেম্বর
(১১) দমদম বিমানঘাঁটিতে পণ্ডিত জওহরলালের মন্তব্য, ৩রা নভেম্বর
(১২) মিস মুরিয়েল লিষ্টারের বিবৃতি, ৮ই নভেম্বর
(১৩) শ্ৰীমতী সুচেতা কৃপালনীর বিবৃতি ও পণ্ডিত হৃদয়নাথ কুঞ্জরুর বিবৃতি, ১০ই নভেম্বর
(১৪) শ্ৰীমতী রেণুকা রায়ের বিবৃতি, ১৩ই নভেম্বর
(১৫) কেন্দ্রীয় আইন সভায় পণ্ডিত জওহরলালের বিবৃতি, ১৫ই নভেম্বর
(১৬) বঙ্গীয় ব্যবস্থা পরিষদের সদস্য শ্ৰীযোগেন্দ্র চন্দ্র দাসের বিবৃতি, ১৬ই নভেম্বর
(১৭) শ্ৰীমতী সুচেতা কৃপালনীর দুইটি বিবৃতি, ১৭ই ও ১৮ই নভেম্বর [বিবৃতিগুলির সহিত প্রদত্ত তারিখ “হিন্দুস্থান ষ্ট্যান্ডার্ড” পত্রিকার (কলিকাতা সংস্করণ) কয়েকটি বিবৃতি পরিশিষ্টে উদ্ধত হইল।]

আচাৰ্য কৃপালনীর বিবৃতিঃ

আচাৰ্য কৃপালনীর প্রথম বিবৃতি প্রথমবার উপদ্রুত অঞ্চল পরিদর্শন করিয়া ফিরিবার পরই প্রদত্ত। উপদ্রুত অঞ্চলের তৎকালীন অবস্থা ইহাতে অভিব্যক্ত হইয়াছে। বিভিন্ন প্রকারের অপরাধের কথা উল্লেখ করিয়া তিনি বলেন-উৎপীড়িতের সংখ্যা সহস্র সহস্র, সরকারী হিসাবে ইহা নিতান্ত কম করিয়া দেখানো হইতেছে। আক্রমণ সামরিক ব্যবস্থায় পরিচালিত হইয়াছে এবং প্রাক্তন সৈনিকেরাই উহাতে নেতৃত্ব করিয়াছে। দ্বিতীয় বিবৃতিতে তিনি পরলোকগত রাজেন্দ্রলাল রায়ের দৃষ্টান্ত উল্লেখ করিয়া যে কোন উপায়ে আত্মরক্ষার জন্য স্ত্রীপুরুষ সকলকে অনুরোধ করেন। প্রথম বিবৃতিতে আচাৰ্য কৃপালনী যাহা বলিয়াছিলেন, উপদ্রুত অঞ্চলের অভ্যন্তরভাগ আরও পরিদর্শনের পর তৃতীয় বিবৃতিতে অধিকতর দৃঢ়তার সহিত এবং অধিকতর সবিশেষে তিনি তাহার পুনরুক্তি করেন। আক্রমণ যে মুসলীম লীগের দ্বারা পরিচালিত ও পূৰ্ব্বকল্পিত, কর্তৃপক্ষ যে পূৰ্ব্ব হইতে উহার উদ্যোগ জানিয়াও উহার প্রতিকার না করিয়া প্রশ্রয়ই দিয়াছেন এবং স্থানীয় মুসলমানেরাই যে দল বাঁধিয়া এই উপদ্রব চালাইয়াছে ইহার অখণ্ডনীয় প্রমাণ তিনি পাইয়াছেন। উপদ্রবের প্রথমে প্রত্যেক হিন্দুপরিবারের নিকট হইতে মুসলিম লীগের জন্য চাঁদা (পরিবারবিশেষে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত) আদায় করিয়া পরে পরিবার-সমূহকে উৎসন্ন করা হইয়াছে। নিহতের সংখ্যা সম্বন্ধে তিনি বলিয়াছেন যে একমাত্র দত্তপাড়া অঞ্চলেই তিনশত নিহতের হিসাব তিনি পাইয়াছিলেন এবং তাহাদের নামও তিনি সংগ্রহ করিয়াছিলেন। নারীহরণ ও নারীধর্ষণের সংখ্যা কত তাহা নির্দিষ্ট হয় নাই। হাইমচরের বিরাট নমঃশূদ্র বসতি বিধ্বস্ত হইয়াছে। তখনও উপদ্রুত অঞ্চলে প্রবেশের পথ নাই, উৎপীড়িতগণ অসহায়ভাবে অবরুদ্ধ এবং পুলিশ ও সরকারী কর্মচারিগণ নিষ্ক্রিয়। এই বিবৃতিতে যে সকল অভিযোগ তিনি করিয়াছেন সে সম্বন্ধে তাহার অভিমত এতখানি দৃঢ় যে, যে কোন নিরপেক্ষ বিচারক মণ্ডলীর নিকট তিনি তাহা প্রমাণ করিয়া দিবার জন্য ভার লইতে প্রস্তুত।

এই ধ্বংসকাণ্ডের ব্যাপারে স্ব স্ব দায়িত্ব লঘু করিবার উদ্দেশ্যে মুসলীম লীগ ও বাঙলার লীগ গভর্ণমেন্ট ইতিমধ্যে প্রচারকার্য সুরু করিয়াছিলেন। বঙ্গীয় প্রাদেশিক মুসলীম লীগ ২৫শে অক্টোবর তারিখে এ সম্বন্ধে এক প্রস্তাব গ্রহণ করিয়া আপনাদের ও মুসলমান সমাজের দায়িত্ব অস্বীকার ও লঘু করিতে চেষ্টা করেন এবং আচাৰ্য কৃপালনীর পূর্ব বিবৃতির নিন্দা করেন। নোয়াখালির অবস্থা পরিদর্শন করিবার জন্য ভারত গভর্ণমেন্ট কর্তৃক প্রেরিত জেনারেল বুসার ২৬শে অক্টোবর তারিখে কলিকাতায় সাংবাদিক বৈঠকে যে অভিমত প্রকাশ করেন তাহার মধ্যেও অবস্থার গুরুত্ব লঘু করিবার প্রয়াস সুস্পষ্ট। আচাৰ্য কৃপালনীর ২৯শে অক্টোবর ও ৩১শে অক্টোবরের বিবৃতি এই সকল অপ্রচারের প্রত্যুত্তর। দুইটি বিবৃতিই দিল্লীতে সাংবাদিক বৈঠকে প্রদত্ত।

ইহাদের এই সকল উক্তির প্রত্যুত্তরে আচাৰ্য কৃপালনী বলেন যে যথেষ্ট ভাবিয়া এবং স্বীয় দায়িত্ব সম্বন্ধে সচেতন হইয়াই তিনি বিবৃতি দিয়াছেন। উৎপীড়িত সমাজের উপর অনুষ্ঠিত অনেক জঘন্য নিগ্রহের কথা জানিয়াও তিনি প্রকাশ করেন নাই। কারণ তাহাতে তিক্ততা বৃদ্ধি পাইবে। তবে এইটুকু তিনি বলিবেন যে, যাহারা বলপূর্বক ধর্মান্তরিত হইয়াছিল, যে সকল নারী বলপূর্বক বিবাহিত হইয়াছিল তাহাদের মৃত্যু হইলেই তিনি খুসী হইতেন। বাঙলা গভর্ণমেন্টের এবং জেনারেল বুসারের উক্তির প্রতিবাদ করিয়া তিনি বলেন—ঘটনাস্থলে যে সামরিক বাহিনী প্রেরিত হইয়াছে তাহাদিগকে স্থানীয় শাসন কর্মচারীদের নির্দেশে চলিতে হয়। এইজন্য দুর্বৃত্তগণ গ্রেপ্তার হইতেছে। ২৭শে অক্টোবর তারিখে নোয়াখালির নূতন জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট মিঃ ম্যাকিনার্ণি এক বিবৃতি প্রকাশ করিয়া বলেন—“Rape, abduction and forcible marriages are rare and no such cases were brought to my notice.” অর্থাৎ “ধর্ষণ, নারীহরণ ও বলপূর্বক বিবাহ ঘটে নাই বলিলেই হয়, অন্ততঃ, এরূপ কোন ঘটনা আমার গোচরে আসে নাই।”

ইহার প্রত্যুত্তরে আচাৰ্য কৃপালনী বলেন —২৫শে অক্টোবর তারিখে এই ম্যাজিষ্ট্রেটকেই সঙ্গে লইয়া শ্ৰীমতী সুচেতা কৃপালনী একটি বলপূর্বক বিবাহিতা বালিকাকে এবং তাহার বলপূর্বক ধর্মান্তরিত আত্মীয়স্বজনকে উদ্ধার করেন। তৎসত্ত্বেও যে তিনি এইরূপ অমূলক বিবৃতি প্রচার করিয়াছেন তাহাতে বোঝা যায় সরকারী কর্মচারীরা কি মনোবৃত্তি লইয়া কাজ করিতেছিলেন।

আচাৰ্য কৃপালনীর শেষোক্ত বিবৃতিতে বঙ্গীয় ব্যবস্থাপক সভায় চট্টগ্রামের সদস্য শ্রীললিতচন্দ্র দাসের এক পত্র উদ্ধৃত হইয়াছে। ইহা ২৯শে অক্টোবর “হিন্দুস্থান ষ্ট্যাণ্ডার্ড” পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। ইহাতে ললিতবাবু জানাইয়াছিলেন যে, ২২শে অক্টোবর তারিখে কুমিল্লায় সার্কিট হাউসে এক সরকারী বৈঠকে বহু লোকের উপস্থিতিতে উক্ত ম্যাজিষ্টেট সুস্পষ্ট ভাষায় স্বীকার করেন যে ব্যাপক ধৰ্ম্মনাশ, নারীহরণ এবং বলপূর্বক বিবাহ করা হইয়াছে। ইহা পূর্বপরিকল্পিত আক্রমণ এবং প্রাক্তন সৈন্যেরা ইহা পরিচালনা করিয়াছে।

আচাৰ্য কৃপালনীর বিবৃতির পর উল্লেখযোগ্য শ্ৰীশরৎচন্দ্র বসুর বিবৃতি। ২২শে অক্টোবরের বিবৃতিতে শরৎচন্দ্র বাঙালার যুব-সমাজের নিকট আবেদন করিয়া বলেন, যে প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করিতেছে যুব-সম্প্রদায় তাহাকে প্রতিহত করুক। নোয়াখালির ঘটনা সম্বন্ধে বাঙলার গভর্ণর স্যার ফ্রেডারিক বারোজ বিলাতে যে এক রিপোর্ট পাঠাইয়াছিলেন, পার্লামেন্টের আলোচনায় তাহা প্রকাশ পায়। ইহাতে দেখা যায় ঘটনার গুরুত্বকে লঘু করিবার জন্য গভর্ণর সত্যকে বিকৃত করিয়াছেন। ২৩শে অক্টোবরের বিবৃতিতে শরৎচন্দ্র গভর্ণরের বিকৃত বিবরণ খণ্ডন করিয়া বলেন—নোয়াখালি-ত্রিপুরার উপদ্রুত অঞ্চলে স্থানীয় মুসলমানসমাজ যে সমষ্টিগত ভাবে হিন্দুসমাজের বিরুদ্ধে অভিযান চালাইয়াছিল তাহাতে সন্দেহ নাই; গভর্ণর বলিয়াছেন মৃতের সংখ্যা শতকের কোঠায় নীচের দিকে থাকিবে; কিন্তু বিভিন্ন সূত্র হইতে হিসাব করিয়া দেখা যায় উহা সহস্রের কোঠায় যাইবে ; উপদ্রুত অঞ্চলে উৎপীড়িতগণ পুলিশের সাহায্য চাহিয়াও পায় নাই ; একমাত্র ত্রিপুরা জেলাতেই উপদ্রুত অঞ্চলের এলাকা চারিশত বর্গ মাইল হইবে। শরৎচন্দ্রের বিবৃতির সহিত ভারত গভর্ণমেন্টের স্বরাষ্ট্র বিভাগের নিকট কুমিল্লা হইতে প্রেরিত শীকামিনীকুমার দত্তের একটি বিবরণও প্রকাশিত হয়। তিনিও স্থানীয় শাসন কর্মচারীদের ঔদাসীন্য সম্বন্ধে বিশেষ অভিযোগ করেন।

নারীহরণ ও নারীনিৰ্যাতনঃ

গবর্ণরের নিকট শ্ৰীমতী লীলা রায়ের খোলাচিঠি এবং শ্রীমতী রেণুকা রায়ের ও শ্ৰীমতী সুচেতা কৃপালনীর বিবৃতি কয়টিতে নারীনিগ্রহের কথাটাই বিশেষভাবে আলোচিত হইয়াছে। মিস মুরিয়েল লিষ্টারের বিবৃতির মধ্যেও নারী নির্যাতনের মর্মস্পর্শী বর্ণনা রহিয়াছে। গবর্ণর যে বিলাতে প্রেরিত স্বীয় রিপোর্টে নারী-নির্যাতনের কথা উল্লেখ করেন নাই তজ্জন্য কঠোর ভাষায় তিরস্কার করিয়া শ্ৰীমতী লীলা রায় স্বীয় খোলা চিঠিতে প্রশ্ন করিয়াছেন—‘নারী ও পুরুষ স্বেচ্ছাসেবক দল যাহাতে উপদ্রুত অঞ্চলের অভ্যন্তরভাগে প্রবেশ করিয়া অপহৃতা ও নিগৃহীতা নারীদিগকে উদ্ধার করিতে পারে তজ্জন্য সামরিক রক্ষী দিতে আপনি সম্মত আছেন কি?

৮ই নভেম্বর প্রথম বিবৃতিতে শ্রীমতী সুচেতা কৃপালনী বলিতেছেন যে, ব্যাপক অত্যাচার বন্ধ হইয়া থাকিলেও নারীনিগ্রহ ও অন্যান্য অসৎকাৰ্য্য গ্রামের অভ্যন্তরে তখনও চলিতেছে। শাসনকর্তৃপক্ষ দুর্বৃত্তগণকে গ্রেপ্তার না করিয়া তাহাদের অপরাধের প্রমাণ লোপ করিবার সুযোগ দিতেছেন। পক্ষান্তরে দুর্বৃত্তগণ আপনাদের গৃহে ছোটখাট আগুন লাগাইয়া হিন্দু সমাজকেই তজ্জন্য দোষী করিতেছে এবং পুলিশ হিন্দুদের মধ্য হইতে বহু লোককে গ্রেপ্তার করিয়াছে। ১৬ই নভেম্বর তারিখে চৌমুহনীতে এবং ১৭ই নভেম্বর দমদম বিমানঘাটীতে পৌঁছিয়া শ্ৰীমতী সুচেতা উল্লিখিত অভিমতেরই পুনরাবৃত্তি করেন, আরও বলেন যে উপদ্রুত অঞ্চলে তখনও লোক অবরুদ্ধ রহিয়াছে; অবস্থার বিশেষ কোনো উন্নতি হয় নাই।

১৩ই নভেম্বর তারিখে প্রকাশিত বিবৃতিতে কেন্দ্রীয় পরিষদের সদস্য শ্ৰীমতী রেণুকা রায় উপদ্রুত অঞ্চল সম্বন্ধে তাহার অভিজ্ঞতার কথা বলেন, তাহা শ্ৰীমতী সুচেতার অভিমতকেই সমর্থন করে। তিনি বলেন, ব্যাপক আক্রমণের পরিবর্তে বিচ্ছিন্নভাবে হত্যা, গৃহদাহ, নারীনিগ্রহ যাহা চলিতেছে তাহার সংখ্যা যথেষ্ট। শ্ৰীমতী রেণুকার বিবৃতিতে তিনটি উল্লেখযোগ্য কথা আছে –
(১) “গ্রাম হইতে মিলিটারী চলিয়া যাইবার সঙ্গে সঙ্গেই নারী অপহরণ আরম্ভ হইয়া যায় ; কয়েকদিন এইভাবে থাকিবার পর পুনরায় মিলিটারী আসিলে ইহাদিগকে স্বগৃহে রাখিয়া যাওয়া হয়।”
(২) উপদ্রবের মূল কারণ বিশ্লেষণ করিয়া তিনি বলেন, প্রথমে শান্তিকমিটি গঠন করিয়া লোকের মনে একটা ভ্রান্ত নিরাপত্তার ভাব সৃষ্টি করা হয়। এই সকল কমিটি মুসলীম লীগের নামে চাঁদা আদায় করে। চাঁদা দিয়া লোকে যখন আপনাদিগকে নিশ্চিন্ত ও নিরাপদ মনে করিয়াছে ঠিক সেই সময় অকস্মাৎ আক্রমণ ঘটিয়াছে।
(৩) নারীনিগ্রহ সম্বন্ধে শ্ৰীযুক্তা রায় বলেন, “নারীহরণ ও নারীধর্ষণের বহু ঘটনার সংবাদ আশ্রয়প্রার্থী শিবিরে পৌঁছিয়াছিল। সাক্ষ্যপ্রমাণ পরীক্ষা করিয়া তিনি বুঝিতে পারেন, ইহাদের অধিকাংশই হিন্দুসমাজের তপশীল ও নিম্নশ্রেণীভুক্ত। অবশ্য কতকগুলি ক্ষেত্রে ব্রাহ্মণ ও অন্যান্য বিশিষ্ট পরিবারের নারীরাও এইভাবে নিগৃহীত হইয়াছেন এবং প্রথম আক্রমণ তাহাদের উপরেই পডিয়াছে। ১১/১২ বৎসরের বালিকা হইতে ৪৫ বৎসরের প্রৌঢ়া পর্যন্ত কেহই এই নিগ্রহ হইতে অব্যাহতি পায় নাই।”

মিস্ মুরিয়েল লিষ্টারের বিবৃতি স্বতন্ত্রভাবে উল্লেখ করিতেছি। তৎকালীন নিষেধাজ্ঞার ফলে ইহার বিবৃতি সম্পূর্ণভাবে প্রকাশিত হইতে পারে নাই। তথাপি যতটুকু প্রকাশিত হইয়াছিল তাহাতেই নারীনিগ্রহ ও অন্যান্য অপরাধের কথা বিশেষভাবে ফুটিয়া উঠিয়াছে। উপদ্রুত অঞ্চলে রামগঞ্জ থানার দত্তপাড়ায় দেওয়ানজীবাড়ীর সাহায্যকেন্দ্রে বসিয়াই তিনি বিবৃতি রচনা করিয়াছেন। নারীনিগ্রহ সম্বন্ধে তিনি বলিতেছেন, “সৰ্ব্বাপেক্ষা দুর্দশা হইয়াছে নারীদের। ইহাদের অনেকের স্বামীকে ইহাদের সম্মুখেই নিহত করা হইয়াছে, পরে ইহাদিগকে ধর্মান্তরিত করিয়া স্বামীহন্তাদের মধ্যে কেহ ইহাদিগকে বলপূর্বক বিবাহ করিয়াছে। ইহাদের আকৃতি দেখিলে মনে হয় না যে জীবনের কোনো লক্ষণ আছে। যাহাদিগকে ইতিমধ্যেই মুসলমান গৃহের অন্তর্ভুক্ত করা হইয়াছে স্বেচ্ছাসেবক বা সরকারী কর্মচারী কেহই তাহাদিগকে বাহির করিতে পারিতেছে না। তাহাদিগকে বলা হইয়াছে যে, তাহারা স্বেচ্ছায় রহিয়াছে একথা না বলিলে তাহাদের পিতৃবংশ নির্মূল করা হইবে। বলপূর্বক ধর্মান্তর, গোমাংস ভক্ষণে বাধ্য করা ইত্যাদি উল্লেখ করিয়া তিনি বলিয়াছেন যে, সমস্ত আক্রমণ পূৰ্ব্ব পরিকল্পিত।” এই প্রসঙ্গে তিনি প্রশ্ন করিয়াছেন, “গৃহের উপর পেট্রোল ছিটাইয়া পরে আগুন জ্বালাইয়া দেওয়া হইয়াছে। রেশনের অধীন এই দাহ্য পদার্থটি সরবরাহ করিল কে? গ্রামাঞ্চলের মধ্যে এত ষ্টিরাপ পাম্প আনিল কে? অস্ত্র সরবরাহ করিল কে ? দুবৃত্তগণ মনে করিতেছে, এ অঞ্চলে তাহাদের শাসন সংস্থাপিত হইয়াছে, কোথাও তাহাদের ভয়ের চিহ্ন দেখিলাম না।”

ভারত গভর্ণমেন্টের নিস্ক্রিয়তাঃ

নোয়াখালির ঘটনার জের চলিতে চলিতেই বিহারে তাহার প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। নোয়াখালির ঘটনা সম্পর্কে তৎকালীন ভারত গবর্ণমেন্টে [ভারতবর্ষের শাসনক্ষমতা হস্তান্তরের পূর্বব্যবস্থাস্বরূপে সে সময়ে একটা “মধ্যবর্তী গবর্ণমেন্ট” গঠিত হইয়াছিল। কংগ্রেস ও মুসলীম লীগ মিলিয়া উহা চালাইতেছিলেন।] কংগ্রেসনেতৃবৃন্দ নীরব ও নিষ্ক্রিয় থাকেন। এমন কি জিজ্ঞাসিত হইয়াও স্বরাষ্ট্রসচিব সর্দার বল্লভভাই বলেন প্রদেশের ব্যাপারে তাহারা হস্তক্ষেপ না করাই সিদ্ধান্ত করিয়াছেন; কিন্তু বিহারের ঘটনায় উপদ্ৰবকারিগণকে দমনের জন্য তাহারা অতিমাত্রায় সক্রিয় হইয়া উঠেন এবং পণ্ডিত জওহরলাল বিমান হইতে বোমাবর্ষণের ভীতিপ্রদর্শন করেন। বিহারের অবস্থা ইহাদের এই সক্রিয়তার ফলে দ্রুত আয়ত্তে আসিয়াছিল বটে, কিন্তু তজ্জন্য বেহিসাবী গ্রেপ্তার ও মিলিটারী কর্তৃক বেপরোয়া গুলী চালনা এই উভয়বিধ উপায় তাহাদিগকে অবলম্বন করিতে হইয়াছিল। ভারত গবর্ণমেন্টের অন্তর্ভুক্ত কংগ্রেস-প্রধানগণ ইহার দায়িত্ব লইয়াছিলেন। প্রাদেশিক ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করিব না বলিয়া বসিয়া থাকেন নাই। বাঙলায় ও বিহারে ভারত গবর্ণমেন্টের নীতির এই পার্থক্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ উখিত হইলে পণ্ডিত জওহরলাল এ সম্বন্ধে অভিমত প্রকাশ করিতে বাধ্য হন। ২রা নভেম্বর “মধ্যবর্তী গভর্ণমেন্টের” চারিজন সদস্য [পণ্ডিত নেহেরু, সর্দার প্যাটেল, মিঃ লিয়াকত আলি ও সর্দার আবদুর রব নিস্তার।] গান্ধীজীর সহিত আলোচনার জন্য কলিকাতায় উপস্থিত হইলে দমদম বিমানঘাঁটিতে পণ্ডিত জওহরলাল বলেন, “গত কয়েক সপ্তাহ ধরিয়া আমি যে ভাবে নীরব রহিয়াছি, মনের প্রবল আবেগ সত্ত্বেও এইরূপভাবে নীরবতা রক্ষা ইতিপূর্বে আমি কখনো করি নাই। আমার এই নীরবতার কেহ যদি ভুল অর্থ করিয়া থাকেন, তিনি আমাকে জানেন না। ভারতবর্ষের অন্যান্য স্থানে এবং বিশেষ করিয়া পূর্ববঙ্গে যাহা ঘটিয়াছে, তাহা এত ভয়ঙ্কর যে মৃত ব্যক্তিও শিহরিয়া উঠিবে। আমি মৃত নহি, যথেষ্ট জীবন্ত।”

ইহার পর ১৪ই নভেম্বর কেন্দ্রীয় আইন সভায় এক বিবৃতিপ্রসঙ্গে পণ্ডিত নেহেরু পুনরায় এ বিষয়ের উল্লেখ করেন। গবর্ণমেন্টের আচরণ সম্বন্ধে যে সমালোচনা হইয়াছে তাহার প্রত্যুত্তরে তিনি বলেন, “প্রকাশ্যে কিছু না বলিলেও কাৰ্যতঃ যাহা কৰ্তব্য তিনি তাহা করিবার চেষ্টা করিয়াছেন।” পুর্ববঙ্গের ঘটনায় অপহৃতা ও বলপূর্বক ধর্মান্তরিত নারীদের কথা উল্লেখ করিয়া তিনি বলেন—“ইহা স্বভাবতই গুরুতর ব্যাপার। ইহা অধিকতর গুরুতর এইজন্য যে, সমগ্র ভারতবর্ষের উপরে ইহার প্রতিক্রিয়া হইবে। অপহৃতাগণকে তাহাদের আত্মীয় স্বজনের নিকট ফিরাইয়া দিবার ব্যবস্থা অবিলম্বে করিতে হইবে। তাহার পূর্বে পূর্ববঙ্গে পুনর্বসতির প্রশ্ন উঠিতে পারে না।”

উদ্ধারকারী অফিসার আক্রান্তঃ

৯ই নভেম্বর প্রকাশিত নিখিল ভারত হিন্দু মহাসভার সম্পাদক শ্ৰীআশুতোষ লাহিড়ীর বিবৃতিতে একটি বিশেষ ঘটনার উল্লেখ আছে। নোয়াখালির উপদ্রব সম্বন্ধে রিপোর্ট সংগ্রহের জন্য বাঙলা গভর্ণমেন্ট কর্তৃক প্রেরিত রঞ্জিত গুপ্ত, আই. সি. এস. ২রা নভেম্বর রাত্রিতে উপদ্রুত, অঞ্চল হইতে একটি পরিবারকে উদ্ধার করিয়া আনিতেছিলেন, পথে দলবদ্ধ দুর্বৃত্তগণ তিনবার তাহাকে আক্রমণ করে এবং প্রত্যেকবার গুলী চালাইয়া তিনি রক্ষা পান [*রামগঞ্জ থানার দত্তপাড়ার নিকটে ইহা ঘটে। শ্রীযুক্ত গুপ্ত উদ্ধারপ্রাপ্তদিগকে দত্তপাড়ার সাহায্যকেন্দ্রে লইয়া আসিতেছিলেন।]

নোয়াখালি-ত্রিপুরা ভ্রমণ করিয়া আসিয়া পণ্ডিত হৃদয়নাথ কুঞ্জ যে বিবৃতি দেন তাহা ১০ই নভেম্বর প্রকাশিত হয়। পণ্ডিত কুঞ্জরুর মতে মুসলীম লীগের উগ্রপন্থী নেতাগণ ইসলামের নামে মুসলমানদিগকে ক্ষেপাইয়া অসহায় হিন্দুদিগকে আক্রমণে প্রবৃত্ত করিয়াছিল। পূর্ব হইতে বিপদের আশঙ্কা বুঝিয়া হিন্দুগণ গভর্ণমেন্টের নিকট রক্ষার জন্য পুনঃ পুনঃ আবেদন করিলেও বাঙলা গভর্ণমেন্ট উহা উড়াইয়া দিয়াছেন। ঘটনার গুরুত্ব লঘু করিবার জন্য জেনারেল বুসার ও জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট মিঃ ম্যাকিনার্ণি যাহা প্রকাশ করিয়াছেন, পণ্ডিত কুঞ্জ তাহার প্রতিবাদ করিয়া বলেন, শ্ৰীমতী সুচেতা কৃপালনীর সহিত ম্যাজিষ্ট্রেট যখন বলপূৰ্ব্বক বিবাহিতা একটি বালিকাকে উদ্ধার করেন, তখন পণ্ডিত কুঞ্জরু নিজেই তাহার সঙ্গে ছিলেন। বলপূর্বক ধর্মান্তরের দৃষ্টান্তস্বরূপে তিনি ভারতীয় বাহিনীর এক কমিশন-প্রাপ্ত হিন্দু অফিসারের দুর্গতির কথা উল্লেখ করেন। ইনি ছুটীতে আসিয়াছিলেন এবং উপদ্রবের সূচনার সময়ে গৃহেই ছিলেন। ইহাকে বাহিরে আসিতে বা কাহাকেও কোনো সংবাদ পাঠাইতে দেওয়া হয় নাই; ইহার গৃহ লুষ্ঠিত হয়, অস্ত্রাদি কাড়িয়া লওয়া হয় এবং একমাত্র ইহার মাতা ব্যতীত পরিবারের অপর সকলকে মুসলমান ধর্ম গ্রহণে বাধ্য করা হয়। মিলিটারী গিয়া উদ্ধার না করা পর্যন্ত ইনি সপরিবারে গৃহে বন্দী ছিলেন।(ক্রমশ)

We are not big media organisation. Your support is what keeps us moving. Don't hesitate to contribute because, work, for society needs society's support. Jai Hind.