কিবুৎজ- সমাজ ও রাষ্ট্রগঠনের শতবর্ষের একটি শিক্ষা(২)

0
312

জয় রাজ

দেশের প্রতি অবদান 

 কিবুৎজগুলিতে বাস করে ইস্রায়েলের মাত্র ৫% । ক্ষেতখামারও অতিসামান্য। তবু কিবুৎজের ইস্রায়েলের অর্থনীতিতে অবদান চমকপ্রদ। কৃষি উৎপাদনের ৪০% এবং শিল্প উৎপাদনের ৯ % করে কিবুজৎগুলি। ইস্রায়েলের বিখ্যাত কৃষি ও সেচ ব্যবস্থা কিবুৎজেই আবিষ্কার। শুধু শিল্প বা কৃষি নয়, প্রতিরক্ষায় কিবুজৎগুলি বিরাট অবদান রাখে। বেশির ভাগ কিবুৎজ সীমান্ত এলাকায় যেখানে ক্রমাগত যুদ্ধ চলে -কিবুৎজ সদস্যরা সেখানে প্রতিরোধ করে।যেমন ১৯৭৩এর ছয়দিনের যুদ্ধে ৬০০ সেনার  সাথে ২০০ কিবুৎজ সদস্য বীরগতি প্রাপ্ত হয়। এমন বহু ঘটনার ফলে কিবুৎজ সদস্যরা সারাদেশেই সন্মান লাভ করে। জাতীয় পার্লামেন্টে ১৫% প্রতিনিধিত্ব করে কিবুৎজের সদস্যরা।কিবুৎজে সামগ্রিক ভাবে সংস্কৃতিচর্চার বিস্তৃত পরিবেশের ফলে শুধু রাজনীতি নয় সাহিত্য,চিত্রকলা,অভিনয় প্রতিটি ক্ষেত্রে বিরাট অবদান রাখে। কিবুৎজ জীবনধারা এতটাই সন্মান অর্জন করে যে ইস্রায়েল রাষ্ট্রের জনক ডেভিড বেন গুরিয়ন প্রধানমন্ত্রীত্বের শেষে আজীবন কিবুৎজ কর্মী হিসাবে নেগাভের মরুভুমিতে কাজ করেন।হিব্রু ভাষার নবজাগরনেও বিস্তৃত ভুমিকা রাখে কিবুৎজ।

সংকট

৫০,৬০,৭০ এর দশকে প্রবল আর্থিক উন্নতি করেছিল কিবুৎজ। কিবুৎজ সদস্যদের জীবনযাত্রা সাধারন মধ্যবিত্তদের থেকে অনেক উপরে ছিল। কিন্তু ৮০র দশক থেকে শুধু কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি ও মুল্যবৃদ্ধির ফলে কিবুৎজগুলি আর লাভজনক রইলনা। ইস্রায়েলের বহুগুন আর্থিক উন্নতি হয়েছে ফলে জীবিকার বহু সুযোগ। যৌথ কমিউন জীবন ছেড়ে অনেক সদস্য বাইরে বেরিয়ে আসে,ইউরোপ আমেরিকায় পাড়ি জমায় অনেকে। কিছু কিবুৎজ বন্ধ হয়ে যায়। মনে হয় কিবুৎজ আন্দোলন ইতিহাসে ঠাঁই পাবে!নবজাগরন 

 কিবুৎজ পরিচালকরা নতুন যুগের সাথে তাল মেলাতে নানা বদল আনে। শিক্ষা স্বাস্থ্য পরিষেবা  প্রাইভেটাইজড হয়। ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে আর বাধা রইলনা। সম্পুর্ণ ব্যক্তি স্বাধীনতা স্বীকৃত হয়।শিশুরা শিশু নিবাসের বদলে পিতামাতার কাছেই থাকতে শুরু করে। আবাসন ব্যক্তিগতকরন হয়। চাষের ক্ষেতে বিদেশের শ্রমিক নিয়োগ হয়। বেতনের পার্থক্য তৈরী হয়। সব থেকে বড় বদল হয় অর্থনীতিতে। মাত্র ১০% কৃষি বাকিটা শিল্প। কিছুটা হোটেল, শপিং মল ইত্যাদি পরিষেবা। প্লাস্টিক ডিফেন্স ডায়মন্ড সফটওয়্যার নানা দিকে বিস্তৃত শিল্প। মুক্তবাজার অর্থনীতিতে সফল ভাবে নতূন ভাবে এগিয়ে চলে কিবুৎজ। ইস্রায়েল নিত্যনতুন স্টার্ট আপ আর হাইটেকের দেশ। কিবুৎজগুলিও তাতে পিছিয়ে নেই। নতুন যুগের কিবুৎজে আবার আগ্রহী সদস্যরা আসতে থাকে।কিবুৎজের সংখ্যাও আবার বাড়তে থাকে।যৌথজীবনের আকর্ষনে শহরেও গড়ে উঠছে আরবান কিবুৎজ। কোন নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক মতবাদে আবদ্ধ থাকা নয় বরং আধুনিক পৃথিবীর চ্যালেঞ্জকে স্বীকার করে যৌথভাবে সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য জীবনসংগ্রাম হল কিবুৎজ!আমরা কি শিক্ষা নিতে পারি ?

বাঙ্গালী হিন্দু ও হিব্রুদের অত্যাচারের ইতিহাস সমান্তরাল। একদা শিল্প সাহিত্য অর্থনীতিতে উন্নত বাঙ্গালী হিন্দু আজ ধ্বংসের প্রান্তে। আজ তার নেই কোন আর্থিক সামর্থ্য ব্যবসায়িক প্রতিপত্তি। প্রতিদিনের আক্রমনের সামনে সমাজের প্রতিরোধ শক্তি নেই। সমাজ অসংগঠিত তাই রাজনীতিও দিশাহীন। বর্তমান যা পরিস্থিতি আগামী কয়েক দশকের মধ্যে পতন ঘটতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গের। এমন সংকট পূর্ণ সময়ে প্রয়োজন অর্থনীতি সমাজ ও রাজনীতির সমন্বয় করে একটি শক্তি কেন্দ্র স্থাপন যা সমগ্র বাঙ্গালী হিন্দুকে সংগঠিত করে আর্থিক সামাজিক ও রাজনৈতিক ভাবে সবল করে তুলবে। এক্ষেত্রে বাংলার বুকে বাঙ্গালী সংস্কৃতির ভিত্তিতে কিবুৎজ আন্দোলন গড়ার কথা ভাবা চলে না কি! কৃষি, মৎস্যচাষ, পশুপালন ও শিল্পের একটি যৌথ প্রয়াস। সাথে সাথে নতূন এন্টারপ্রিউনারশিপ। বাঙ্গালী হিন্দুকে সংগঠিত ও প্রশিক্ষিত করতে সামাজিক সাংস্কৃতিক আন্দোলন।ইস্রায়েলের সহায়তায় বাঙ্গালী হিন্দুর গননিরাপত্তা বাহিনী গঠন।দার্জিলিং, মুর্শিদাবাদের মত যেসব জায়গায় বাঙ্গালী হিন্দুর অস্তিত্ব বিপন্ন সেখানে যৌথবসতি করে প্রতিরোধ গড়ে তোলা। বাঙ্গালী হিন্দু গনহত্যার ইতিহাসকে ইস্রায়েলের মতই গবেষনা সংরক্ষন ও প্রদর্শন। একটি সদা সংগ্রামশীল জাতির অভিজ্ঞতা নিয়ে বাংলা ও বাঙ্গালীকে রক্ষার শেষ সংগ্রাম! (সমাপ্ত)

We are not big media organisation. Your support is what keeps us moving. Don't hesitate to contribute because, work, for society needs society's support. Jai Hind.