বিপ্লবী বিনয় বসু

0
118

প্রীতম চট্টোপাধ্যায়

১৯৩০ সালের ২৯ আগস্ট সকালে বাংলার ইনস্পেক্টর জেনারেল অব পুলিশ এফ জে লোম্যান জেল পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট অসুস্থ মি. বার্টকে দেখতে হাসপাতালে যান। অসংখ্য পুলিশ সতর্ক নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরী করে লোম্যানকে পাহারা দিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যায়। এই নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যেই লোম্যানকে হত্যার উদ্দেশ্যে বিপ্লবীরা সতর্ক অবস্থায় হাসপাতালে রোগী বেশে অবস্থান করছিলেন।

বিপ্লবী দলের নেতৃত্বে ছিলেন বিনয় বসু। এফ জে লোম্যান তাঁর সহকর্মী মি. বার্টকে দেখে হাসপাতালের ওয়ার্ড থেকে বের হওয়ার পরপরই বিনয় বসুর রিভলবারের গুলিতে নিহত হন এবং লোম্যানের দেহ রক্ষী আহত হন। এসময় ব্রিটিশভক্ত একজন কন্ট্রাক্টর বিনয় বসুকে জড়িয়ে ধরে রাখার চেষ্টা করেন। বিনয় বসু ততক্ষণাৎ তাঁকে একটি মাত্র ঘুষি মারেন। এক ঘুষিতে সেই কন্ট্রাক্টর যমালয়ে চলে যান।

বিনয় বসু হাসপাতালের সুউচ্চ পাঁচিলের উপর উঠে সুকৌশলে পার্শ্ববর্তী বাড়ির ছাদের পানির ট্যাঙ্কের উপর লাফিয়ে পড়েন এবং মুহূর্তের মধ্যে বাড়ির ভিতর দিয়ে নিরাপদ স্থানে চলে যান।

লোম্যান হত্যাকারী বিপ্লবী বিনয় বসুকে উদ্দেশ্য করে সেদিন বাংলার অপরাজেয় কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তাঁকে আর্শিবাদ করে বলেছিলেন, “ধন্যি ছেলে, দেখিয়ে গেছে আমরাও জবাব দিতে জানি”।

এই অপ্রত্যাশিত ঘটনার পর ঢাকায় সর্বত্র পুলিশের অমানুষিক অত্যাচার শুরু হয়। প্রকাশ্য দিবালোকে বাংলার ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ এফ জে লোম্যানকে হত্যা করার পর এক আততায়ীর নিরাপদে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঢাকা পুলিশের অকর্মণ্যতার পরিচায়ক। সুতারং অকর্মণ্যতার গ্লানি দূর করার জন্য আসামীর সন্ধান করতে পুলিশ হন্যে হয়ে ছোটে শহরের ওলি-গলিতে। জনসাধারণকে মারধর শুরু করে। যুবকদের ধরে থানায় আটক রেখে নির্যাতন চালায়।

এসময় ঢাকাবাসী পুলিশের অন্যায় অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে উঠে। পুলিশের অত্যাচারের ভয়ে অনেক স্কুল-কলেজের ছাত্ররা ঢাকা ছেড়ে গ্রামে চলে যায়। লোম্যান হত্যাকারী আততায়ীকে পুলিশ ধরতে সক্ষম না হলেও তাঁর সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে পেরেছিল।

আততায়ী যুবকের নাম: বিনয় বসু। তাঁর বাবার নাম: রেবতী মোহন বসু। গ্রাম: রাউথভোগ, বিক্রমপুর। বিনয় বসু মেডিকেল কলেজের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র। বিনয় বসুকে গ্রেফতার করার জন্য পুলিশ সারা বাংলা তন্নতন্ন করে খোঁজে। সর্বত্র বিনয় বসুর ছবিযুক্ত পোস্টার লাগিয়ে দেওয়া হয়। ধরিয়ে দেওয়ার জন্য মোটা অংকের টাকা, দশ সহস্র মুদ্রা ঘোষণা করা হয়। কিন্তু কোথাও বিনয় বসুকে পাওয়া গেল না। কেউ ধরিয়েও দিল না।

লোম্যান হত্যাকারী আততায়ীকে পুলিশ ধরতে সক্ষম না হলেও আততায়ী যুবক সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে পেরেছিল। বিনয় কৃষ্ণ বসু জন্মেছিলেন ১৯০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর। ঢাকা জেলার মুন্সিগঞ্জ মহকুমার রোহিতভোগ গ্রামে। তাঁর বাবার নাম রেবতীমোহন বসু। তিনি ছিলেন একজন প্রকৌশলী। বিনয়ের বাবা পরিবার নিয়ে ঢাকাতে বসবাস করতেন। তাই বিনয় বসু ছোটবেলা থেকে ঢাকায় বড় হয়েছেন।

সম্ভবত ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করার পর তিনি মিটফোর্ড মেডিকেল স্কুল (বর্তমানের স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ) এ ভর্তি হন। এই সময় বিনয় বসু বিপ্লবী রাজনীতিতে যুক্ত হন। ব্রিটিশবিরোধী বিপ্লবী হেমচন্দ্র ঘোষের সংস্পর্শে এসে বিপ্লববাদী যুগান্তর দলে যুক্ত হন তিনি। শৈশব থেকে বিনয় বসু ছিলেন প্রচন্ড জেদী ও সাহসী।

বিপ্লববাদী দলে যুক্ত হওয়ার পর তিনি তাঁর অসীম সাহস ও দূরদর্শিতা দিয়ে ব্রিটিশ শাসকদের উচিৎ শিক্ষা দেওয়ার শপথ নেন। তিনি বিপ্লবী দলে যুক্ত হওয়ার পর সহপাঠীদের অনেককেই বিপ্লবী দলে যুক্ত করেন। ১৯২৮ সালে তিনি ও তাঁর সহপাঠী সহযোদ্ধারা নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসুর “বেঙ্গল ভলান্টিয়ার্স” এ যুক্ত হন। এই বিপ্লবী দলে যুক্ত হওয়ার অল্পদিনের মধ্যেই বিনয় বসু এই দলের ঢাকা শাখা গড়ে তোলেন।

পুলিশ সারা বাংলা তন্নতন্ন করে বিনয় বসুকে গ্রেফতার করার জন্য খুঁজে ফেরে। সর্বত্র বিনয় বসুর ছবিযুক্ত পোস্টার লাগান হয়। ধরিয়ে দেওয়ার জন্য মোটা অঙ্কের টাকা, পাঁচ হাজার মতান্তরে দশ হাজার, পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। কিন্তু কোথাও বিনয় বসুকে পাওয়া গেল না।

আর অন্যদিকে বিনয় বসু ও দলীয় সদস্য সুপতি রায় মুসলিম শ্রমিক বেশে দোলাইগঞ্জ (গেণ্ডারিয়া) রেলওয়ে স্টেশন থেকে ট্রেনে চড়ে চাষাড়া যান। চাষাড়া স্টেশনে ট্রেন থামা মাত্র তাঁরা দেখতে পেলেন, পুলিশ প্রতিটি কামরায় উঠে আততায়ীকে ধরার জন্য চিরুনী অভিযান চালাচ্ছে। বিনয় বসু ও সুপতি রায় খুব সতর্কভাবে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে ট্রেন থেকে নেমে যান।

তাঁরা দুজন স্থানীয় বিপ্লবী গিরিজা সেনের বাড়িতে আত্মগোপন করেন। পরদিন ভোরে তাঁরা খেয়া পার হয়ে বন্দরে যান (নারায়ণগঞ্জ শহরের বিপরীত পাড়)। সেখান থেকে বৈদ্যনাথবাজার। তারপর মেঘনা পাড়ি দেওয়ার পালা। মেঘনা পাড়ি দেওয়ার জন্য মুসলমান শ্রমিকের বেশ পরিত্যাগ করে সুপতি রায় জমিদার এবং বিনয় বসু জমিদার ভৃত্যের ছদ্মবেশ ধারণ করেন । বিনয় বসু জমিদারের (সুপতি রায়) সফরের জন্য একখানা নৌকা জোগাড় করেন। শুরু হয় মেঘনা পাড়ি। নৌকা থেকে একসময় স্টীমারে উঠতে সক্ষম হন।

স্টীমারে উঠে আবার মুসলমান শ্রমিকের বেশ ধরেন। তারপর স্টীমারে চড়ে ভৈরব স্টেশন, সেখান থেকে ট্রেনে চড়ে কোলকাতার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। কিশোরগঞ্জ স্টেশনে ট্রেন থামলে পুলিশ আততায়ী ধরার জন্য ট্রেনে উঠে গাড়ির কামরাগুলো একে একে তল্লাশি চালানো শুরু করলে তাঁরা কিছুটা কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েন।

হঠাৎ জানালার পাশে টিটিকে দেখে দুজনে তড়িঘড়ি গাড়ি থেকে নেমে টিটির কাছে টিকিট না করে ট্রেনের চাপার জন্যে ক্ষমা চান। দুজনই টিটির সাথে টিকেট ঘরের দিকে টিকিট কাটতে চলে যান। ইতিমধ্যে ট্রেনের সকল কামরা তল্লাশি করা শেষ হয়ে যায়। ভীত যাত্রীর অভিনয়ে কোন রকমে পার পান সে যাত্রা। দুজনে গিয়ে ট্রেনে ওঠেন। ট্র্রেন চলে ময়মনসিংহ স্টেশনের পথে।

ময়মনসিংহ স্টেশনে আবার এক বিপদ। ট্র্রেন থামার সাথে সাথে এক দারোগা তাঁদের বগিতে উঠে তল্লাশি শুরু করে। বিনয় বসু ও সুপতি রায় ততক্ষণাৎ পুলিশকে ফাঁকি দেয়ার পরামর্শ সেরে নেন। বিনয় বসু ছেঁড়া কাপড় মুড়ি দিয়ে শুয়ে রইলেন আর সুপতি রায় দু-হাত জোড় করে দারোগাকে তার ভাতিজা অসুস্থ বলে জানান, ‘মনে হয় বসন্ত হইছে’ বলায় বসন্তরোগভীত দারোগা পরবর্তী স্টেশনে কাপড় মুড়ি দেয়া বিনয়ের মুখ না দেখেই সদলবলে নেমে যায়।

সেখান থেকে তাঁরা নিরাপদে জগন্নাথগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ হয়ে থেকে সোজা কোলকাতা দমদম স্টেশনে নেমে ওয়ালীউল্লাহ লেনে অবস্থিত বিপ্লবী সুরেশ মজুমদারের বাড়িতে গিয়ে ওঠেন। সুরেশ বাবুর বাড়ি ছিল বিপ্লবীদের অন্যতম নিরাপদ আশ্রয়স্থল।

ঢাকা থেকে বহু বিপদ-আপদের পথ পাড়ি দিয়ে বিনয় বসু কলকাতা পৌঁছলেও নেতৃবৃন্দ নিশ্চিন্ত বোধ করেননি। তাঁরা বিনয়কে সর্বোচ্চ নিরাপদ স্থানে রাখার জন্য ‘কাতারামগড়’ কোলিয়ারীতে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। অন্যদিকে কোলকাতা পুলিশ সবগুলো রেলস্টেশনে বিনয়কে ধরবার জন্যে বিশেষ সতর্ক দৃষ্টি রেখেছিল। ব্যান্ডেল স্টেশনে সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী বন্দুক হাতে প্রস্তুত। দুই-তিন মিনিটের মধ্যেই কলকাতাগামী ট্রেন এসে পৌঁছাবে। তাঁদের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা সবগুলো কামরা বিশেষভাবে তল্লাশি করার নির্দেশ প্রদান করেছেন। কারণ এই গাড়িতেই বিনয় বসুর থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

ট্রেন এসেছে এমন সময় জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের মোটর গাড়ি দেখে পুলিশ বিস্মিত হল। তারা দেখল মোটর গাড়ি হতে নামলেন জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কনফিডেন্সিয়াল ক্লার্ক সরোজ রায় এবং তাঁর সঙ্গে দুজন আত্মীয়। আত্মীয় দুজনকে ট্রেনের কামরায় তুলে দিয়ে হাসি মুখে পুলিশকে “চারদিকে নজর রেখো” বলে সাবধান করে সরোজ বাবু গাড়িতে উঠে চলে গেলেন। সরোজ বাবুর আত্মীয় দুজনের একজন ছিলেন বিনয় বসু।

বিনয় বসু কাতারামগড় কোলিয়ারীতে অনাথ দাশগুপ্তের বাড়ি চলে গেলেন। এই বাড়ি ছিলো বিপ্লবীদের আর একটি গোপন আস্তানা। সেখান থেকে তিনি কিছুদিন পর ফিরে এলেন কলকাতায়। নেতারা চিন্তিত হয়ে পড়লেন বিনয়ের নিরাপত্তার জন্যে। বিপ্লবীরা নেতৃবৃন্দের কাছে এব্যাপারে পরামর্শ চাইলে আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র, লেডী অবলা বসু, শরৎ বসু, সুভাষ বসু, শরৎ চাটার্জিসহ প্রায় সকল নেতাই আত্মরক্ষার জন্য বিনয় বসুকে বিদেশে পাঠিয়ে দেয়ার উপদেশ দেন।

সেই মত তাঁকে বিদেশ পাঠানোর জন্য কিংস-বর্জ ডকের জনৈক পদস্থ কর্মচারীকেও ঠিক করা হল। পরদিন তাঁকে সমুদ্রগামী একখানা জাহাজে তুলে দেওয়া হবে। যাতে করে তিনি সোজা ইতালিতে যেতে পারেন। কিন্তু সকল পরামর্শ ও প্রস্তুতির অবসান ঘটালেন বিনয় নিজেই, কিছুতেই মাতৃভূমি ছেড়ে যাবেন না তিনি, জানিয়ে দিলেন নেতাদের। পরবর্তী অভিযানে অংশ গ্রহণের দৃঢ় সংকল্প ব্যক্ত করলেন।

ওই বছর ইংরেজ শাসকগোষ্ঠীর অত্যাচার-নির্যাতন শতগুণে বেড়ে যায়। শত শত রাজনৈতিক নেতা-কর্মী ও বিপ্লবীদের গ্রেফতার করে জেলে আটক রেখে চলে নির্যাতন। এই সময় ব্রিটিশ পুলিশ সুভাষচন্দ্র বসু, যতীন্দ্রমোহন সেনগুপ্ত এবং সত্য বক্সীর মতো নেতৃত্বকেও গ্রেফতার করে আলিপুর সেন্ট্রাল জেলে আটকে রাখে। একের পর এক নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করায় আলিপুর সেন্ট্রাল জেলের নির্দিষ্ট ওয়ার্ডে নতুন বন্দীদের জায়গা দেওয়া যাচ্ছিল না।

জেলের মধ্যে সৃষ্টি হলো এক অসহনীয় অবস্থা। রাজবন্দীদের মধ্যে বিক্ষোভ দানা বেঁধে উঠছিল। তাঁরা জেলকোড অনুযায়ী কয়েকটি দাবিতে আন্দোলন শুরু করে। এই আন্দোলন দমানোর জন্য ব্রিটিশ পুলিশ বেদমভাবে লাঠি চালায়। চলে নির্মম-নিষ্ঠুর অত্যাচার। সুভাষ বসু, যতীন্দ্রমোহন এবং সত্য বক্সীরাও বাদ গেলেন না এই অত্যাচার থেকে।

এঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ল জেলের ভিতরে। জানা গেল এই অত্যাচারের পিছনে রয়েছে ইন্সপেক্টর জেনারেল কর্নেল এনএস সিম্পসন। বিপ্লবীদের টার্গেট হলো কারা বিভাগের ইন্সপেক্টর জেনারেল লে. কর্নেল সিম্পসন। যিনি বসতেন ‘রাইটার্স বিল্ডিং’ এ। বন্দীদের উপর পাশবিক নির্যাতনের জন্য কুখ্যাত ছিল সিম্পসন। তাই সিম্পসনের নাম হত্যা তালিকার শীর্ষে ছিল।

তাই বিপ্লবীদের পরবর্তী অভিযান ছিল কোলকাতার ‘রাইটার্স বিল্ডিং’ আক্রমণ।

বাকিটা ইতিহাস।

১৯৩০ সালের ৮ ডিসেম্বর। যুদ্ধ চলেছে অনেকক্ষন। এলোপাথাড়ি গুলি বর্ষণ থেকে প্রাণ বাঁচাতে ছুটে পালাতে ব্যস্ত সমস্ত রাইটার্স বিল্ডিং, বিভীষিকাময় অবস্থা, চারিদিকে শুধু ছুটাছুটি, কলরব- কোলাহল- চিৎকার আর শুধু এক রব ‘বাঁচতে চাও তো পালাও’।

দীনেশের পিঠে একটি গুলিবিদ্ধ হল। তিনি তাতে ভ্রুক্ষেপও করলেন না। অসংকোচে গুলিবর্ষণ করতে লাগলেন শত্রুকে লক্ষ্য করে। যতক্ষণ পর্যন্ত বিনয়-বাদল-দিনেশের হাতে গুলি ছিল, ততক্ষণ কেউ তাঁদের আক্রমণ প্রতিহত করতে পারেননি। একপর্যায়ে বিপ্লবীদের গুলি নিঃশেষ হল। গুর্খা ফৌজ অনবরত গুলিবর্ষণ করে চলল। তখন তিনজন বিপ্লবী একটি শূন্য কক্ষে প্রবেশ করলেন।

বাদল সঙ্গে আনা সায়েনাইডের পুরিয়া মুখে দিলেন। বাদল শহীদ হলেন। বিনয় ও দীনেশ নিজেদের রিভলভারের শেষ বুলেট দুটি ব্যবহার করলেন নিজেদের মস্তক লক্ষ্য করে। দুজনেই আহত হয়ে ধরা পড়লেন। গুরুতর আহত বিনয় ও দীনেশকে পুলিশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দিল।

চিকিৎসায় সামান্য সুস্থ হয়ে উঠলেন দুজনেই।

বিনয় বসু মেডিকেল ছাত্র, তাঁর জানা ছিল এনাটমি। জানতেন মৃত্যুর সম্ভাব্য পথ।

১৩ ডিসেম্বর রাতে কাঙ্খিত মৃত্যুকে বরণ করার জন্য মস্তিষ্কের ব্যাণ্ডেজের ভিতর আঙ্গুল ঢুকিয়ে নিজ মস্তিষ্ক বের করে আনেন এবং মৃত্যুকে বরণ করে নেন মৃত্যুঞ্জয়ী বীর বিনয় কৃষ্ণ বসু।

আজকের দিনেই। ১৯৩০ সালে। বলিদান দিবসে শ্রদ্ধা জানাই।

ঋণ : ১। অগ্নিযুগের ইতিহাস: ব্রজেন্দ্রনাথ অর্জুন। প্রকাশক: মুক্তধারা। প্রকাশকাল; ডিসেম্বর ১৯৭৯।
২। বাংলার বিপ্লব প্রচেষ্টা: হেমচন্দ্র কানুনগো। চিরায়ত প্রকাশনী, কলকাতা। প্রকাশকাল: জুন, ১৯২৮।
৩। স্বাধীনতা সংগ্রামে সশস্ত্র বিপ্লবীদের ভূমিকা: সুধাংশু দাশগুপ্ত, ন্যাশনাল বুকস এজেন্সি কলকাতা।
৪। ফাঁসির মঞ্চে গেয়ে গেল যারা: চিন্ময় চৌধুরী। দে’জ পাবলিকেশন, কলকাতা। প্রকাশকাল: জানুয়ারী ১৯৯৮।
৫। বিদ্রোহী ভারত: নীহাররঞ্জন গুপ্ত। মিত্র ও ঘোষ পাবলিশার্স প্রা: লি:- কলকাতা, প্রকাশকাল: অগ্রহায়ণ-১৩৯১।
৬। হেমেন্দ্রনাথ দাসগুপ্ত, ভারতের বিপ্লব কাহিনী, ২য় ও ৩য় খন্ড, কলকাতা, ১৯৪৮।

We are not big media organisation. Your support is what keeps us moving. Don't hesitate to contribute because, work, for society needs society's support. Jai Hind.

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here