পশ্চিমবঙ্গে নিঃশব্দে জাল ছড়িয়েছে আসাদ উদ্দিন ওয়েসীর দল মীম(AIMIM)

0
1431

সকলের অলক্ষ্যে পশ্চিমবঙ্গে জাল ছড়িয়েছে হায়দ্রাবাদে জন্ম নেওয়া কট্টর মুসলমানপন্থী সাম্প্রদায়িক দল আসাদ উদ্দিন ওয়েসীর AIMIM(অল ইন্ডিয়া মজলিশ-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন)  । সেইসঙ্গে আগামী বিধানসভা ভোটে রাজ্যের সব কয়েকটি আসনে প্রার্থী দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেছে তারা। আসাদ উদ্দিন ওয়েসীর এই ঘোষণা অনেক রাজনৈতিক নেতার কাছে মাথাব্যথার কারণ কিংবা হাস্যাম্পদ মনে হলেও এই আওয়াজ মোটেও ফাঁকা আওয়াজ নয়। তাঁর কারণ এই কট্টর মুসলিম দলটি দ্রুত জনপ্রিয়তা লাভ করছে এই রাজ্যের মুসলিম যুব সমাজের কাছে । তাঁরা বিশাল সংখ্যায় এই দলটিতে যোগ দিচ্ছেন। আর তার ফলেই রাজ্যের প্রায় প্রতিটি জেলায় নিঃশব্দে বেড়ে চলেছে AIMIM ।

সংখ্যালঘু অধ্যুষিত জেলাগুলি তো বটেই, AIMIM দ্রুত বাড়ছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, দুই মেদিনীপুর, কোচবিহার, বীরভূম, বর্ধমান ইত্যাদি জেলাগুলোতেও। বিশ্বাসযোগ্য সূত্র মারফত পাওয়া খবর অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের প্রায় প্রতিটি জেলা কমিটি, মহকুমা কমিটি, ব্লক কমিটি গঠিত হয়ে গিয়েছে ইতিমধ্যেই। প্রতিটি জেলা, মহকুমা, ব্লক কমিটির আলাদা আলাদা WhatsApp গ্রূপ রয়েছে। তার মাধ্যমেই সদস্যরা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রাখছেন এবং সেখান থেকে প্রচার চালানোর কৌশল ঠিক করা হচ্ছে। তবে প্রচার শুধুমাত্র WhatsApp-এ সীমিত রাখতে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। শুধুমাত্র জেলাভিত্তিক ফেসবুক পেজের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। গ্রূপগুলিতে জোর প্রচার চালানো হচ্ছে এই বলে যে মুসলমানদের হাতে ক্ষমতা নেই, সেই ক্ষমতা দখলের জন্য AIMIM-কে পশ্চিমবঙ্গে আনতে হবে। সেইসঙ্গে প্রচারের ট্যাগলাইন- “Join AIMIM- Feel the Power”। সেইসঙ্গে AIUDF-এর রাজ্য সভাপতি সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী রাজ্যের মন্ত্রী হয়ে বসায়, তার দল বর্তমানে হিমঘরে। কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচিও আজকাল দেখতে পাওয়া যায় না। এমতবস্থায় AIUDF-এর কর্মী-সমর্থকেরা আসাদ উদ্দিন ওয়েসিকেই মুসলমানদের ‘মসিহা’ মনে করছেন। তাই তাঁরা  দলে-দলে ভিড়তে শুরু করেছে আসাদ উদ্দিন ওয়েসির পার্টিতে। ফলে শক্তি অনেকটাই বৃদ্ধি হয়েছে AIMIM-এর। সেইসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের পিছিয়ে পড়া শ্রেণী-তথা দলিত ভোটব্যাঙ্ক-কে নিজেদের দিকে টানতে বাবাসাহেব আম্বেদকরকে নিজেদের ব্যানারে স্থান দিয়েছে এই দল। সেইসঙ্গে শ্লোগান প্রচার করা হচ্ছে -”জয় মীম-জয় ভীম”। 

এই দল যে রাজ্যব্যাপী বিস্তারলাভ করছে , তাঁর আঁচ ইতিমধ্যেই লাগতে শুরু করেছে। কয়েকমাস আগেই এই দলের সমর্থকেরা দক্ষিণ ২৪ পরগনার মগরাহাটে রেল অবরোধ করে। সেই অবরোধকে কেন্দ্র করে ব্যাপক পাথর ছোঁড়া হয় সাধারণ যাত্রীদের লক্ষ্য করে। তাতে অনেকের মাথা ফেটে যায়। এই বছর পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার শালবনির দেবগ্রাম এলাকার সিজুয়া বাজারে দুর্গা প্রতিমা ভাঙচুর করে কিছু মুসলমান দুষ্কৃতী । স্থানীয়দের অনুমান যে এটি AIMIM সমর্থকদের কাজ। 

রাজ্য রাজনীতিতে সংখ্যালঘুদের নতুন দল পদার্পন করায় রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আমূল বদলে যেতে পারে, এমনটাই মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। আর সেই কারণেই এই দলের বিরুদ্ধে সুর।ছড়িয়েছেন TMC সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জিও। কারণ হিসেবে মুসলিম ভোট ভাগাভাগি হওয়ার দাবিও করেছেন অনেকে। যদি মুসলিম ভোট ভাগ হয়, তবে মমতা ব্যানার্জির মুসলিম ভোট ব্যাংকে ধস নামবে, ফলে আগামী বিধানসভা নির্বাচনে জয়লাভ কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়াবে। এমনিতে লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির ১৮টি সিটে জয়লাভ ইঙ্গিত করে যে হিন্দু ভোট মেরুকরণ হয়ে গিয়েছে। এমতবস্থায় যদি মুসলিম ভোটও ভাগ হয়, তাহলে তা বিষম ব্যাপার দাঁড়াবে। তবে AIMIM আসায়, রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, রাজ্যের সার্বিক পরিস্থিতি যে আরও সাম্প্রদায়িক হয়ে উঠবে, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

We are not big media organisation. Your support is what keeps us moving. Don't hesitate to contribute because, work, for society needs society's support. Jai Hind.