ধর্মনিরপেক্ষতা নয়, ভারতে চাই হিন্দু শাসন

2
1176

শ্রী তপন কুমার ঘোষ

ভারতের স্বাধীনতার পর প্রায় ৭০ বছর ইতিমধ্যেই অতিক্রান্ত। এই দীর্ঘ সময় ধরে ভারতবর্ষ একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে থেকেছে। আর ভারতের হিন্দু জনগণ এটাকে মেনে নিয়েছে। কিন্তু বর্তমানে কেন ভারতের ধনী-গরিব থেকে শুরু করে অতি সাধারণ হিন্দু জনগণের এটা মনে হচ্ছে যে আর আমাদের ধর্মনিরপেক্ষতা চাই না, ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র চাই না ?বর্তমানে এটা বাস্তব সত্য যে ভারতের বিশাল সংখক সাধারন হিন্দু জনগণ ভারতকে হিন্দুরাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চাইছে। কিন্তু কারণ টা কি?        আমি আপনাদের অমরনাথ যাত্রার কথা বলবো। কিছু বছর আগের কথা। আপনারা সকলেই জানেন যে, কাশ্মীরে অবস্থিত অমরনাথ মন্দিরে প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ হিন্দু তীর্থ করতে যান। এই অমরনাথ যাত্রা যথেষ্ট কষ্টকর, কারণ তীর্থযাত্রীদের অনেক দুর্গম, পাহাড়ি পথ পায়ে হেঁটে পেরোতে হয়। তাই জম্মু-কাশ্মীরের সরকার তীর্থযাত্রীদের সুবিধার জন্যে অমরনাথ শ্রাইন বোর্ডকে, যারা অমরনাথ তীর্থ যাত্রার দেখাশোনা করে,যার প্রধান জম্মু-কাশ্মীরের রাজ্যপাল; ১০০ একর জমি দেবার ঘোষণা করে। এই জমিতে অমরনাথ মন্দিরে আসা হিন্দু তীর্থযাত্রীদের থাকার জন্যে অস্থায়ী ছাউনি, টয়লেট ইত্যাদি বানানোর পরিকল্পনা করেছিল অমরনাথ শ্রাইন বোর্ড। কিন্তু ধর্মনিরপেক্ষ দেশ হওয়া সত্বেও কি হলো?সরকারের এই ঘোষণার বিরুদ্ধে কাশ্মীরের ৬ জেলার সমস্ত মুসলমান রাস্তায় নেমে এই ১০০ একর জমি দেবার বিরোধিতা করতে লাগলো এবং সরকারের বিরুদ্ধে রীতিমতো জঙ্গি আন্দোলন শুরু করে দিলো। কাশ্মীরের মুসলমানরা দাবি জানাতে লাগলো যে, আমরা সরকারের এই ঘোষণা মানব না, এটা কেন্দ্র সরকারের  কাশ্মীরের জনবিন্যাস বদলে দেবার চক্রান্ত। আমরা কোনোমতেই অমরনাথ শ্রাইন বোর্ডকে জমি দিতে দেব না। এই আন্দোলন এতটাই তীব্রতর ছিল যে সেনাবাহিনীর অনেক জওয়ান এবং পুলিশকর্মীর মৃত্যু হয় এই আন্দোলনে। তাহলে আপনারা ভেবে দেখুন, মাত্র ১০০ একর জমি দেওয়াতেই যদি মুসলমানরা মনে করে যে জনবিন্যাস বদলে যাবে, থলে যখন ধর্মের ভিত্তিতে ভারত ভাগ হয়েছিল মুসলমানদের দাবি মেনে; তবে মুসলিমদের জন্যে জন্যে পাকিস্তান তৈরি হবার পরেও কেন ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে হিন্দুরা সংখ্যালঘুতে পরিণত হচ্ছে? উদহারণ আমাদের চোখের সামনে। পশ্চিমবঙ্গের তিনটি জেলা মুর্শিদাবাদ, মালদা এবং উত্তর দিনাজপুর জেলাতে হিন্দু সংখ্যালঘুতে পরিণত; আসামের সাতটি জেলা-ধুবড়ি, বরপেটা, গোয়ালপাড়া,নগাঁও, মনিগাঁও, হাইলাকান্দি এবং করিমগঞ্জ-এ হিন্দুরা সংখ্যালঘুতে পরিণত। ঝাড়খণ্ডের মতো আদিবাসী জনজাতি অধ্যুষিত রাজ্যের তিনটি জেলা পাকুড়, সাহেবগঞ্জ এবং গোড্ডাতে হিন্দুরা সংখ্যালঘু; আর রাজমহল জেলাতেও হিন্দুরা সংখ্যালঘু হবার পথে। তাহলে কি দেখছি, মুসলিমদের জন্যে আস্ত একটা রাষ্ট্র দেবার পরেও ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে হিন্দু জনসংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমছে, হিন্দুরা সংখ্যালঘুতে পরিণত হচ্ছে এর মুসলিমরা সংখ্যাগুরুতে পরিণত হচ্ছে। কেন হচ্ছে- এই প্রশ্ন কি হিন্দুরা কখনো করবে না?কেন সাধারণ হিন্দুরা এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাবে না?ধর্মনিরপেক্ষতা বজায় রাখতে?কেন হিন্দুরা আওয়াজ তুলে বলবে না যে এতগুলি জায়গাতে যদি হিন্দু সংখ্যালঘু হয়ে যায়, তাহলে ভবিষ্যতে আমাদের জন্যে বিপদের দিন আসছে ? আর অনেক হিন্দু সব জেনেও এই ভয়ে প্রতিবাদ করে না, যদি প্রতিবাদ করি, তাহলে গায়ে সাম্প্রদায়িক লেবেল সেঁটে দেওয়া হয়। আমরা কি ভুলে গিয়েছি, ১৯৪৭ সালে শুধু এই এই সেক্যুলারিজম বজায় রাখতে গিয়ে আমরা আমাদের জন্মভূমিকে ভাগ করে মুসলমানের হাতে তুলে দিয়েছি? তখন এই ধর্মনিরপেক্ষতার কথা ভেবে আন্দোলন,লড়াই না করে চুপ করে থেকেছি। কিন্তু এ কেমন ধর্মনিরপেক্ষতা, যেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠরা অত্যাচারিত হয়, তাদের মন্দির লুন্ঠিত হয়,অপবিত্র হয়, পরিবারের মেয়েদের ধর্মান্তরিত হতে হয়; কিন্তু কিছু করার থাকে না ?       

   এ কেমন ধর্মনিরপেক্ষতা, যা বজায় রাখতে গিয়ে আমরাই এই পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন ব্লকে সংখ্যালঘুতে পরিণত হচ্ছি? আমি এর স্বপক্ষে দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলার মগরাহাট ব্লকের কথা বলতে চাই। ওই ব্লকে মাত্র ২০ বছরে হিন্দু জনসংখ্যা ৮৭ শতাংশ থেকে কমে ৪৭ শতাংশে পরিণত হয়ে গিয়েছে। আর ওই ২০ বছরে মুসলিম জনসংখ্যা ১১শতাংশ থেকে বেড়ে ৫১ শতাংশে পরিণত। কারণটা খুব পরিষ্কার। ওই ব্লকে হাজার হাজার হিন্দু মেয়েকে লাভ জিহাদের ফাঁদে ফেলে ধর্মান্তরিত করা হচ্ছে, মুসলিমদের আক্রমণে অনেক হিন্দু বাড়ি-ঘর,জমিজমা কম দামে মুসলিমদের বিক্রি করে চলে গিয়েছে। তাই এই অবস্থা। তবু হিন্দুরা প্রতিবাদ করছে না, মৌন হয়ে আছে। কারণ কি?ধর্মনিরপেক্ষতা। কিন্তু এতকিছুর পরেও কি এই ধর্মনিরপেক্ষতার ভালো-মন্দ বিচার করা উচিত নয়?    আমি ছোটবেলা থেকেই আরএসএস-এর সঙ্গে জড়িত ছিলাম এবং শৈশব থেকেই ভারতের সনাতন ধর্ম-সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত থাকার কারণে, আমি বিদেশি, কমিউনিস্ট ভাবধারার চরম বিরোধী ছিলাম। কিন্তু আমার জীবনে এমন একটা দিন এসেছিলো, যেদিন আমি কমিউনিস্টদের ধন্যবাদ জানাতে বাধ্য হয়েছিলাম। একবার একটি কেসে সুপ্রিম কোর্ট-এ স্বামী বিবেকানন্দ প্রতিষ্ঠিত রামকৃষ্ণ মিশন পিটিশন দায়ের করে বলেছিলো যে ‘আমরা হিন্দু নোই, আমরা হলাম রামকৃষ্ণ ধর্মের অনুসারী। তাই আমাদের সংখ্যালঘুর মর্যাদা দেওয়া হোক। সত্যিই এটা চমকে দেবার মতো বিষয়। কারণ যে স্বামী বিবেকানন্দ আমেরিকার বিশ্ব ধর্ম সম্মেলনে বিশ্বের সমস্ত ধর্মের প্রতিনিধিদের সামনে মাথা উঁচু করে বলেছিলেন, “আমি নিজেকে হিন্দু বলতে গর্ব অনুভব করি “; যে স্বামীজী বলেছিলেন,”বিশ্বের সমস্ত ধর্মের মাতৃস্বরূপ হিন্দু ধর্মের প্রতিনিধি আমি”, যে স্বামীজী বলেছিলেন, “I belong to such a religion to which sacred language the extrusion is untranslatable”; আর স্বামীজীর প্রতিষ্ঠিত সেই রামকৃষ্ণ মিশনই সুপ্রিম কোর্টে জানালো যে আমরা হিন্দু নই। আমরা হলাম রামকৃষ্ণ অনুসারী। হিন্দু এবং আমরা আলাদা। কিন্তু এর বিরুদ্ধে সুপ্রীম কোর্টে লড়াই করেছিল পশ্চিমবঙ্গের কমিউনিস্ট সরকার। কিন্তু কি কারণে এই মামলা ?একটু বিস্তারিত করে বলি। রামকৃষ্ণ মিশন পরিচালিত বেলুড় পলিটেকনিক কলেজ রয়েছে। সেই কলেজের ৪জন গ্রূপ-ডি কর্মচারী বামপন্থী কর্মী ইউনিয়নের সদস্য। তারা কলেজ পরিচালনায় সমস্যার সৃষ্টি করায় রামকৃষ্ণ মিশন তাদেরকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করে। তখন সেই চারজন কর্মচারী কোর্টে কেস করে। কিন্তু কোর্ট রামকৃষ্ণ মিশনের বিপক্ষে রায় দেয়। তখন রামকৃষ্ণ মিশন নিজেদেরকে সংখ্যালঘু দাবি করে সুপ্রিম কোর্টে পিটিশন দেয়। কারণ কোনো প্রতিষ্ঠান সংখ্যালঘু মর্যাদা পেলে, সংবিধান অনুযায়ী সরকার সেই প্রতিষ্ঠানে হস্তক্ষেপ করতে পারেনা। কারণ আমাদের মহান সংবিধানে(?) -এর ধারা ৩০ এবং ধারা ৩০এ তে বলা আছে যে সংখ্যালঘুরা যদি কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালাতে চায়,তবে তারা তা চালাতে পারবে এবং সেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ থাকবে না। তাই নিজেদের সংস্থার স্বার্থে রামকৃষ্ণ মিশন নিজেদেরকে সংখ্যালঘু দাবি করেছিল। কিন্তু ওই মামলায় সুপ্রিম কোর্ট রায় দিলো যে রামকৃষ্ণ মিশন সংখ্যালঘু প্রতিষ্ঠান নয়, এটি একটি হিন্দু প্রতিষ্ঠান। এবার আপনারা বলুন, এ কেমন সংবিধান আমাদের?যে সংবিধানের জন্যে কমিউনিস্টরা ধর্মবিরোধী, যারা প্রচার করে ধর্ম হলো আফিম, সেই কমিউনিস্টরাই রামকৃষ্ণ মিশনকে হিন্দু বানালো। আবার সেই সংবিধানের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে সংখ্যালঘুরা, যেমন -খ্রিস্টান, মুসলমানরা  দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালাচ্ছে। আমাদের সংবিধান তাদের এই অধিকার দিয়েছে। তাই তারা নিজেদের মতো সিলেবাস তৈরি করে পড়াচ্ছে। ধরুন, ৪ জন খ্রিস্টান মিশনারি মিলে একটা স্কুল শুরু করলো, তাহলে  সংবিধান অনুযায়ী সেটা হলো  সংখ্যালঘু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যেমন- সেন্ট পলস্, সেন্ট জেভিয়ার্স, ডন বস্কো প্রভৃতি। কিন্তু স্কুলে পড়ার মতো খ্রিস্টান ছাত্র তো নেই। তাই ঐসব স্কুলে পড়া ৯৯শতাংশ ছাত্র-ছাত্রী হলো হিন্দু। আর ওই সমস্ত ছাত্রকে বাইবেল পড়ানো হল ওই খ্রিস্টান মিশনারিদের অধিকার,যা আমাদের ধর্মনিরপেক্ষ মহান সংবিধান দিয়েছে। কিন্তু যে তরকারি স্কুলে ১০০ শতাংশ হিন্দু ছাত্র-ছাত্রী পড়াশুনো করে, তারা সেখানে রামায়ণ,মহাভারত পড়তে পারবে না। কিন্তু আমাদের হিন্দুদের ট্যাক্সের টাকায় খ্রিস্টান স্কুলগুলি হিন্দু ছাত্রদের বাইবেল পড়াতে পারবে। এ কেমন ধর্ম নিরপেক্ষতা?ভাবুন আপনারা। অর্থাৎ হিন্দু তুমি ধর্মনিরপেক্ষতা বজায় রাখতে গিয়ে তুমি তোমার সন্তানকে খ্রিস্টান,মুসলমান বানাও এবং হিন্দুর ধর্মীয় শিক্ষার বিষয়ে আপত্তি জানাও। আর হিন্দু এইভাবে তুমি ধর্মনিরপেক্ষ হয়ে থাকো। আজ বর্তমান ভারতে এটাই ধর্মনিরপেক্ষতার অর্থ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর ভারতে এই ধর্মনিরপেক্ষতা চলছে বলেই কেন্দ্র সরকার প্রত্যেক মুসলমানকে হ্বজে যাবার জন্যে ২৬,০০০ টাকা ভর্তুকি দেয়। কিন্তু প্রতিবেশী মুসলিম রাষ্ট্র পাকিস্তান সে দেশের মুসলমানদেরকে  হ্বজে যাবার জন্যে কোনো ভর্তুকি দেয় না। তাই তো, ভারতের এই অতিরিক্ত মহান ধর্মনিরপেক্ষতা দেখে পাকিস্তানের এক মুসলমান ব্যক্তি  হ্বজে ভর্তুকি দেবার জানিয়ে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করেন। তিনি পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টে এই দাবি জানান যে ভারত যদি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হয়ে  হ্বজে ভর্তুকি দিতে পারে, তবে পাকিস্তান একটি মুসলিম রাষ্ট্র হওয়া সত্বেও কেন  হ্বজে ভর্তুকি দেবে না। কোর্ট এই আবেদন গুরুত্বসহকারে বিচার-বিবেচনা করে এই রায় দিয়েছিলো যে, কোরান-হাদিস অনুযায়ী হ্বজ নিজের ব্যক্তিগত উপার্জনের তাকে করা উচিত। এমনকি  হ্বজ ধার করা টাকাতেও করা উচিত নয়। তাই  হ্বজে সরকারি ভর্তুকি দেওয়া হলো ইসলাম বিরুদ্ধ। কিন্তু তবুও ভারতে হ্বজে যাওয়ার জন্যে মুসলিমদের ভর্তুকি দেওয়া হয়। এরই নাম হলো ধর্মনিরপেক্ষতা।        

   এ কেমন ধর্মনিরপেক্ষতা, কোনো হিন্দু যখন কুম্ভমেলায় যায়, তখন তাকে ১০ টাকা ট্যাক্স দিতে হয়। কোনো হিন্দু যখন গঙ্গাসাগরে পুণ্যস্নান করতে যায়, তখন তাকে ৫ টাকা ট্যাক্স দিতে হয়। এই পশ্চিমবঙ্গের অনেক হিন্দুর হয়তো জানা নেই যে, গঙ্গাসাগর মেলায় যেতে গেলে যে নদী পেরোতে হয়,তার ভাড়া সারাবছর ৮ টাকা থাকলেও মেলার সময় ওই ভাড়া বেড়ে ৩০ টাকা হয়ে যায়। আবার নদী পার হওয়ার পর বাস-এ করে মন্দিরে যাবার যে ভাড়া সারাবছর ২০ টাকা থাকে, তা শুধুমাত্র সাগর মেলার সময় ৪০ টাকা হয়ে যায়। অর্থাৎ, এই দেশে ধর্মনিরপেক্ষতার নাম করে যেভাবে পারা যায় হিন্দুকে নিংড়ে নাও, শোষণ করো হিন্দুকে; আর মুসলমান, খ্রিস্টান যা চায় সব দিয়ে দাও। মাতা বৈষ্ণদেবী মন্দির শ্রাইন বোর্ড-এর অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেল, যার প্রধান হলেন জম্মু-কাশ্মীরের রাজ্যপাল। কিন্তু রাজস্থানে তো আজমের শরীফ রয়েছে; সেখানে তো লক্ষ লক্ষ মানুষ যায়,সেখানে তো লাখ লাখ টাকা জমা পড়ে। তাহলে আজমের শরীফের জন্যে কেন কোনো বোর্ড তৈরি হবে না?কেন আজমের শরীফ সরকারের অধীনে আসবে না ?আজ হিন্দুদের এই বিষয়গুলিকে অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা দরকার। তা নাহলে মুসলিম জনসংখ্যা বাড়তেই থাকবে,হিন্দু সংখ্যালঘু হয়ে পড়বে,  যা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যে মোটেই সুখকর হবে না। আমি হিন্দু সমাজের বয়স্ক মানুষদের অনুরোধ করবো, তারা যেন যুব প্রজন্মকে বলেন কেন ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে ভারত ভাগ হয়েছিল?তারা যেন যুবকদেরকে বলেন, কেন মুসলিমদের আলাদা মুসলিম রাষ্ট্র পাকিস্তান দিতে হয়েছিল; কেন বাংলা ও পাঞ্জাব ভাগ করে পাকিস্তান হয়েছিল। আপনারা জানেন কেন উত্তরপ্রদেশ কিংবা বিহার ভাগ হয়ে পাকিস্তান তৈরি হয়নি?কারণ বাংলা ও পাঞ্জাবে হিন্দুরা সংখ্যালঘুতে পরিণত হয়েছিল এবং মুসলিরা সংখ্যাগুরুতে পরিণত হয়েছিল। আর একথা কারোরই অজানা নেই যে যেখানেই মুসলিম সংখ্যাগুরু হয়ে যায়, তখন সেখানের মাটি অপবিত্র হয়ে যায়। তাই তো বাংলা ও পাঞ্জাবকে ভাগ করে মুসলিমদেরকে তাদের সাধের ‘পাক’ দেশ দিতে হয়েছিল। তাই হিন্দুদের আজ চিন্তা করা উচিত, শুধুমাত্র হিন্দু সংখ্যালঘু হওয়ার জন্যে ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে যদি পাকিস্তান সৃষ্টি হতে পারে, তবে একই ঘটনা কিন্তু আজও ঘটতে পারে।  

      আমাদের পূর্বপুরুষদের প্রতি আমার বিশাল ক্ষোভ রয়েছে। আমরা হিন্দুদের দুরাবস্থার জন্যে শুধু রাজনীতি নেতাদের গালাগালি দিই,দোষ দিই। শুধু নেতাদের গালাগালি দিয়ে কোনো লাভ হবে না। কারণ আমাদের পূর্বপুরুষরা কি করছিলো? যে স্বাধীনতার জন্যে মাস্টারদা সূর্যসেন শহীদ হয়েছিল, সূর্যসেন-এর চট্টগ্রাম আজ কেন স্বাধীন ভারতে নেই? যে স্বাধীনতার জন্যে ভগৎ সিং ফাঁসিতে নিজের প্রাণ দিয়েছিলো, সেই ভগৎ সিং-এর জন্মস্থান আজ স্বাধীন ভারতে নেই? এইসব প্রশ্ন কেন আমাদের পূর্বপুরুষরা করেনি? আমাদের পূর্বপুরুষরা প্রশ্ন করেনি বলে আমরাও কি এইসব প্রশ্ন করবো না?শুধুমাত্র নিজের ধর্মনিরপেক্ষতা বজায় রাখতে গিয়ে চুপ করে থাকবো? এদেশে ধর্মনিরপেক্ষতা বজায় রাখতে গিয়ে স্কুলে পড়ানো হয় হিন্দু ও মুসলমান হলো ভারতমাতার দুই সন্তান। আর এই দুই সন্তান মিলেই ভারতকে স্বাধীন করেছিল। কিন্তু বাস্তব কি বলে? ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে বাংলা ও পাঞ্জাব এই দুই রাজ্য থেকে সবথেকে বেশি সংখক যুবক শহীদ হয়েছিল। কিন্তু বাংলায়  সেই শহীদের তালিকায় একজনও মুসলমান নেই কেন? কেন হিন্দুরা এই প্রশ্ন করবে না? সেই সময় বাংলায় মুসলিম জনসংখ্যা ৫৪ শতাংশ হওয়া সত্বেও স্বাধীনতা আন্দোলনে কেন একজনও মুসলমান এই বাংলা থেকে শহীদ হয়নি?মুসলমানও তো ভারতমাতার সন্তান। তাহলে মা-কে স্বাধীন করার দায়িত্বও তো মুসলমানের রয়েছে।  কিন্তু যখনই কোনো হিন্দু এই প্রশ্ন করে, তখনই মুসলমানের দালালেরা বলে যে মুসলমানদের মধ্যে শিক্ষাদীক্ষার অভাব ছিল,তাই তারা স্বাধীনতা আন্দোলনে যোগ দেয়নি। কিন্তু বাস্তব সত্য হলো এই যে হিন্দুরা যখন স্বাধীনতা আন্দোলন করছিলো, তখন মুসলমানরা ব্যস্ত ছিল পাকিস্তান তৈরিতে। জিন্নাহ যখন পাকিস্তানের দাবি পেশ করলেন, তখন নেহেরু, গান্ধীসহ কংগ্রেসের তাবড় তাবড় হিন্দু নেতারা তা উড়িয়ে দিলেন। নেহেরু বললেন, ” The idea of pakistan is fantastic nonsense “. গান্ধীজি বললেন, ” যদি ভারত ভাগ করে পাকিস্তান হয়, তবে তা  আমার মৃতদেহের ওপর দিয়ে হবে”। এইসব নেতাদের কথায় কোটি কোটি হিন্দু বিশ্বাস রাখলো। কিন্তু তারপরেও ভারত ভাগ হয়ে মুসলিম রাষ্ট্র পাকিস্তান তৈরি হলো। তারপর পাকিস্তানে থাকা সমস্ত হিন্দুদের তাড়িয়ে দিলো পাকিস্তানের মুসলমানরা। কিন্তু মুসলমানদের জন্যে আলাদা মুসলিম রাষ্ট্র পাকিস্তান দেওয়া সত্বেও ভারতে বিশালসংখক মুসলমান থেকে গেলো। এটাই হলো ধর্মনিরপেক্ষতা। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীরা বলে আসছে যে স্বাধীনতা আন্দোলনে মুসলমান যোগ দিতে পারেনি, কারণ স্বাধীনতা সংগ্রামীরা গীতা পড়তো,দুর্গাপূজা করতো। কিন্তু মুসলমানরা তো আল্লার নাম একটি আলাদা বিপ্লবীর দল তাই করতে পারতো। মুসলমানরা যদি পাকিস্তান তৈরি করার জন্যে একটি আলাদা পার্টি বানাতে পারে, তাহলে স্বাধীনতা আন্দোলনের জন্যে কেন আলাদা বিপ্লবী দল বানাতে পারেনি?      

 ধর্মনিরপেক্ষতার আর একটা দিক হলো এই যে ইংরেজ শাসনকাল থেকে ভারতে এটা প্রচার করা হচ্ছে যে ভারতে মুসলমানরা পিছিয়ে আছে, তাদের মধ্যে শিক্ষা-সচেতনতার অভাব; তাই তাদের সমস্ত সুযোগ সুবিধা প্রাপ্য। স্বাধীনতার এতো বছর পরেও মুসলমানদেরকে অনেক সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। আর হিন্দুরাও এতবছর চুপ করে থেকে থেকেছে ওই ধর্মনিরপেক্ষতার কথা ভেবে। কিন্তু সত্যিই কি তাই?সত্যিই কি মুসলমানদের সচেতনতার অভাব?স্বাধীনতার পূর্বে, ভারতের দুটি রাজ্য বাংলা ও পাঞ্জাবে মুসলিম জনসংখ্যা সবথেকে বেশি ছিল। ওই দুটি রাজ্যের মধ্যে পাঞ্জাবে মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন স্যার সিকান্দার হায়াত খান; আর বাংলায় তিনজন মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন,প্রত্যেকেই মুসলমান-খাজা নাজিমুদ্দিন, ফজলুল হক এবং সুরাবর্দি। এই সেই কুখ্যাত সুরাবর্দি-যে সুরাবর্দি ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দের ১৬ই আগস্ট কলকাতায় ডাইরেক্ট অ্যাকশন-এর ডাক দিয়ে Great Calcutta killing  ঘটিয়েছিলেন; ঐদিন কলকাতায় ৫০০০ হিন্দুকে কচুকাটা করা হয়েছিল পাকিস্তানের দাবিতে। বাংলার তিনজন মুখ্যমন্ত্রীর তিনজনই মুসলমান। কেন একজনও হিন্দু মুখ্যমন্ত্রী হতে পারলো না? বাংলায় বিপিন চন্দ্র পাল, চিত্তরঞ্জন দাশ, প্রফুল্ল সেন-এর মতো ভারতবিখ্যাত নেতা থাকা সত্বেও তারা কেন মুখ্যমন্ত্রী হতে পারেননি? কারণ একটা বাস্তব সত্যি কথা হলো এই যে মুসলমানরা শিক্ষায় যতই পিছিয়ে থাকে না কেন,রাজনৈতিক সচেতনতা, ক্ষমতা দখল করার সচেতনতা আমাদের হিন্দুদের থেকে হাজারগুন বেশি। এই বাস্তব সত্য আমাদের পূর্বপুরুষরা বুঝতে চায়নি, যা আমাদের বর্তমান যুবপ্রজন্মকে বুঝতে হবে। তাই তো মুসলিম জনসংখ্যা বেশি, তাই মুখ্যমন্ত্রীও একজন মুসলমানই হবে। তাদের এই সচেতনতা বেশি বলেই কাশ্মীরে অমরনাথ শ্রাইন বোর্ডকে ১০০ একর জমি দেবার বিরোধিতা করে আন্দোলন করে। মুসলমানদের রাজনৈতিক সচেতনতা বেশি বলেই আসামে আবুল তৈমুর, মইনুল হক চৌধুরী মুখ্যমন্ত্রী হতে পারে, বিহারে আব্দুল গফুর মুখ্যমন্ত্রী হতে পারে, বীর শিবাজীর মহারাষ্ট্রে আব্দুল রহমান আন্তুলে মুখ্যমন্ত্রী হতে পারে। কিন্তু জম্মু-কাশ্মীরে ভীম সিং বা কোনো হিন্দু কি কোনোদিন মুখ্যমন্ত্রী হতে পারে?পারে না। কারণ হিন্দু প্রধান রাজ্যে মুসলিম ব্যক্তি মুখ্যমন্ত্রী হতে পারে, কিন্তু মুসলিম প্রধান রাজ্যে কোনোদিন কোনো হিন্দু ব্যক্তি মুখ্যমন্ত্রী হতে পারে না। এরই নাম ধর্মনিরপেক্ষতা। এই ধর্মনিরপেক্ষতা মদের হিন্দুদের সর্বনাশ করে দিচ্ছে। আজকের ভারতের যুবপ্রজন্মকে এক মারাত্বক সত্যি কথা জানতে দেওয়া হয়নি যে আসাম আর মাত্র দশবছর ভারতে থাকবে। আসামে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকাতে হিন্দু কোনোদিন মাথা উঁচু করে বাঁচতে পারেনা। একই পরিস্থিতি পশ্চিমবঙ্গের তিন জেলা এবং বিহারের কাটিহার,পূর্ণিয়া এবং কিষানগঞ্জে। এর অর্থ হলো এই যে এই দেশে আর একটি পাকিস্তান তৈরি হচ্ছে। কারণ সমস্ত মুসলমানের সামনে একটি লক্ষ্য রয়েছে, একটি স্বপ্ন রয়েছে-পাকিস্তান। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় হিন্দু সম্প্রদায়ের সামনে কোনো লক্ষ্য নেই, কোনো স্বপ্ন নেই। ব্যক্তিগতভাবে হিন্দুদের আলাদা আলাদা স্বপ্ন রয়েছে-হিন্দু স্বপ্ন দেখে যে সে তার ছেলেকে ডাক্তার, ইঞ্জিনীয়ার বানাবে। কিন্তু হিন্দুজাতির সামনে কোনো স্বপ্ন নেই। একজন মুসলমান স্বপ্ন দেখে দুনিয়াকে ‘দার-উল-ইসলাম’ বানানোর। কিন্তু হিন্দুদের কিছু নেই। আমি হিন্দুদেরকে একটি প্রশ্ন করতে চাই, জাতি হিসেবে তোমাদের সামনে কোনো লক্ষ্য বা স্বপ্ন আছে কি?না, নেই, কিছুই নেই। কিন্তু আমাদের পূর্বপুরুষরা আমাদেরকে স্বপ্ন দিয়ে গিয়েছিলো, বসুধৈব কুটুম্বকম। কিন্তু বর্তমানে হিন্দুসমাজে এই লক্ষ্য আর বেঁচে নেই। এই কথা বইয়ের পাতায় লেখা থাকবে, কিন্তু কোনো হিন্দুর মনে কোনোদিন থাকবে  না।        

     একবার দিল্লিতে দীপাবলি অনুষ্ঠানে অতিথি হয়ে গিয়েছিলাম। সেই অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তারা ছিল পশ্চিম পাঞ্জাব থেকে আসা শিখ রিফিউজিরা। আমি তাদেরকে বলছিলাম যে আমরা দীপাবলি পলিন করি ভগবান শ্রী রামচন্দ্রের ১৪ বছর বনবাসের পর বাড়ি ফিরে আসার আনন্দে। কারণ সেই দিন অমাবস্যার দিন ছিল, তাই অযোধ্যাবাসীরা পুরো অযোধ্যাকে প্রদীপ দিয়ে সাজিয়েছিল। তাই আপনারা ঐদিন অন্তত সংকল্প করতে পারেন, একদিন আমরা আমাদের জন্মস্থান লাহোর,করাচি বা রাওয়ালপিন্ডিতে গিয়ে দীপাবলি পালন করব। কিন্তু তা তারা করে না। কারণ একটি জাতি হিসেবে আমাদের সামনে কোনো লক্ষ নেই, কোন স্বপ্ন নেই। কারণ হিন্দুসমাজ তার লক্ষ্য, স্বপ্ন হারিয়ে ফেলেছে। আমাদের হিন্দুদের অস্তিত্ব তো টিকে আছে, কিন্তু আমাদের স্বপ্ন হারিয়ে গিয়েছে। আমরা যখন হিন্দুদের ওপর ঘটে  চলা অত্যাচারের কথা বলতে থাকি, তখন কিছু বয়সে বোরো,প্রবীণ হিন্দু ব্যক্তি আমাকে উপদেশ দেয় যে তুই কি একই হিন্দুধর্মকে বাঁচাবি? অরে এ হলো সনাতন ধর্ম ; এ কখনো ধ্বংস হবে না, স্বয়ং ভগবান একে রক্ষা করবেন। একথা ঠিক যে সনাতন ধর্ম হয়তো ধ্বংস হবে না। কিন্তু বয়স্কদের এই জ্ঞান নেই যে সনাতন ধর্ম হয়তো ভারতে বেঁচে থাকবে না। হয়তো এও হতে পারে , সনাতন ধর্ম ওয়াশিংটনে বেঁচে থাকবে, হতে পারে টোকিওতে সনাতন ধর্ম বেঁচে থাকবে। কারণ আজ তো লাহোরে সনাতন ধর্ম বেঁচে নেই। আজ আফগানিস্তানের কান্দাহার, যা মহাভারতের গান্ধার, যার রাজকুমারী ছিলেন গান্ধারী, সেখানেও আজ সনাতন ধর্ম  জীবিত নেই। সিন্ধুনদীর তীর, যেখানে একসময় বেদমন্ত্র উচ্চারিত হতো,সেখানে আজ সনাতন ধর্ম জীবিত নেই। তাই একথা প্রমাণিত হয় যে, আমাদের সমাজের যুবপ্রজন্মকে ভুল শিক্ষা দিয়েছে বয়স্করা। তবে একথা ঠিক যে সনাতন ধর্মের মৃত্যু হবে না, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সনাতন ধর্ম জীবিত থাকবে। কিন্তু সনাতন ধর্মের উৎসস্থল, পুণ্যভূমি ভারতবর্ষে হয়তো আর এই সনাতন ধর্ম জীবিত থাকবে না, যদি অবিলম্বে হিন্দুজাতি না জেগে ওঠে। তাই বর্তমান সময়ে হিন্দুচেতনা এবং হিন্দুসুরক্ষা খুবই জরুরি। আজ প্রতিটি হিন্দুকে এ কথা জিজ্ঞেস করতে হবে, কেন স্বাধীনতার লড়াইয়ে মুসলমান রক্ত দেয়নি?কেন স্বাধীনতা সংগ্রামে মুসলমান শহীদ হয়নি?মাতৃভূমির মুক্তিসংগ্রামে রক্ত না দিয়ে, শহীদ না হয়ে যখন দেশ স্বাধীন হলো, তখন ভাগ চেয়ে বসলো মুসলমান। তারপর ভারতের সমস্ত মুসলমানের জন্যে পাকিস্তান দিয়ে দেবার পরও কোন অধিকারে ভারতে মুসলমান থাকে?এ কেমন ভাগাভাগি? এ যেন দুই ভাইয়ের সম্পত্তি ভাগাভাগি।  ছোটভাই বড়ভাইয়ের কাছে গিয়ে বুল, দেখ, এটা তো আমার ভাগের সম্পত্তি; এটা আমার থাক। আর আমি তোর জায়গায় দুজনে মিলে মিশে থাকবো। কিন্তু যে গান্ধী-নেহেরুকে দেশের জনতা বিশ্বাস করেছিল, তারা কখনও একথা মুখে স্বীকার করেনি যে হিন্দু-মুসলমান দুটি পৃথক জাতি। কিন্তু তবুও দ্বি-জাতি তত্বকে মেনে নিয়ে ভারত ভেঙে পাকিস্তান সৃষ্টি হয়েছিল। এইভাবে অন্যায়ভাবে মুসলমানের দাবি মেনে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারপরেও কি হলো? মুসলমানদের পাকিস্তান দেবার পরও কাশ্মীর থেকে সমস্ত হিন্দুদের তাড়িয়ে দেওয়া হলো এবং কাশ্মীর মুসলিম প্রধান অঞ্চলে পরিণত হলো। হিন্দু কোনো প্রতিবাদ করেনি, কারণ সে তখন ধর্মনিরপেক্ষ নাম জপ করছিলো। আর ঠিক এইভাবে ধর্মনিরপেক্ষ নাম জপ করতে করতে পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, বিহার একের পর এক রাজ্য পাকিস্তানে পরিণত হবে।        

 তাহলে শেষপর্যন্ত ভারতের কোন রাজ্য নিরাপদ থাকবে, যেখানে হিন্দুরা স্বস্তিতে শ্বাস নিতে পারবে? এইভাবে ধর্মনিরপেক্ষতা চলতে থাকবে এবং ভারত থেকে হিন্দুদের চিহ্ন মুছে যাবে, ঠিক যেভাবে পারস্য (বর্তমান ইরান) থেকে পার্সিরা মুছে গিয়েছে। এই একই ভবিষ্যৎ কি হিন্দুদের জন্যে অপেক্ষা করে আছে?তাই আজ আর আপোসের সময় নয়। হিন্দু যুবকদেরকে শাস্ত্র থেকে শিক্ষা নিতে হবে ধর্ম বাঁচাতে, মঠ-মন্দির বাঁচাতে, মা-বোনের ইজ্জত বাঁচাতে। আর হিন্দু যদি এখন হাতে অস্ত্র তুলে না নেয়, তাহলে হিন্দু নিজেদেরকে কোনোদিন রক্ষা করতে পারবে না। শুধু সংগঠন, সংগঠন করলে চলবে না। সংগঠন অনেক হয়েছে। জঙ্গলে সব প্রাণীর মধ্যে ভেঁড়ারাই সবথেকে শৃঙ্খলাবদ্ধ এবং সংগঠিত প্রাণী। দুশো ভেঁড়া কি সুন্দরভাবে লাইন দিয়ে রাস্তা দিয়ে যায়। কিন্তু যখনই একটি কুকুর কোনো একটি ভেঁড়াকে কামড়ে ধরে নিয়ে যায়,তখন কিন্তু ওই সংগঠিত দুশো ভেঁড়া তাকে বাঁচাতে যায়না। তাই সংগঠন নয়, বীর হওয়া জরুরি। ভেঁড়াদের সংগঠন দিয়ে কোনো কাজ হবে না। হিন্দু যুবকরা মনে রেখো, ভারতবর্ষ একটি বিশাল দেশ। তাই মুসলমানরা একে টুকরো টুকরো করে দখল করছে। প্রথমে ওরা আমাদের গান্ধার(বর্তমান কান্দাহার) নিলো;তারপর সিন্ধু, পাঞ্জাব এবং পূর্ব পাকিস্তান নিলো; তারপর কাশ্মীর নিলো। তোমরা কি ইতিহাসের গতি দেখতে পাচ্ছ না? দেখতে পাচ্ছ না যে আমাদের জন্মভূমি ধীরে ধীরে ছোট হয়ে আসছে? হিন্দুদের মাটি ক্রমশ ছোট হয়ে আসছে, আর মুসলমানদের মাটি ক্রমশ বাড়ছে। তবুও আমরা সব জেনে শুনেও আমরা মুসলমানদের প্রশ্রয় দিয়ে চলেছি। এ আমাদের অদভুত ধর্মনিরপেক্ষতা, মুসলমানরা তাদের সংখ্যা বাড়িয়ে চলেছে, তবু তাদেরকে আমার প্রশ্রয় দিয়ে চলেছি। আর উল্টোদিকে হিন্দুর সংখ্যা কমেই চলেছে। ধর্মনিরপেক্ষতার নাম দিয়ে মুসলিমদের জন্যে  পার্সোনাল ল বোর্ড দিয়ে দেওয়া হলো। ধর্মনিরপেক্ষতা আছে, তাই মুসলমান চারটি বিয়ে করতে পারবে, সেটা আবার মেনে নিতে হবে, কারণ ওটা হলো মহান আল্লাহতালার আইন। কেউ মুসলমানকে গিয়ে কেন জিজ্ঞেস করে না যে আমেরিকা, ইংল্যান্ডে তো মুসলমানরা থাকে, সেখানে কোনো মুসলমান যদি একটা বিয়ে মুসলমান থাকতে পারে, তবে কেন ভারতে থাকতে পারবে না? আর একটি কথা হলো এই যে আল্লাহ-এর আইন শরীয়ত একদম সঠিক।  আমি মেনে নিচ্ছি একথা। শরীয়ত অনুযায়ী, চুরি করলে হাত কেটে নেওয়া হবে; ব্যাভিচার করলে পাথর ছুঁড়ে হত্যা করা হয়; ধর্ষণ করলে কোমর পর্যন্ত বালিতে পুঁতে দেওয়া হয়। তাই আমি দাবি জানাচ্ছি ভারতের যত জেলে আছে, তাদের শরীয়ত আইন অনুযায়ী শাস্তি দেওয়া হোক। না, তখন কিন্তু মুসলমান শরীয়তের আইন মানবে না। কেন মানবে না? কেন মুসলমানদের এই দুমুখো নীতি?অর্থাৎ মুসলমান চারটে বিয়ের জন্যে শরীয়তের বাহানা দেবে। মুসলমানের এই সুবিধাবাদী নীতিকে মেনে নেবার নামই হলো ধর্ম নিরপেক্ষতা।  

  তাই এই ধর্মনিরপেক্ষতা হিন্দুর জন্যে সবদিক থেকেই সর্বনাশ করেছে। আর আমরা যদি এই ধর্মনিরপেক্ষতাকে এখনো আঁকড়ে পড়ে থাকি, তাহলে আমাদের  জন্যে বিরাট সর্বনাশ আসবে। তাই তো আজ ভারতের প্রতিটা হিন্দু উপলব্ধি করছে যে ধর্মনিরপেক্ষতার কারণে ভারত ভেঙে পাকিস্তান সৃষ্টি হয়েছি, কোটি কোটি হিন্দু ঘরছাড়া, ভিটেমাটি ছাড়া হয়েছিল। তাই স্বাধীনতার ৭০ বছর পর এখনো যদি ধর্মনিরপেক্ষতার ঢং করি, তাহলে পুরো ভারত পাকিস্তান হয়ে যাবে-যা আসাম, পশ্চিমবঙ্গ ও বিহার দিয়ে শুরু হবে। তাই আমাদের এই সেক্যুলারিজম চাই না, হিন্দুরাষ্ট্র চাই, হিন্দু রাজ্য চাই এবং ভারতে হিন্দু শাসন চাই। 

(মতামত লেখকের ব্যক্তিগত )

We are not big media organisation. Your support is what keeps us moving. Don't hesitate to contribute because, work, for society needs society's support. Jai Hind.

2 COMMENTS

Comments are closed.