পূর্ববঙ্গের ঐতিহ্যবাহী মন্দির-(৩)

0
88

কাল ভৈরব মন্দির, ব্রাহ্মনবেড়িয়া 

কাল ভৈরব মন্দির বাংলাদেশের  ব্রাহ্মনবেড়িয়া জেলার মেড্ডা এলাকায় অবস্থিত। এটি একটি শিবের মন্দির। এই মন্দিরে শিব ঠাকুর কাল ভৈরব রূপে পূজিত হন। এই মন্দিরে কাল ভৈরবের মূর্তি ২৪ ফুট(১৯৭১ খ্রিস্টাব্দের পূর্বে ছিল ২৮ ফুট) উঁচু, যা সম্ভবত এশিয়ার সর্বোচ্চ শিবের মূর্তি। যদিও এটা একটা শিবের মন্দির, তবে এই মন্দিরে মা কালীও পূজিতা হন। কাল ভৈরবের ডানপাশে মা কালী এবং বাম পাশে মা স্বরস্বতী পূজিতা হন। বাংলাদেশের শিবভক্তদের কাছে এই মন্দির খুব জনপ্রিয় এবং প্রতি বছর এই মন্দিরে ব্যাপক লোক সমাগম হয়। 

মন্দিরের ইতিহাসের সঙ্গে  জড়িত আছে  ঊনবিংশ শতক। কথিত আছে যে  প্রায় ২০০ বছর আগে দুর্গাচরণ আচার্য নামে এক ভাস্কর এই মন্দিরের কাল ভৈরবের মূর্তিটি তৈরী করেন। সরাইল উপজেলার জমিদার নূর মহম্মদ, যিনি শিবের ভক্ত ছিলেন, তিনি এই মন্দির তৈরী করার জন্য জমি দান করেন।  

ব্রাহ্মনবেড়িয়া শহর গড়ে ওঠার পূর্বে ওখানে মেড্ডা নামে একটি বাজার ছিল। এই মেড্ডা বাজারটি তিতাস নদীর তীরে অবস্থিত এবং বর্তমান এটি মেড্ডা কাঁচা বাজার নামে বিখ্যাত। এই বাজারটি প্রায় ৩০০ বছরেরও বেশি পুরোনো। দুর্গাচরণ মন্দিরের মূর্তিটি প্রথম মাটি দিয়ে তৈরী করেছিলেন। ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত মন্দিরে নিত্য পূজা সম্পন্ন হতো। 

বাংলাদেশের মুক্তি যুদ্ধের সময় পাকিস্তানী সেনাদের হাতে বাংলাদেশের একাধিক মন্দির ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং লুঠপাঠের শিকার হয়। বাদ যায়নি এই মন্দিরও। পাকিস্তানী সেনারা ডিনামাইট দিয়ে মূর্তিটির অনেকাংশ নষ্ট করে দেয়। পরবর্তীকালে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর হিন্দুরা মূর্তি এবং মন্দিরের সংস্কারে উদ্যোগী হয়। প্রায়  ৪ বছর ধরে কাল ভৈরবের ২৪ ফুট লম্বা একটি নতুন মূর্তি নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে সারা বাংলাদেশ থেকে হিন্দু পুণ্যার্থীরা এই মন্দিরে আসেন।  

We are not big media organisation. Your support is what keeps us moving. Don't hesitate to contribute because, work, for society needs society's support. Jai Hind.